‘আমাদের প্রতিবন্ধী হিসেবে না ভেবে সাধারণ মানুষের মতো বিবেচনা করলে আমরা খুশি হই। আমাদের দৃষ্টিহীনতা আমাদের দুর্বলতা নয়’- বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবসের আলোচনা সভায় এভাবেই নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তালহা জুবায়ের। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে সভার সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম তারিক উজ-জামান বলেন, ‘আমরা তাঁদের সাধারণ একজন মানুষের চোখেই দেখব। তাঁরা তাঁদের দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তাঁরা এসব কথা বলেন। ‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’ প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র এবং প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর যৌথ আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে স্মার্ট ও অ্যানালগ সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়।
তালহা জুবায়েরের বক্তব্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ^াস ও সমানভাবে বেঁচে থাকার আকাক্সক্ষা উঠে আসে। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিএম তারিক উজ-জামান বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের উপযোগী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁরা যেন নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভর হতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্যদিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সভা শেষে তাঁদের মধ্যে তিনটি স্মার্ট সাদাছড়ি ও পাঁচটি অ্যানালগ সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-অপারেশন) আবু সাঈদ এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হুমায়ুন কবির, বিভিন্ন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
দিবসটি পালনের মধ্যদিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি করুণা নয়, বরং সম্মান ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি তাঁদের নিরাপদ চলাচল, অধিকার প্রতিষ্ঠা, আত্মমর্যাদা রক্ষা এবং সমাজের মূলধারায় সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সমীকরণ প্রতিবেদন