বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় ‘নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে বিদেশগামী কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও কাজের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা অর্জন এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
তাঁরা বলেন, শুধু সনদ অর্জন নয়, বাস্তব কর্মদক্ষতা নিয়ে বিদেশে যেতে পারলে কর্মীদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও উপার্জন বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদানও বৃদ্ধি পাবে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সভাকক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ‘দক্ষতা নিয়ে যাব বিদেশ, রেমিট্যান্স দিয়ে গড়ব স্বদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মুছাব্বেরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল হালিম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। যে দেশে কাজ করতে যাবেন, সেই দেশের ভাষা, কাজের ধরন ও পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যেতে হবে। এতে কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা ও জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, অনেকেই শুধু একটি সনদ সংগ্রহ কিংবা বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আসেন। প্রশিক্ষণ শেষে জনশক্তি ছাড়পত্র বা ম্যানপাওয়ার সম্পন্ন করেই বিদেশে চলে যান। কিন্তু বিদেশে গিয়ে ভালোভাবে কাজ করা, নিজের অবস্থান তৈরি করা এবং উপার্জন বাড়ানোর জন্য প্রকৃত দক্ষতা অর্জন জরুরি। শুধু সনদ পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, দক্ষ কর্মী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই টিটিসিতে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোরিয়ার গভর্নরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, চুয়াডাঙ্গা থেকে যাতে পাঁচ হাজার শ্রমিক কোরিয়াতে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টায় আছি। তবে এটি পরিপূর্ণভাবে কোরিয়াতে থাকার জন্য নয়, বরং ৯ মাস কোরিয়াতে কাজ করতে হবে এবং তিন মাস দেশে অবস্থান করতে হবে, এক্ষেত্রে কোরিয়ার ভাষা জানা লাগবে না।’
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দালাল বা অননুমোদিত মধ্যস্থতাকারীর প্রলোভনে পড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে গেলে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি এবং নানা ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন কর্মীরা। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ, চুক্তিপত্র যাচাই এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করা জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কর্মীদের কাজের দক্ষতা, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশিক্ষিত কর্মীরা বিদেশে ভালো কর্মপরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি তুলনামূলক ভালো আয় করতে পারেন। এর ফলে তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে।
বক্তারা বিদেশগামীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মালিক লার্জ, সাধারণ সম্পাদক সুমন পারভেজ খান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মানিক আকবর, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক