সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

উচ্চ ও নিম্ন আদালতে মামলার পাহাড়, বিচারাধীন প্রায় ৩৬ লাখ মামলা

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-১০-২০১৯ ইং
উচ্চ ও নিম্ন আদালতে মামলার পাহাড়, বিচারাধীন প্রায় ৩৬ লাখ মামলা
সমীকরণ প্রতিবেদন: দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বাড়ছেই। দেশের আদালতগুলোতে এখন বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ লাখে। অপর দিকে দেশের উচ্চ আদালতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির প্রতিকার চেয়ে বা মৌলিক অধিকার চেয়ে আবেদন এবং জনস্বার্থে রিট আবেদনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি দেশের উচ্চ আদালত জনস্বার্থে বেশ কিছু আলোচিত আদেশ দিয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বা নিহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, ডেঙ্গু ও এডিস মশা নির্মূল, নিম্ন মানের ক্ষতিকারক পণ্যের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ, গণপিটুনির ঘটনায় আদেশ, গাড়ি রিকুইজিশন নিয়ে আদেশ, পাস্তুরিত দুধে এন্টিবায়োটিক পাওয়া নিয়ে আদেশ, ফিটনেস বিহীন গাড়ি নিয়ে আদেশ, নদ-নদী রক্ষায় আদেশ, সিজারে প্রসূতির মৃত্যু নিয়ে আদেশসহ জনস্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন। অন্য দিকে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রধান বিচারপতি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এতে উচ্চ ও নিম্ন আদালতের মামলার নিষ্পত্তি অনেক বেড়ে গেছে এবং গতিশীলতা এসেছে বলে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৩টি। যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২১,৪১০টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬২টি মামলা বিচারাধীন। আর নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ২৯১টি। আর এ সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে ২ হাজার ৬১৩টি মামলা। হাইকোর্টে নিষ্পতি হয়েছে ৪৫ হাজার ২৩৮ টি এবং সারা দেশের নিম্ন আদালতগুলোতে নিষ্পত্তি হয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৭৩টি মামলা। অপর দিকে, সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৩৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫০টি। যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২০ হাজার ৪৪২টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৬৫২টি। আর নিম্ন আদালতে এ সময়ের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৬টি। সুপ্রিম কোর্টের হিসাব অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৬ হাজার ৬৯৫টি এবং এ সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে ৪৯ হাজার ৩৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আর এই এক বছরে নি¤œ আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৩৫টি মামলা। অপর দিকে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রিট আবেদনের সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার ৯০৬টি। গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে ৩,৭৬৫টি এবং নিষ্পত্তি হয়েছে ২ হাজার ৫২৪টি। আর ১ এপ্রিলের আগে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রিট আবেদনের সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৬৬৫টি। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে ১ হাজার ২৪১টি রিট আবেদন বৃদ্ধি পেয়েছে। অপর দিকে, সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচারাধীন রিট আবেদনের সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার ৪৪৪টি। আর ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে রিট আবেদন দায়ের হয় ১৭ হাজার ২১৪টি। আর এ সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১২ হাজার ৫৬০টি। আর ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারির আগে বিচারাধীন রিট আবেদনের সংখ্যা ছিল ৭৬ হাজার ৭৭০টি। দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আদালতগুলোতে এখন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। এই ক্ষেত্রে আমি মনে করি, বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং আইনকে যুগোপযোগী করতে হবে। আর আদালতের বাইরে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আরো বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, মহিউদ্দিন ফারুকের মামলার রায়ের পর এখন জনস্বার্থের মামলাগুলো বেশি হচ্ছে। কারো হৃদয়ে যদি রক্তক্ষরণ হয়, সংবিধান অনুযায়ী তিনি আদালতে আসতে পারেন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো: সাইফুর রহমান বলেন, উচ্চ আদালতে মাননীয় প্রধান বিচারপতি আমাদের যে পুরনো ফৌজদারি মামলাগুলো আছে, ফৌজদারি মিস সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য তিনি ১৫টি বেঞ্চ করে দিয়েছেন। এ বছর আমরা প্রায় ৮০ হাজারের মতো মামলা নিষ্পত্তি করেছি, যেটা আমাদের বড় ধরনের সাফল্য। এ ছাড়া আমাদের ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তির জন্য উনি একটি বেঞ্চ বৃদ্ধি করেছেন। আগে দু’টি ছিল এখন তিনটি হয়েছে। আমরা আরো বিভিন্ন ধরনের মিস মামলাগুলো, যেগুলো দীর্ঘদিন থেকে পড়ে আছে, সেগুলোর একটি লিস্ট করছি, তথ্যপ্রযুক্তি শাখা সেই কাজে নিয়োজিত আছে। সেগুলো লিস্ট করা ও মামলার নথিগুলো সটআউট সম্পন্ন হলে আমরা প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করব। আশাকরি এ ব্যাপারে নির্দেশনা আসবে, সেটা আপনা দেখবেন। সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতে আইসিটি ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের বেইল কনফারমেশন অনলাইন সফটওয়্যারে আসছে। আমরা দ্রুত বিচারিকসেবা, যেটা কোর্টের প্রশাসন থেকে দেয়া হয়, সেই সেবা দেয়ার বিষয়ে আমরা বিচারপ্রার্থী জনগণ যাতে বিচারিকসেবা দ্রুত পান সেজন্য তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অনেকটা বাড়িয়েছি। আমরা ক্রিমিনাল মিস বিভিন্ন সেকশন থেকে অর্ডারগুলো একটা সফটওয়্যারের মাধ্যমে আইটি শাখায় রেকর্ড রুমে পাঠাচ্ছি। এতে রেকর্ড বহন করে নিয়ে যাওয়া সেটাও দরকার নেই এবং ওই সফটওয়্যারের অর্ডারটা দুইবার টাইপ করতে হচ্ছে না। নি¤œ আদালতে বিচারিক কর্মঘণ্টা পূর্ণ ব্যবহারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে এবং পূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধান বিচারপতির অনুমোদন ক্রমে একটি সারকুলার ইস্যু করা হয়েছে। এতে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নি¤œ আদালতের বিচারকদের এজলাশে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে আমাদের নি¤œ আদালতের মামলার নিষ্পত্তি অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে কোনো এলাকায় কেস বেশি হলে মনিটর করা হচ্ছে কেন কেসটা নিষ্পতি কম হচ্ছে। আমাদের গতিশীলতা এসেছে, মামলার নিষ্পত্তির হার বেড়েছে এবং ইনশাআল্লাহ এটা চলমান থাকবে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড