মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বাল্য বিয়ে কোন সমাধানের পথ নয়; সামাজিক সচেতনতা হোক অন্তরায়

  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০৩-২০১৮ ইং
বাল্য বিয়ে কোন সমাধানের পথ নয়; সামাজিক সচেতনতা হোক অন্তরায়
চুয়াডাঙ্গায় বাল্য বিবাহের শিকার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় নিজস্ব প্রতিবেদক: জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ না হওয়ার আগে ও মাধ্যমিক স্তর শেষ না হতেই তাদের বাল্য বিবাহ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংসার জীবনে বছর পার না হতেই বাল্য বিবাহের শিকার ওই সকল কোমলমতি স্কুল ছাত্রীদের অধিকাংশরই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে ও বাল্য বিবাহ বন্ধে করণীয় নিয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহা. জসীম উদ্দীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এটি একেবারে প্রতিরোধ করা প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক ভাবে সচেতন নাগরিকরা যদি আর একটু আন্তরিক হয় তা হলে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ অনেকাংশে সম্ভব। বাল্য বিবাহের ফলে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে অনেককেই। আর এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য সামজিক দায়বদ্ধতার স্থান থেকে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা মূলক পরামর্শ দেন প্রধান অতিথি। অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অস্বচ্ছলতার কারণে মেয়েদের পড়াশোনা না করিয়ে বাল্য বিবাহ দিয়েছেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। এরজন্য দায়ী আপনি (অভিভাবক) ও অসাধু কাজী। কারণ বিবেচনা করলে দেখা যায়- দরিদ্রতা ও বোঝা মনে করা। এর থেকেও ভয়াবহ কারণ ইভটিজিং তথা নিরাপত্তার অভাব। চুয়াডাঙ্গায় স্কুল কলেজগামী ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন কঠোর ভাবে নজরদারি করছে। এরপরেও ধৃষ্টতা দেখিয়ে কিছু অসাধু কাজী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাল্য বিবাহ দেয়া হচ্ছে; আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সকলকে বাল্য বিবাহ বন্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক অবক্ষয়। যা রোধে এখনি আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। বিয়ে দিলেই মেয়ের প্রতি আপনার আমার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সে সংসার জীবনে কেমন থাকবে, তার ভবিষ্যৎ’র কথাও মাথায় রাখতে হবে। বাল্য বিবাহের কারণে ওই মেয়ের শারিরীক সমস্যা দেখা দেয়। এরপর বাল্য বয়সে সংসার জীবনে নিজের অবস্থান বুঝতে না পারায় পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়; যা এক সময় বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাড়ায়। মনে রাখবেন বাল্য বিয়ে কোন সমাধানের পথ নয়। সামাজিক ভাবে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে হবে। তবেই পরিবার ও সমাজ সুন্দর হবে।’ এ সময় তাদেরকে বাল্য বিবাহের কুফল সম্পর্কে সার্বিক ধারণ, আইন কানুন ও শাস্তি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। নেজারত ডেপুটি কালেক্টর সুচিত্র রঞ্জন দাসের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার পাপিয়া আক্তার, সহকারী কমিশনার সিব্বির আহম্মেদ, সহকারী কমিশনার ¯িœগ্ধা দাস, সহকারী কমিশনার ইফফাত আরা জামান উর্মীসহ বাল্য বিবাহের শিকার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ। নিউজ-২


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী