সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দামুড়হুদার জুড়ানপুরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা : শ্বশুর-শাশুড়ি ও সতিন গ্রেফতার

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০২-২০১৮ ইং
দামুড়হুদার জুড়ানপুরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা : শ্বশুর-শাশুড়ি ও সতিন গ্রেফতার
দামুড়হুদা/ভালাইপুর প্রতিনিধি: দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামে আরজিনা বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের ছেলে ইমন আলী ওই অভিযোগ করেন। শনিবার গভীর রাতে এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। রোববার সকাল ১০ টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। প্রথমে আত্মহত্যা বলে প্রচার করলেও পরে অবশ্য হত্যার বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মওলা বক্স বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই হত্যার সাথে জড়িত এজাহারনামীয় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হল- নিহত গৃহবধুর শ্বশুর সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক, শ্বাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন ও সতিন মনোয়ারা বেগম। এদিকে, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী হাসাদুল ওরফে হাসাদ আলী পলাতক রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জুড়ানপুর গ্রামের হাসাদুলের সাথে প্রায় ২০ বছর আগে কুষ্টিয়ার হালসা সাকধারচর গ্রামের বিল্লাল মন্ডল ওরফে ওমর আলীর মেয়ে নিহত আরজিনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের ইমন আলী নামে এক ছেলে রয়েছে। সে এবারের এসএসসি পরিক্ষার্থী। বেশ ভাল মতই চলছিল তাদের সংসার। ইতিমধ্যে হাসাদ আলী ওরফে হাসাদুল যশোর কোতয়ালী থানার বাহাদুরপুরের শাজাহান খান শেখের মেয়ে মনোয়ারা খাতুনের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে করে। তার কোল জুড়ে আসে দুই মেয়ে সূচি (৮) আর সুমাইয়া (৫)। হাসাদুল দীর্ঘদিন যাবত ১ম স্ত্রী আরজিনার খোজ খবর না নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী মনোয়ারা খাতুনের সাথে যশোরে বসবাস করতে থাকে। গত মঙ্গলবার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে জুড়ানপুরে এসেই হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। গত শনিবার রাতে সবাই মিলে খাওয়া শেষ করে ঘুমাতে গেলেই বাস্তব হয় ওই পরিকল্পনা। শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গোসলখানার পাশে একটি কুলগাছের সাথে লাশ ঝুলিয়ে দেয়। তারপর আত্মহত্যা বলে চালানোর অভিনয় শুরু হয়। নিজেরাই চিতকার করে লোকজন জড়ো করে। তারপর লাশের দড়ি কেটে দিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক স্বামী। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হাসাদুল দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে সংসারে শুরু হয় অশান্তি। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে গত মঙ্গলবার গ্রামের বাড়িতে আসে হাসাদুল। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী আরজিনা বেগমের সাথে হাসাদুলের পরিবারের বিবাদ সৃষ্টি হয়। শনিবার দিনগত রাতে একই কারণে তাদের মধ্যে বাকবিতান্ডা হয়। `` নিহতের ছেলে ইমনের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পর বাবা হাসাদুল, দাদা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক, দাদি মনোয়ারা ও সৎ মা মনোয়ারা তার মায়ের উপর অত্যাচার শুরু করে। শনিবার গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে তারা আমার মা আরজিনা খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাড়ির উঠানের একটি কুলগাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে তার বাবাসহ পরিবারের লোকজন। ঘটনার পর থেকে তার বাবা হাসাদুল পলাতক রয়েছে। `` এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে রোববার সকাল ১০টার দিকে আরজিনা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মওলা বক্স বাদী হয়ে হাসাদুলসহ ৪ জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে অভিযান চালিয়ে নিহত আরজিনার শ্বশুর সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক, শ্বাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন ও সতিন মনোয়ারা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাসাদুল পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী