আওয়াল হোসেন, দর্শনা:
দামুড়হুদা উপজেলায় হালকা শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। আর কয়েক সপ্তাহ পরই গাছে গাছে ঝুলবে মাটির হাঁড়ি। সংগ্রহ করা রস থেকে তৈরি হবে সুস্বাদু খেজুরের গুড় ও পাটালি, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র গরম ও খরার পর আবহাওয়ায় ঠান্ডার পরশ লাগতেই খেজুর গাছ প্রস্তুতের কাজে নেমেছেন উপজেলার গাছিরা। ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে তাঁদের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। শীত মৌসুমে খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক গাছি। তাই মৌসুম শুরুর আগেই গাছ প্রস্তুতের কাজে নেমেছেন তাঁরা।
গাছিরা জানান, মৌসুমের শুরুতে গাছ প্রস্তুত করতে পারলে পরে শ্রমিক সংকটে পড়তে হয় না। এ কারণে আগেভাগেই গাছ কাটার কাজ শুরু করেছেন তাঁরা। বর্তমানে একজন গাছি প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি গাছ রস সংগ্রহের উপযোগী করে প্রস্তুত করছেন। এ কাজে একজন শ্রমিককে দৈনিক ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি গাছিরাও আয়ের আশায় রয়েছেন।
দর্শনা এলাকার গাছি রহম বারি, নাজিমুদ্দীন, শামসুল ইসলাম ও মহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁরা এ বছর আগেভাগেই খেজুর গাছ প্রস্তুত করছেন। কয়েক দিন পর গাছ কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই আগে থেকেই কাজ শুরু করেছেন। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি গাছ প্রস্তুত করতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের দৈনিক ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার জানান, এ উপজেলায় এ বছর ৪৬ হাজার ৮৭৫টি খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে ১৩৭ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে গাছ প্রস্তুতের কাজ চলছে। এরপর রস সংগ্রহ করে গুড় উৎপাদন শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, দামুড়হুদা উপজেলার উৎপাদিত খেজুরের গুড়ের মান ও স্বাদ ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ উপজেলার গুড় দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। উপজেলার সবচেয়ে বড় গুড়ের হাট বসে জয়রামপুর রেলস্টেশনের পাশে। সেখানে পাইকারি ব্যবসায়ীরা গুড় কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করেন। ফলে প্রতিবছর শত শত কৃষক তাঁদের উৎপাদিত গুড় নিয়ে ওই হাটে আসেন।
দর্শনা অফিস