রবিবার, ২৩ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গ্যাসে স্বস্তির আশা

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০৮-২০২৬ ইং
গ্যাসে স্বস্তির আশা

দেশজুড়ে রান্নার চুলা তো জ্বলছেই না, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানান শিল্প খাত ধুঁকছে গ্যাস সংকটে। গ্যাসের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে গেছে লোডশেডিংও। এরই মধ্যে আশার আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে নজরসহ বিকল্প চিন্তায় গুরুত্বারোপ করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো অনেক কম থাকায় সামগ্রিক সংকট পুরোপুরি কাটতে আরো সময় প্রয়োজন হতে পারে। এর আগে টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকটের পর ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে। তবে এলএনজির নতুন কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমতে কমতে গত বুধবার বিকেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার জাহাজ আসার পর টার্মিনালে থাকা মজুদ থেকে সরবরাহ শুরু করেছে তারা। দেশে ৯ বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ আগস্ট তারা পুরোদমে এলএনজি সরবরাহের জন্য তৈরি হয়। কিন্তু নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় পুরোনো মজুদ থেকে আংশিক সরবরাহ শুরু করে। এক্সিলারেট বন্ধের পর থেকেই সক্ষমতার বেশি সরবরাহ করে আসছে সামিট। মাঝে এলএনজি না থাকায় সামিট থেকেও সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হতো ১০৫ কোটি ঘনফুট, বাকিটা দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন করা হয়। এক মাস ধরেই এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে গড়ে সক্ষমতার অর্ধেকের মতো। শনিবার দুপুর ১২টায়ও এলএনজি সরবরাহ ছিল ৫৮ কোটি ঘনফুট। বিকেলে এটি বেড়ে ৬৮ কোটি ঘনফুট হয়। এতে মোট গ্যাস সরবরাহ হয় ২৩০ কোটি ঘনফুট। শনিবার রাতে এলএনজি বেড়ে ৭৫ কোটি ঘনফুট হলে মোট সরবরাহ হয় ২৩৭ কোটি ঘনফুট। আগামী কয়েকদিন একই হারে সরবরাহ করা হতে পারে। এতে গ্যাসের সংকট কিছুটা কাটবে। জাতীয় গ্রিডে বর্তমানে আলো জ্বেলেছে এলএনজি কার্গো। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী কার্গো নিয়ে নতুন জাহাজ এসেছে বঙ্গোপসাগরে। এটি গতকাল শনিবার ভিড়েছে কক্সবাজারের মহেশখালীর এক্সিলারেট টার্মিনালে। এতে এক্সিলারেট এনার্জির ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বা এলএনজি টার্মিনালটি তিন দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল বিকেল থেকে ফের পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। এতে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে তাতে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটতে আরো কিছুদিন লাগতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজির কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, শনিবার (গতকাল) দুপুর ২টায় চালু হওয়া এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে আপাতত ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দুই টার্মিনাল থেকে বর্তমানে মোট এলএনজি থেকে সরবরাহ হচ্ছে ৬৮.৬ কোটি ঘনফুট। রাত ১২টা নাগাদ আরো প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, রাত ১২টার মধ্যে আরো প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে গ্যাসের দৈনিক দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি এক্সিলারেট ও সামিটের দুই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ করা হলেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকছে গড়ে প্রায় ১৪০ কোটি ঘনফুট। ফলে বাসাবাড়ি, সিএনজি পাম্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সংকট এখনো কাটেনি। আগামী দিনগুলোয় নতুন এলএনজি কার্গো সময়মতো না এলে এ সংকট আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এলএনজি আমদানির সঙ্গে যুক্ত নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কম দামে এলএনজি কিনতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বেশকিছু কার্গোর ক্রয়াদেশ দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগ। এর মধ্যে আগস্টেই চারটি কার্গো আসার কথা, যার একটিও আসেনি। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা কার্গোগুলো না আসায় এলএনজি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে টার্মিনাল তৈরি থাকলেও এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে তিন দফায় দরপত্র ডেকে এ মাসের জন্য দুটি এলএনজি কার্গো পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি কার্গো শনিবার দুপুরে এসেছে। রাতেই এটি থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। পেট্রোবাংলা জানায়, টার্মিনালটিতে এলএনজি সরবরাহকারী জাহাজ রবিবার (আজ) পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই জাহাজটি পৌঁছে যাওয়ায় শনিবার টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। আরেকটি এলএনজি কার্গো ২৬-২৭ আগস্ট আসার কথা রয়েছে। এদিকে গ্যাস সংকট আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম। তিনি বলেন, আমরা বারবার বলে আসছিলাম এলএনজি আমদানিনির্ভরতা আমাদের জন্য ক্ষতিকর হবে। দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে মনোযোগ হওয়া প্রয়োজন।' তিনি বলেন, এখন আমদানিনির্ভর হওয়ার পর যদি এলএনজি আনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, সেটা খুবই আশঙ্কার বিষয়। এমনিতেই গ্যাসের জন্য সারা দেশে হাহাকার। এ অবস্থা চলতে থাকলে সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা বাড়বে। সরকারের উচিত দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা। পাশাপাশি বিকল্প চিন্তাও করতে হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় নবনিযুক্ত সরকারি আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শরীফুজ্জামানের শুভেচ্ছা বিনিময়