নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয়করণ করা বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের ক্যাডার মর্যাদা না দেওয়ার দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন সরকারি কলেজের বিসিএস শিক্ষকেরা। ‘নো বিসিএস, নো ক্যাডার’ দাবিতে গতকাল রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি শেষ হবে কাল সোমবার। এদিকে, দু’দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে নয়টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ১ম দিনের পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করেছে শিক্ষকরা। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি ও বিসিএস মর্যাদা রক্ষা কমিটির চুয়াডাঙ্গার নেতৃবৃন্দের মধ্যে সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ প্রামাণিক, সহকারি অধ্যাপক ফরহাদ উদ্দীন, মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রভাষক মৌসুমী হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আতিয়ার রহমান, মো. আবুল কালাম, খন্দকার রোকনুজ্জামান, রুহুল আমীন, শফিকুল ইসলামসহ কলেজের সকল শিক্ষক কর্মসূচির প্রথম দিনের কর্মবিরতিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহন করছে। কর্মবিরতিতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি ও বিসিএস মর্যাদা রক্ষা কমিটির চুয়াডাঙ্গার নেতৃবৃন্দ তাদেও বক্তব্যে বলেন, বিসিএস পরীক্ষা না দিয়ে যদি অযোগ্যদের ক্যাডার দেওয়া হয়। তাহলে শিক্ষার মান ব্যাহত হবে। শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। আমাদের যে সময় ক্লাসে থাকার কথা ছিল, সে সময় আমরা রাজপথে এসেছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিসিএস শিক্ষকের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে সরকারি কলেজগুলোয় শিক্ষাসংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ আছে। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন সহকারি অধ্যাপক মো. মহসিন কবির।

দর্শনা অফিস জানিয়েছে, ‘শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় দর্শনা সরকারি কলেজের বিসিএস শিক্ষকরা পূর্নদিবস কর্মবিরতি পালন করেছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি দর্শনা সরকারি কলেজের আয়োজনে গতকাল রোববার সকাল থেকে দর্শনা সরকারি কলেজের সকল বিসিএস শিক্ষক এ কর্ম দিবস পালন করেছে। এ সময় শিক্ষকেরা বলেন, বিসিএস ছাড়া ক্যাডার সার্ভিস নয়। জাতীয়করনের লক্ষে ঘোষিত বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ বর্ণিত নির্দেশনা অন্তুর্ভূক্ত করে, ক্যাডার বহির্ভূত রেখে বিধিমালা জারি না করার প্রতিবাদে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করে। আসুন সোচ্চার হয় যাতে ভবিষ্যতে দেশের গুনগত শিক্ষার স্বার্থ বা দেড় হাজার শিক্ষা ক্যাডারের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দর্শনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শহিদুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ আজিজুর রহমান ও দর্শনা সরকারি কলেজের শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম সহ কলেজের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ। আজ ২৭ তারিখেও পূর্ণকর্মবিরতি পালন করা হবে বলে জানান।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, মেহেরপুরে সদ্য জাতীয়করণ হওয়া ও জাতীয়করণ হতে যাওয়া কলেজ শিক্ষকদের বিসিএস ক্যাডারের বাইরে নন ক্যাডার রাখা, শিক্ষা ক্যাডারে নব ধরণের পার্শ্বপ্রবেশ বন্ধ, ক্যাডারভূক্তির ক্ষেত্রে বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ এন ব্যত্যয় ঘটানো এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে জাতীয়করণ করা কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার-বহির্ভূত করে বিধিমালা জারির দাবিতে সারা দেশে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ডাকে কর্মবিরতি পালন করা হয়। রবিবার সকালে মেহেরপুর সরকারি কলেজ, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, মুজিবনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা কর্মবিরতি এ কর্ম বিরতী পালন করেন। এসময় সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সহযোগি অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, সহযোগি অধ্যাপক আশরাফুল আলম, মিরাজ উদ্দিন, প্রভাষক মুন্সি এ.এইচ.এম রাশেদুল হকসহ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।