দর্শনা থানার চণ্ডীপুর ও বুইচিতলা মৌজায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পৈতৃক ও কেনা জমির মালিকানা, দখল এবং ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় আদালতে একাধিক মামলা ও দর্শনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী আশিনুর রহমান।
লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯ নম্বর চণ্ডীপুর মৌজার এসএ ২৪৯ নম্বর খতিয়ানের ১৯৬৫ নম্বর দাগে ৬৩ শতক জমি আশিনুর রহমানের দাদা জাবেদ আলীর নামে এসএ রেকর্ডভুক্ত ছিল। পরে আরএস ৭৮১ নম্বর খতিয়ানে জমিটি আশিনুর রহমানের বাবা মো. বজলুর রহমান ও বড় চাচা সামসুর রহমানের নামে রেকর্ড হয়। ১৯৮৬ সালের ৬ জানুয়ারি ১৮/৮৬ নম্বর দলিলে বজলুর রহমান তাঁর ভাই সামসুর রহমানের কাছ থেকে ৩১ দশমিক ৫ শতক জমি কিনে ভোগদখল করছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আশিনুর রহমানের ভাষ্য, তাঁর বাবা বজলুর রহমানের মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটের কারণে তিনি, তাঁর বোন বিলকিস খাতুন ও মা জাহানারা বেগম পর্যায়ক্রমে ওমর ফারুকের কাছে জমি বিক্রি করেন। ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর আশিনুর রহমান আরএস ৭৮১ নম্বর খতিয়ানের ২৩১৭ ও ২৩১৮ নম্বর দাগ থেকে ০.৫৩৪ শতক জমি বিক্রি করেন। ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তাঁর বোন বিলকিস খাতুন বুইচিতলা মৌজার জমি-সংক্রান্ত চুক্তির পর চণ্ডীপুর মৌজার ওই দুই দাগ থেকে ০.০২৬৭ শতক জমি বিক্রি করেন। একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁদের মা জাহানারা বেগম বুইচিতলা মৌজার ৯৫৯ নম্বর খতিয়ানের ১২৫৯ নম্বর দাগ এবং চণ্ডীপুর মৌজার ২৩১৭ ও ২৩১৮ নম্বর দাগ থেকে ০.০৩০৬ শতক জমি বিক্রি করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুই দাগ থেকে মোট ১১.০৬ শতক জমি ওমর ফারুকের কাছে বিক্রি করা হয়। জমিটির পশ্চিম অংশের দখল পেয়ে তিনি প্রায় নয় বছর ধরে সেখানে চাষাবাদ করে আসছেন।
আশিনুর রহমান আরও জানান, পরবর্তী সময়ে পারিবারিক বণ্টননামা ও নামজারি-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে রাস্তার পাশে মিজানুরের ৬.৬০ শতক ও তাঁর নিজের ৩.৩০ শতক—মোট ৯.৯০ শতক জমি মোছা. নাজমুন নাহারের কাছে বিক্রি করা হয়। জমিটির বর্তমান খতিয়ান নম্বর ১৭১৮, হোল্ডিং নম্বর ২১৮৫ এবং নামজারি আবেদন নম্বর ৬১২৪৫৩৯ বলে তিনি উল্লেখ করেন। নাজমুন নাহার সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করতে গেলে ওমর ফারুক বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল ওমর ফারুকের ছেলে আবু হানিফা চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা নম্বর পি-২৮২/২৬ দায়ের করেন। আশিনুর রহমানের দাবি, ওই মামলায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন তাঁর পক্ষের অনুকূলে আসার পর বাদীপক্ষ আদালতে নারাজি দাখিল করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর জমিতে লিজ নেওয়া ব্যক্তি পেঁয়াজ রোপণ করতে গেলে ওমর ফারুকের নির্দেশে তাঁর পরিবারের নারী সদস্যরা—স্ত্রী ও তিন মেয়ে—বাধা দেন এবং হুমকি দেন। এ ঘটনায় আশিনুর রহমান দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ১১ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গার আদালতে ৮১৩ নম্বর পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পর ফোনে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর দর্শনা থানায় ৭১০ নম্বর সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে ওমর ফারুকের বাবা শাদুদ গাইন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন; আদালতই এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
দর্শনা অফিস