বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গার বেলগাছীতে জমি দখল ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ১৩-০৮-২০২৬ ইং
আলমডাঙ্গার বেলগাছীতে জমি দখল ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী গ্রামে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে পাল্টা আইনি কাগজপত্র উপস্থাপন করেছেন অভিযুক্ত বাবলু রহমান, রাজু ও বিল্লাল। তাঁদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির কিছু অংশ তাঁদের ফুফুদের কাছ থেকে দলিলমূলে কিনেছিলেন তাঁদের বাবা। অন্যদিকে, অভিযোগকারী মঞ্জু রহমান ও তাঁর পরিবারের দাবি তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।


গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের কাছে দলিলের কপি ও ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র দেখান অভিযুক্ত তিনজন। তাঁরা জানান, তাঁদের ফুফু সাহারন নেছা ও বাহারন নেছা যথাক্রমে ১৯৯৯ ও ১৯৯৫ সালে নিজেদের ভাই ভেকু মালিথা ও আজিমউদ্দিন মালিথার কাছে ফারাজি জমি বিক্রি করেন। এই ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত আলাদা দুটি দলিল তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।


অভিযুক্তরা বলেন, "ফুফুদের কাছ থেকে কেনা জমি দীর্ঘদিন ধরে তফেলউদ্দিনের ছেলে মঞ্জু ও তাঁর চার বোন ভোগদখল করে আসছেন। আমরা ভূমি অফিস থেকে খতিয়ান, দাগ নম্বর ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করে নিজেদের ন্যায্য দাবি জানিয়েছি। কাগজপত্র যাচাই করলেই বোঝা যাবে যে আমরা কারও জমি দখল করতে যাইনি।"


জে. এল. ৭৮ নম্বর বেলগাছী মৌজার আরএস রেকর্ডের বরাত দিয়ে তাঁরা জানান, খতিয়ান নম্বর ২৫৯২-তে দাগ নম্বর ১১৮৯৯-এ ২৯ শতক এবং একই মৌজার খতিয়ান নম্বর ২৫৯৩-তে দাগ নম্বর ১৬১৩২, ১৬২৫২ ও ১৬৪৪১-এ যথাক্রমে ৪৮, ৫১ ও ২৩ শতক জমির মধ্যে তাঁদের কেনা অংশ রয়েছে। এ ছাড়া খতিয়ান নম্বর ২৫৯২-এর আরও ১০টি দাগে (৫৪৭০, ৫৪৯০, ১২০৮৯, ১২১৭২, ১২১৭৩, ১১৮৯৯, ১২৫৩০, ১৬২৫৯, ১৬৩১৩ ও ১৬৪১০) তাঁদের ক্রয়কৃত জমি থাকলেও সেগুলো মঞ্জু ও তাঁর পরিবার ভোগ করছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।


এ প্রসঙ্গে ভেকু মালিথার ছেলে রাজু এবং আজিমউদ্দিন মালিথার ছেলে বাবলু ও বিল্লাল বলেন, "আমরা বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে নিজেদের অধিকার চাইতে গেলে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ভূমি রেকর্ড ও দলিল যাচাই করে সুষ্ঠু নিষ্পত্তির দাবি জানাচ্ছি।"


এর আগে অভিযোগকারী মঞ্জু রহমান দাবি করেছিলেন, বাবলু, রাজু ও বিল্লাল তাঁর জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। তবে অভিযুক্তরা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষের দলিল, খতিয়ান ও ভূমি রেকর্ড নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করলেই প্রকৃত মালিকানা স্পষ্ট হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে।


উল্লেখ্য, ভূমি বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট দলিলের বৈধতা ও ভূমি অফিসের রেকর্ডের ওপর নির্ভর করছে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা ভূমি অফিস থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসন থেকে কোনো বার্তা না আসায় পরিস্থিতি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।



কমেন্ট বক্স
notebook

মুজিবনগরে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত