‘মাছে-ভাতে বাঙালি’- এই চিরচেনা প্রবাদে বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতে মাছের অবস্থান কতটা গভীর, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আর মাছের রাজা ইলিশ হলে তো কথাই নেই। বর্ষার মৌসুমে ইলিশের স্বাদ নিতে ভোজন রসিকদের আগ্রহ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গা শহরের কোর্টমোড়ে বসেছে ইলিশ মাছের জমজমাট মেলা। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই সেখানে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়। পছন্দের ইলিশ কিনতে চলে ক্রেতা-বিক্রেতার দর-কষাকষি ও দামাদামি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে আসা ইলিশ এখন চুয়াডাঙ্গার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বরিশালের মহিপুর, পটুয়াখালীর গলাচিপা, বরগুনা, পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ইলিশ আসছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকেও ইলিশ আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিক্রেতারা।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইলিশের আকার ও ওজনভেদে দামের বেশ পার্থক্য রয়েছে। বড় আকারের ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও মাঝারি ও ছোট আকারের মাছও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা। বিক্রেতা রাজিব বলেন, ‘আমার কাছে সাড়ে ৩০০ গ্রামের ওপরে ইলিশ রয়েছে। বাজারে ৬০০ গ্রাম থেকে শুরু করে দুই কেজিরও বেশি ওজনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। বরিশালের ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছ চুয়াডাঙ্গার আড়ৎ থেকে কেনা হয়েছে। তবে এগুলো মহিপুর, পাথরঘাটা, গলাচিপাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকেও ইলিশ আসে আমাদের জেলায়।
আরেক বিক্রেতা সাইফুল বলেন, ‘আমার কাছে বরগুনা ও পাথরঘাটার ইলিশ রয়েছে। সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৫০ টাকা কেজি দামের মাছ আছে। এছাড়া মাঝারি সাইজের মাছ ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।’ পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে আসা ইলিশের দাম সম্পর্কে এক বিক্রেতা বলেন, ‘গলাচিপার ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ১৫০ টাকা। মাঝারি সাইজের অর্থাৎ গুটকা সাইজের মাছ ৮০০ টাকা কেজি এবং জাটকা ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদাও মোটামুটি ভালো রয়েছে। ক্রেতারা বলছেন, মৌসুমের তুলনায় ইলিশের দাম বর্তমানে মোটামুটি ভালোই রয়েছে। তবে দাম আরও কিছুটা কমলে সাধারণ মানুষের জন্য ইলিশ কেনা সহজ হবে।
কোর্টমোড়ের ইলিশের বাজারে সন্ধ্যার পর সরেজমিনে দেখা যায়, একের পর এক ক্রেতা আসছেন এবং নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী ইলিশ কিনছেন। কেউ বড় আকারের ইলিশের দাম জানতে চাইছেন, আবার কেউ মাঝারি বা ছোট আকারের মাছের সঙ্গে দর-কষাকষি করছেন। ফলে সন্ধ্যার পর কোর্টমোড় এলাকায় তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সন্ধ্যার পর কোর্টমোড়ের এই ইলিশের বাজার যেন পরিণত হচ্ছে এক ছোট্ট ইলিশের মেলায়- যেখানে চলছে পছন্দের মাছ বাছাই, দরদাম আর ‘ইলিশের রাজা’কে ঘরে নেওয়ার প্রতিযোগিতা।
নিজস্ব প্রতিবেদক