চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজরাহাটি জোয়ার্দার পাড়ায় কবিরাজির নামে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ও অপচিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে মো. রিপন হোসেন নামে এক ভুয়া কবিরাজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্র এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযুক্ত রিপন হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজি পেশার আড়ালে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরণের তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁকসহ নানাবিধ ক্ষতিকর ও অবৈজ্ঞানিক অপচিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে মানুষের কঙ্কাল নিয়ে কবিরাজি ও তান্ত্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক তাকে এই অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযান চলাকালীন সময় ওই ভূয়া কবিরাজের আস্তানা থেকে কবিরাজি চিকিৎসার সাথে সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ বই, ভেষজ উপাদান, কথিত ওষুধ ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপকরণের পাশাপাশি নানা আপত্তিকর সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘রিপন কবিরাজ বশ করে মানুষের বউ বের করার অপকর্মও করতেন। তিনি নানাভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে লোক ঠকান। তার কাছে অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে আমার। কিশোরী মেয়েদের বান মেরে বশ করার জঘন্যতম প্রলোভন দেখাতে তিনি বেশ পটু। এলাকার তরুণদেরকে এসবের নানা প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো এই রিপন কবিরাজ।’
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আওলিয়ার রহমান এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিমের উপস্থিতিতে পরিচালিত এই অভিযানে অভিযুক্ত রিপন হোসেনকে ভবিষ্যতে এ ধরণের অনৈতিক ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পরবর্তীতে তিনি আর কখনো এই অপচিকিৎসা চালাবেন না মর্মে একটি লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক