সোমবার, ১০ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৬তম তিরোধান দিবস আজ

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-১০-২০১৬ ইং
বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৬তম তিরোধান দিবস আজ

`Lalon`আলমডাঙ্গা অফিস: আজ ১৬ অক্টোবর রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৬তম তিরোধান দিবস। এ উপলক্ষে ৩ দিনের উৎসব ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে কুষ্টিয়া শহরতলীর ছেঁউড়িয়ায় কালিগঙ্গা নদীর তীরে লালন সাঁই’র আখড়া বাড়িতে এখন সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। ইতিমধ্যে এ উৎসবের সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে আয়োজকরা। আঁখড়াবাড়ীর চত্ত্বরে বিভিন্ন ধরণের ফকির বাউলদের আস্তানা বসেছে। গ্রামীণ মেলা ও রাতভর লালন সংগীতের আয়োজন করতে প্রস্তুতি প্রায় শেষ। বাংলা ১২৯৭ সালের পহেলা কার্তিক বাউল সাধক লালন সাঁই দেহ ত্যাগ করেন। সে হিসেব অনুযায়ী এবার অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে লালন সাঁইর ১২৬ তম তিরোধান দিবস। লালনের অনুসারীরা প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়িতে নানা সাধু সেবা, সংগীতের আসরসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ দিনটি পালন করে আসছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবারও আয়োজন করা হয়েছে ৩ দিনের অনুষ্ঠান। বিশাল এ আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষের পথে। উৎসবে যোগ দিতে এরই মধ্যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন সাধু-গুরু বাউল, ভক্তরা। ছোট দলে ভাগ হয়ে দরদ ভরা গলায় গেয়ে চলেছেন লালনের গান। দেহে প্রাণ আছে যতক্ষণ ততক্ষণ তার ধামে আসা, যার বাণী শুনলে জীবন-সুন্দর শুদ্ধ হয়, সৎ হয়। তাই উৎসব শুরুর কদিন আগেই ছুটে আসেন লালন ভক্তরা। লালন ভক্ত অনুসারীরা জানান, লালনের গানের ভাষায় পাগল হয়েছেন, মুগ্ধ হয়েছেন মানবতার বাণীতে ভক্তরা। তাই দীর্ঘকাল থেকে এখানে আসা যাওয়া। ফকির লালন সাইজী যে গুরুবাদী ধর্মের কথা বলেছেন তার গুরুবাদীর কথা সত্য, মানবসত্য। যে হিসাবে আমি বিশ্বাস করি প্রত্যেকটি পরিবারের যদি একজন করে মানুষ গুরুআশ্রিত হয় তাহলে আমাদের মধ্যে রিপুর তাড়না আছে যে রাগ হিংসা ঘৃণা যার দ্বারা আমরা প্রতিনিয়ত তাড়িত হচ্ছি নিজের বিবেক মূল্যবোধকে ধবংস করছি তার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমরা এই লালন ধামে আসি খুশিতে। এখানে আসলে আমরা শান্তি পাই। একারনেই এখানে আমরা বারবার ছুটে আসি। কুরআন দলিল দেখে ফকির লালন যেটা বলেছিলেন আমরা সেটা মেনেই আমাদের জীবনযাপন করার চেষ্টা করি। আগত দর্শনার্থীরা জানান, একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাধক ছিলেন বাউল লালন। লালনের ভ’মির মানুষ হয়ে নিজেদের গর্ববোধ করেন। তাই লালনের গানকে জানতে, বুঝতে, দেকভাল করতে বুঝতে বাউলদের মত আগে-ভাগে আমরাও ছুটে আসি মাজারে। এদিকে লালন তিরোধান দিবস উপলক্ষে উৎসব অঙ্গনে চলছে গ্রামীণ মেলার প্রস্তুতি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসেছেন দোকানীরা। প্রতিবছর মেলা ৫ দিন হলেও এবার ৩ দিন হওয়ায় কিছুটা চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। লালন মাজারের প্রধান খাদেম মোহাম্মদ আলী ক্রাইম প্রতিদিনকে জানান, সাঁইজীর কালাম পাঠ হবে কাল থেকে। আর ১৮ তারিখ দুপুরে বাউলদের পূর্ণসেবায় শেষ হবে উৎসব। আয়োজক কমিটির সদস্য সেলিম হক জানান, আয়োজন সফল করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও শেষ মুহুর্তে যেন কোন ফাঁক-ফোকর না থাকে তা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন লালন একাডেমীর কর্মকর্তারা। বাউলদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও সুনিশ্চিত করা হয়েছে। লালন অনুসারিরা মনে করেন লালনের প্রকৃত আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন গুতানুগতিক আয়োজন থেকে ভিন্ন ধারার আয়োজনের। তার মধ্যেই সাধক লালনের অহিংসার বাণী বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে পারলেই কেবল সার্থক হবে এসব আয়োজন।



কমেন্ট বক্স
notebook

গাংনীর বেতবাড়িয়ায় পরিত্যক্ত জমিতে একাধিক মাইনসদৃশ বস্তুর সন্ধান, ঘিরে রেখেছে পুলিশ