চাষাবাদের জন্য চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে পর্যাপ্ত সার সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ডিলারের কাছ থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, বাইরে থেকে সার কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে বেশি টাকা। এতে আসন্ন ভুট্টা চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে কৃষকেরা তাঁদের দাবি তুলে ধরেন।
কৃষক করিম বলেন, রোববার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সুবদিয়ার ছোটন নামের এক ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণের কথা জানানো হয়। খবর পেয়ে তাঁরা সার নিতে গিয়ে স্লিপ জমা দেন। তবে সেখানে জনপ্রতি মাত্র ১০ কেজি করে সার দেওয়া হচ্ছিল। এই পরিমাণ সার দিয়ে ভুট্টা চাষ করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক কৃষক বলেন, উপজেলায় প্রকৃতপক্ষে সারের সংকট রয়েছে কি না, তা জানতে তাঁরা কৃষি কর্মকর্তার কাছে এসেছেন। সংকট থাকলে সেই অনুযায়ী চাষাবাদের পরিকল্পনা করবেন। আর পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, বাইরে সার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও বেশি দাম দিতে হচ্ছে। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
কৃষক হুসাইন কবির বলেন, ডিলারের কাছে ১০৫০ টাকার সার বাইরে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ১৩৫০ টাকার সার কিনতে হচ্ছে ১৮৫০ টাকায়। এছাড়া যেখানে ২০০ বস্তা সার প্রয়োজন, সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ১০০ বস্তা। জনপ্রতি ১০ কেজি করে সার দিয়ে কৃষকদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এতে ভুট্টা চাষে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সার বিতরণে অসংগতির অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, ডিএপি সার নিতে গেলে টিএসপি পাওয়া যাচ্ছে না, আবার টিএসপি নিতে গেলে ডিএপি মিলছে না। পাশাপাশি পটাশ সারও বাধ্যতামূলকভাবে নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভুট্টা চাষের জন্য এখনই সার প্রয়োজন হলেও এক মাস পর সার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।
পদ্মবিলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে তিনজন ডিলারের মাধ্যমে যে পরিমাণ সার সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে কৃষকদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। অনেক সময় ডিলারের কাছে সার আসার এক দিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। ফলে পরদিন সার কিনতে গিয়েও অনেক কৃষক খালি হাতে ফিরে আসেন।
এ সমস্যা সমাধানে তিনটি দাবি তুলে ধরেন মফিজুল ইসলাম। দাবিগুলো হলো- পদ্মবিলা ইউনিয়নে নতুন একজন সার ডিলার নিয়োগ, সার বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে সার বিতরণের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার পরিবর্তনের দাবিও জানান তিনি। কৃষকেরা যাতে সময়মতো সার পান এবং সার সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি।
কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহানাজ বলেন, উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। কৃষকেরা যাতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে তাঁদের সচেতন করা হচ্ছে। অনেক কৃষক নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি সার ব্যবহার করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাজারে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ বা যথাযথ প্রমাণ পাওয়া গেলে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের কার্যালয়ে আসার বিষয়টি ঘেরাও বা বিক্ষোভ নয় উল্লেখ করে শারমিন শাহানাজ বলেন, তাঁরা তিনটি দাবি নিয়ে তাঁর কাছে এসেছেন। দাবিগুলো লিখিতভাবে দিতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কৃষকদের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সার বিতরণে স্বচ্ছতা এবং চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ ভোগান্তির অবসান চান সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক