তালিকায় শীর্ষ সামরিক-বেসামরিক বাহিনীর
সদস্যরা শত শত কোটি টাকা পাচারে অভিযুক্ত
তৎকালীন সেনা কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের
সহায়তায় দেশ ছাড়ে ওয়ান-ইলেভেনের অভিযুক্তরা
পলাতকদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলে রেড ওয়ারেন্ট জারি ও ডিপ্লোম্যাটিক আলোচনা শুরু
ওয়ান-ইলেভেনে সেনা সমর্থিত সরকারের সত্যিকার অর্থেই প্রয়োজনীয়তা ছিল কি-না, তা নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। সম্প্রতি গ্রেফতার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে যুক্তিসঙ্গত উত্তর পেতে চলছে নানামুখী তৎপরতা। এতে কাজ না হলে দুই সেনা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনে টিএফআই বা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরই মধ্যেই তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মোতাবেক অনেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বিদেশে পলাতকদের গ্রেফতারে পুলিশের ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে 'রেড ওয়ারেন্ট' জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছে সরকার। ফলে গ্রেফতার আতঙ্কে আছে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবরা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে জানা গেছে, ২০০৭সালের ১১ জানুয়ারি ওয়ান-ইলেভেন জারি করতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট (প্রয়াত) ইয়াজ উদ্দিন আহমেদকে বাধ্য করেছিলেন ওই সময়ের (বর্তমানে সাবেক) শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। এমনকি প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিবকে অনেকটাই 'ঘাড় ধাক্কা' দিয়ে বের করে দেয়া হয়। এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হন। এরপরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবরণে গঠিত হয় সেনা নিয়ন্ত্রিত 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার'। এর আগে বঙ্গভবনে বৈঠক হয়। পরে বিমান, নৌ, পুলিশ, র্যাব, বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি)-সহ সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে সেনা সদরে বৈঠক করেন সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ। পরে উপদেষ্টাদের পদত্যাগ করতে বলা হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে যান প্রেসিডেন্ট। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে। তিনিই নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন। সূত্র বলছে, উপদেষ্টা পরিষদ থাকলেও ক্ষমতার মূলে ছিলেন তৎকালীন সেনা প্রধান মইন ইউ আহমেদ। ওই সময় দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিক, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী, সাংবাদিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নানা কারণে গ্রেফতার এবং হেনস্তা করা হয়। তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ আছে তৎকালীন ক্ষমতাধর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ওয়ান-ইলেভেন সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম পার্লামেন্ট ইলেকশন দিয়ে বিদায় নেয়। ক্ষমতায় বসে আওয়ামী লীগ।
এরপর কেটে গেছে অনেক বছর। গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার দুই নাম্বার লেনের ১৫৩ নাম্বার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার অন্যতম আসামি। মামলাগুলোর মধ্যে ছয়টি ফেনীতে এবং পাচটি ঢাকায় দায়ের হয়েছে অনেক আগেই। পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা একটি মানব পাচার মামলার অন্যতম আসামি হন তিনি। এই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২৫ মার্চ বিকালে মানব পাচার মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত সোপর্দ করে পাচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা। বিচারক মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আসামিকে পাচ দিনের রিমান্ডেই পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান জিআইজি শফিকুল ইসলাম জানান, 'আসামি ঢাকার সাভারে অবস্থিত সেনা বাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনে পটপরিবর্তনের পর পদোন্নতি পেয়ে লেফটেনান্ট জেনারেল হন। সে সময় আলোচিত গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন।' ওয়ান-ইলেভেনের জরুরি অবস্থার সময় পর্দার আড়ালে থেকে জেনারেল মাসুদই যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন, বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি দেশের শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করাতেন এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করে, সেই মামলার গ্রেফতার দেখাতেন। পুরো প্রক্রিয়ার কুশীলব ছিলেন জেনারেল মাসুদ। তার নেতৃত্বেই শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নানা সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে। প্রয়াত সাবেক প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানকেও সে সময় গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দেয়া হয়েছিল। এসবের নেপথ্যে ছিলেন এই জেনারেল মাসুদ। বন্দি অবস্থায় তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ আছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জেনারেল মাসুদ ওয়ান-ইলেভেনের সময় নানাভাবে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন জেনারেল মাসুদ। সেনা বাহিনী থেকে অবসরের পর ঢাকায় একটি ফাইভ স্টার মানের হোটেল খুলে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি শুরু করেন জনশক্তি রফতানির ব্যবসা। 'ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল' নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির এমডি (ম্যানেজিং ডিরেক্টর) তিনি। ড. ইউনূস সরকারের আমলে ২০২৫ সালের মার্চে দুদকের এক মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী-কন্যার সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও আসামি হন। মালয়শিয়ায় কর্মী পাঠাতে 'সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়' করে এক হাজার ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ১০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের আগস্টে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তার স্ত্রী ও মেয়ের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
পাচ দিনের রিমান্ডে জেনারেল শেখ মামুন খালেদ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই গত ২৬ মার্চ রাতে ঢাকার একটি বাসা থেকে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহা-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ। তাকেও পাচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেখ মামুনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগের তদন্ত চলছিল। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত করার অভিযোগ। ওয়ান-ইলেভেনে তিনিও ছিলেন প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা। গত বছরের মে মাসে শেখ মামুন খালেদ ও তার স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। ওই সময় দুদক তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল। শেখ মামুন ২০০৭থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে তিনি ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহা-পরিচালক হন।
আওয়ামী লীগের সহায়তায় দেশ ছাড়ে ওয়ান-ইলেভেনের কুচক্রীরা: তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়, নবম পার্লামেন্ট ইলেকশনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের শীর্ষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে তদন্তসহ নানা ঝামেলা এড়াতে আওয়ামী লীগের সহায়তায় নির্বাসিত জীবন বেছে নেয় ওয়ান-ইলেভেনের অধিকাংশ কুশীলব। বিদেশের অবস্থানকারীদের মধ্যে- ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও সাবেক সেনা প্রধান মইন ইউ আহমেদ স্থায়ীভাবে আমেরিকায় বসবাস করছেন। গ্রেফতার এড়াতে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দেশেই আত্মগোপনে ছিলেন। তড়িঘড়ি করে সামরিক এটাশে হয়ে আমেরিকায় চলে যান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই) পরিচালক এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত বুগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারী। তদন্তের জন্য তাকে একাধিকবার ডাকা হলেও তিনি দেশে ফেরেননি। তিনি দেশটির ডালাসে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। ওয়ান-ইলেভেনের আরেক কুশীলব অবসরপ্রাপ্ত বৃগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিন বর্তমানে দুবাই বসবাস করছেন। তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের আরেক ক্ষমতাধর কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাঈদ জোয়ার্দার দুবাই ও কানাডায় অবস্থান করছেন। তিনি কোনো দেশেই দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করেন না। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনান্ট জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীও বর্তমানে পলাতক। তিনি ওয়ান-ইলেভেনের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
পলাতকদের গ্রেফতারে রেড ওয়ারেন্ট জারি ও ডিপ্লোম্যাটিক আলোচনা শুরু: তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করতে প্রয়োজনে অভিযুক্তদের বিদেশ থেকে দেশে আনা হবে। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিআইডি, সামরিক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে কাজ চলছে। পলাতকরা যেসব দেশে আছে, সেই সবদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ চলছে। তাদের গ্রেফতার করে দেশে আনতে প্রয়োজনে পুলিশের ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড ওয়ারেন্ট ইসু করা হবে। এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে, অনেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা দেশেই আত্মগোপনে আছে। তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। অবসরপ্রাপ্ত বৃগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিনকে গ্রেফতার করে দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ বহু রাজনীতিককে নানাভাবে মানসিক-শারীরিকভাবে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের সম্পর্কে তথ্য দেয়া হয়েছে। যাতে তারা ছদ্মবেশ ধারণ করে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে। কারণ কুশীলবদের অনেকেই বিদেশে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছে। আর যারা বিদেশে অবস্থান করছে, তারা ওয়ান-ইলেভেনের সময় এবং পরে সুবিধাজনক সময়ে, বিভিন্ন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক হাতিয়ে নেয়া শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। সেই টাকায় তারা বিদেশে বসে আয়েশী জীবন যাপন করছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন