সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গায় তাফ্সিরুল কুরআন মাহফিলে মাও. আমির হামজাকে ওয়াজ করতে না দেয়ায় উত্তেজনা

  • আপলোড তারিখঃ ০৮-১২-২০১৭ ইং
আলমডাঙ্গায় তাফ্সিরুল কুরআন মাহফিলে মাও. আমির হামজাকে ওয়াজ করতে না দেয়ায় উত্তেজনা
তা-ব : বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা ও দোকানপাঠ ভাঙচুর : শহরজুড়ে আতঙ্ক আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী তাফ্সিরুল কুরআন মাহফিলে মাও. আমির হামজাকে বক্তব্য দিতে না দেয়ায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সভাস্থল। গতকাল বৃহস্পতিবার মাহফিলের ২য় দিনে ওয়াজ করার কথা ছিলো মাওলানা আমির হামজার। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মঞ্চে উঠে ওয়াজ শুরু করলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সভাস্থলসহ আশপাশ এলাকা। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত মাহফিল শেষ করার জন্য বলে পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যে ওয়াজ শেষ হওয়ার পর উশৃঙ্খল হয়ে ওঠে স্থানীয় একটি দল। তারা এলাকার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। গতরাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। যেকোন ধরণের নাশকতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ বলেছে, মাওলানা আমির হামজাকে ওয়াজ করার না করার শর্তে তাফ্সিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হয়েছিলো। জানা যায়, আলমডাঙ্গার আনন্দধাম পল্লি বিদ্যুত জেনাল অফিসের পিছনে পুরাতন বাজার জামে মসজিদের দক্সিণ পাশে তিন দিনব্যাপী তাফ্সিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। গত বুধবার শুরু হয়ে আজ শুক্রবার ছিলো মাহফিলের শেষ দিন। প্রথম দিন ওয়াজ করেন হযরত মাওলানা একরামুল হক ও হযরত মাওলানা আসাদুজ্জামান মিল্টন। গতকাল দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি মো. আমির হামজা ও বিশেষ অতিথি ছিলেন হযরত মাওলানা মো. হুসাইন আহমাদ মাহফুজ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মাহফিলের প্রধান অতিথি আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি মো. আমির হামজা মঞ্চে উঠে ওয়াজ শুরু করলে উপস্থিত ও স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত মাহফিল শেষ করার জন্য বলে পুলিশ। এ সময় মাওলানা আমির হামজা ওয়াজ না করেই মঞ্চ থেকে নেমে পড়েন এবং মাহফিরের সমাপ্তি ঘোষণা করলে উত্তেজিত হয়ে ওঠে একটি দল। বিভিন্নভাবে উষ্কানি দেয়ায় উত্তেজিতরা বিভিন্ন যায়গায় হামলা চালায়। আলমডাঙ্গা সত্য নারায়ন মন্দিরে হামলা করে মন্দিরের সামনে সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। মন্দিরের ভেতর ঢোকার সময় হামলাকারীদের কারো পা কেটে প্রচুর রক্তক্ষরণও হয়। তারা মন্দিরের পাশে হারান হোটেল, চায়ের দোকান ভাংচুর করে। এখান থেকে তারা আল তায়েবা মোড়ে সিসি ক্যামেরা ও দোকান ঘরে ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা। এরপর বড় মসজিদের কাছে সানমুন টেলিকমের সামনে সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর ও ফাতেমা টাওয়ারের পাশে সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে তারা। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়। পরে চুয়াডাঙ্গা থেকে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, সহকারি পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) আহসান হাবিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একইসাথে চুয়াডাঙ্গা থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় যেকোন ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমন করতে আলমডাঙ্গা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিম সুপার তরিকুল ইসলাম। এদিকে, এ ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আলমডাঙ্গা থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, মাওলানা আমির হামজাকে ওয়াজ করতে না দেয়ার শর্তে এই তাফ্সিরুল কুরআন মাহফিলের অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু কমিটির লোকজন শর্ত ভঙ্গ করেছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ মাঠে আছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী