বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বন্যাবিধ্বস্ত জনজীবন, পাশে দাঁড়ানোর সময় এখন

  • আপলোড তারিখঃ ১৫-০৭-২০২৬ ইং
বন্যাবিধ্বস্ত জনজীবন, পাশে দাঁড়ানোর সময় এখন

বন্যায় এখনো ডুবছে নতুন নতুন এলাকা। ফের ফুঁসে উঠছে তিস্তাসহ বেশ কটি নদ-নদী। ৯ জেলায় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই এসব অঞ্চল প্লাবিত হতে পারে- বলেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। অতিভারী বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড় ধসে সোমবার পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪। সাত জেলায় পানিবন্দি দেড় লাখের বেশি পরিবার। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছয় লক্ষাধিক। অবর্ণনীয় বিড়ম্বনার শিকার হতে হলো চলতি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের। এর মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তর সাত বিভাগে আরও কদিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। যাকে এখন সম্ভাবনা না বলে, বিপৎসংকেত বলাই যুক্তিযুক্ত। আর এতে আরও কত দুর্ভোগ, ক্ষতি, মৃত্যু যে অপেক্ষা করছে, সে সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সোমবারের তথ্য অনুযায়ী হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও মৌলভীবাজারের ৫৯ উপজেলা প্লাবিত হয়। এসব অঞ্চলে বন্যার পানি কমে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে সর্বগ্রাসী ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বাসিন্দারা ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। কিন্তু ফিরেই দেখছেন ধসে পড়া দেয়াল, ভাঙা চাল, ঘরে-উঠোনে জঞ্জাল; সাপবিচ্ছুর মচ্ছব। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তাদের শুরু করতে হচ্ছে টিকে থাকার নতুন লড়াই। এসব বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন প্রধান কর্তব্য সরকারের স্থানীয় প্রশাসন, বেসরকারি সংগঠন এবং সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের। ক্ষতিগ্রস্তদের জীবনে ন্যূনতম স্বস্তি ফেরাতে ব্যাপক সহায়তা-বরাদ্দ অত্যাবশ্যক। প্রয়োজন তার সৎ ও দায়িত্বশীল বিতরণের নিশ্চয়তা। পাশাপাশি জোর প্রস্তুতি রাখা চাই পরবর্তী যেকোনো বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার। বিভিন্ন এলাকার বানভাসিদের অভিযোগ- আশ্রয়কেন্দ্রের প্রস্তুতি ছিল অপ্রতুল। পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম ও জনবল ছিল না। স্বাস্থ্যসেবার দল মাঠে নামে দেরিতে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতায় দুর্গত ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বাড়ে। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে সচেতনতা, সক্রিয়তা এবং সুসমন্বয়ের প্রত্যাশা সবার।  এদিকে খোদ রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনেরই অনেক এলাকা, পাড়ামহল্লার অলিগলি এখনো ডুবে আছে। নাগরিকরা অশেষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এর সুরাহা না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। প্রশ্ন উঠছে সিটি করপোরেশনের সক্রিয়তা, সদিচ্ছা ও সক্ষমতা নিয়ে। এ সময় অভিজ্ঞ নগর পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শ এবং দক্ষ প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে দ্রুত জলজট মুক্তির পথ খোঁজা প্রয়োজন।



কমেন্ট বক্স
notebook

আপনাদের সঙ্গে আমরা আছি : উদ্যোক্তাদের প্রধানমন্ত্রী