চুয়াডাঙ্গা শহরের ফেরিঘাট সড়কস্থ সত্যনারায়ণ মন্দিরের হলরুমে গত ৭ আগস্ট প্রয়াত এন.এন. সাহার পরিবারের সদস্যদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মরহুম সিদ্দিক জামাল নাণ্টুর স্ত্রী মাহমুদা হক। গত সোমবার দেওয়া এক প্রতিবাদলিপিতে মাহমুদা হক দাবি করেন, সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বিপ্লবী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চুয়াডাঙ্গাকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন। অস্থায়ী রাজধানীর প্রশাসনের কাজের জন্যে একটি রাষ্ট্রীয় সীলমোহরের প্রয়োজন হয়। সেই সময় দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনের সর্বাধিনায়ক লেঃ কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরী তৎকালীন অস্থায়ী রাজধানীর সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এবং ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের সিদ্দিক জামাল নান্টু অনেক চিন্তা-ভাবনা করে রাষ্ট্রীয় কাজের ব্যবহারের জন্যে একটি সীলমোহরটি নকশা প্রণয়ন করেন। এই সীলমোহরটি আবু ওসমান চৌধুরী ১৯৭১ সালের ৩রা এপ্রিল সকাল সাড়ে দশটায় একটি ডায়রীর পাতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সীলমোহরের ছাপ মেরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করেন।
মাহমুদা হক আরও বলেন, একজন পেশাদার ব্লক তৈরিকারীর কাজ হলো নির্দেশনা অনুযায়ী ব্লক তৈরি ও সরবরাহ করা। কোনো ব্যক্তির নির্দেশে ব্লক তৈরি করে দেওয়ার কারণে ওই ব্লকের মালিকানা তার হতে পারে না। তাই এন.এন. সাহার পরিবারের পক্ষ থেকে সীলমোহর নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত বা মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
প্রকাশিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ জানিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মাহমুদা হক। প্রতিবাদলিপিতে তিনি জানান, কথিত সীলমোহর সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ও প্রমাণাদি তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক