বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য পাট। একসময় দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত এই সোনালি আঁশ এখনো কৃষক, ব্যবসায়ী ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহারের কারণে পাটের বাজার নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারে পাটের দামে চাঙাভাব দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের পাটের এ দাম পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মধ্যে।
সরোজগঞ্জ বাজারে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে পাট নিয়ে আসছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়িতে করে পাট আসছে এ বাজারে। এতে বাজারের পাট বেচাকেনায় প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভালো মানের পাটের চাহিদা থাকায় কৃষকেরা আশানুরূপ দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তবে পাটের মান, রং ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দামে পার্থক্য হতে পারে।
সরোজগঞ্জের পাট ব্যবসায়ী লিওন বলেন, ‘আজকের বাজারে ভালো মানের পাট ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কেনা হচ্ছে। সরোজগঞ্জ বাজারে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি গাড়ি পাট আসছে। ভালো মানের পাটের চাহিদা থাকায় আমরাও ভালো দামে কিনতে পারছি।’ তিনি আরও জানান, বাজারে ভালো মানের পাটের সরবরাহ ও চাহিদা থাকলে বেচাকেনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষক যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি পাট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে, জালশুকা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম দুই বিঘা জমিতে উৎপাদিত পাট বিক্রি করতে সরোজগঞ্জ বাজারে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমির পাট নিয়ে বিক্রি করতে এসেছি। আজকের বাজারে ভালো দাম পেয়েছি। পাটের চাহিদা ও দাম এভাবে বজায় থাকলে আমাদের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে।’
কৃষকদের মতে, পাট চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি, পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় হয়। উৎপাদনের পর বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে এসব খরচ মিটিয়ে কৃষকের হাতে লাভের অর্থ থাকে। অন্যদিকে, বাজারদর কমে গেলে উৎপাদন খরচ তুলতেই অনেক কৃষককে হিমশিম খেতে হয়। তাই পাটের বর্তমান ভালো দাম দীর্ঘদিন বজায় থাকবে-এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
প্রতিবেদক সরোজগঞ্জ