আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের আলোচিত ‘মেসার্স জাকির অ্যান্ড ব্রাদার্স মিক্সড এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারি’র অন্যতম স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন (হাঁস জাকির)-এর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, বেতন বন্ধ, হুমকি ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার আপন ভাই ও একই প্রতিষ্ঠানের অপর স্বত্বাধিকারী জয়নাল আবেদিন। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় কুলপালা গ্রামের ওই হ্যাচারি প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে জয়নাল আবেদিন বলেন, তারা চার ভাই যৌথভাবে দীর্ঘদিন ধরে ‘মেসার্স জাকির অ্যান্ড ব্রাদার্স মিক্সড এগ্রো ফার্ম অ্যান্ড হ্যাচারি’ পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিষ্ঠান থেকে চার ভাই নির্ধারিত বেতন গ্রহণ করতেন এবং প্রায় ১০ বছর ধরে এ নিয়ম চালু ছিল। তার দাবি, সম্প্রতি একটি পারিবারিক বিয়েকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এসময় জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং পরিবারসহ বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে তার মাসিক বেতনও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন।
জয়নাল আবেদিন আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ঈদকে সামনে রেখে বেতনের টাকা চাওয়ার জন্য তিনি বড় ভাই আব্দুল কাদেরের কাছে গেলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে কিছুক্ষণ পর জাকির হোসেন সেখানে এসে বেতনের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে গালিগালাজ করেন। পাশাপাশি তার দুই সন্তানকে মারধর এবং বাড়িতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি জানান, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আলমডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জাকির হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে তার দুই ভাইকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন এবং যৌথ মালিকানার প্রতিষ্ঠানকে নিজের একক সম্পত্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের আরেক স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাদের, জাকির হোসেনের চাচাতো ভাই আব্দুল হান্নান বাবলু, ফুফাতো ভাই আব্দুল হাকিম এবং গ্রামের মাতবর আনারুল ইসলাম। তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এ বিষয়ে জাকির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার কাছে ব্যবসার যাবতীয় সব ডকুমেন্টস আছে। সেগুলো দেখে যাচাই করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন