প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আটক : র্যাবের অস্বীকার : আতঙ্কে পরিবার
- আপলোড তারিখঃ
১৬-১১-২০১৭
ইং
চুয়াডাঙ্গা ইসলাপাড়ার নার্সারি মালিককে তুলে নিয়ে গেছে অস্ত্রধারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার ইসলামপাড়ায় প্রকাশ্যে দিবালোকে নজরুল (৪৫) নামের এক নার্সারি ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গেছে অজ্ঞাত ৮ অস্ত্রধারী। এময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও মারধর করে অস্ত্রধারীরা। গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে এঘটনা ঘটে। নজরুল চুয়াডাঙ্গা ইসলামপাড়ার মৃত ইসাহাকের ছেলে ও সোহাগ নার্সারির সত্ত্বাধিকারী। অস্ত্রধারীরা র্যাবের সদস্য বলে নজরুলের পরিবারের লোকজন জানালেও এ ধরনের কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ঝিনাইদহ র্যাব। এ ঘটনায় প্রথমে পুলিশ কোন অভিযোগ না নিলেও পরে অবশ্য একটি অভিযোগ গ্রহন করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, গতকাল দুপুর ১টার দিকে সোহাগ নার্সারিতে প্রথমে ১টি মোটরসাইকেলযোগে দু’জন এসে নজরুলকে বলে, আমরা ২০০টা ফুলের টপ নেবো। তার কিছুক্ষন পরে একটি মাক্রোবাসে ৬ জন অস্ত্রধারী এসে নজরুলকে জোরপূর্বক মারধোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এদের সবার কাছেই পিস্তল ছিল। এতে নজরুলের ছেলে সোহাগ, তার জামাই শাহাজালাল ও তার মেয়ে শোভা খাতুন ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও মারধর করে অস্ত্রধারীরা। পরে এলাকার লোকজন জড়ো হলে তাদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নজরুলকে ওই মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় তারা।
নজরুলের মেয়ে শোভা খাতুন বলেন, গতকাল দুপুরে একটি মোটরসাইকেলযোগে দু’জন ও একটি মাইক্রোবাসে ছয়জন অস্ত্রধারী এসে আমার বাবাকে মারধর করে তুলে নিয়ে যায়। এসময় আমরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে, আমাকে, আমার স্বামী ও আমার ভাইকেও মারধর করে। নজরুলের জামাই বলেন, আমার শ্বশুরকে যে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় সেই গাড়ির নাম্বার ঢাকা মেট্রো গ-৩৩-৩৮২৮। তিনি আরো বলেন, ঘটনার ৫ মিনিট পর একটি র্যাবের গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে এবং বিষয়টি শুনে চলে যায়।
পরিবারের সদস্যরা আরো জানান, নজরুলকে নিয়ে যাওয়ার পর গতকাল রাত ৯টার দিকে আবার র্যাবের একটি গাড়ি আসে। তারা বলে নজরুলের দুই ছেলে সোহাগ ও সোহেলকে র্যাব ক্যাম্পে যেতে হবে। আমাদের অফিসার তোমাদের সাথে কথা বলবে। তারা আরো বলে, তোমাদের মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোন গাড়িতে যাওয়া যাবেনা। প্রয়োজনে সকালে এসো, কিন্তু মোটরসাইকেল নিয়ে আসতে হবে। এ নিয়ে একালায় বিশাল আতংক বিরাজ করছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। কারা তুলে নিয়ে গেছে জানিনা। তবে এ ব্যাপারে একটি জিডি হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে র্যাব ৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি গোলাম মোর্শেদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টা জানিনা। তবে খোজ নিয়ে দেখছি। র্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মনির আহমেদ জানান, র্যাবের কোন দল চুয়াডাঙ্গা থেকে কোন নার্সারি ব্যবসায়ীকে আটক করেনি। তবে নজরুল নামের একজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আমরা তার পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেছি। ঘটনাটি জানার জন্য তাদের র্যাব ক্যাম্পে আসতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নজরুলের পরিবারের সদস্যরা বলেন, নজরুলের কাছ থেকে প্রায় এক বছর আগে রাজবাড়ি জেলার কালুরপোলের মফিজুর প্রফেসার নামের এক ব্যক্তি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার গাছের চারা নেয়। তখন ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। তার ১ বছর পরে তিনি গাছের চারা ফেরত দিতে চান। কারন তখন চারার দাম নাকি বেশি ছিল। এ সময় নজরুল চারা ফেরত নিতে না চাইলে তারপর থেকেই ওই ব্যক্তি নজরুলকে ফোনে হুমকি ধামকি দিত কালো পোষাকে তুলে নেওয়ার জন্য। সেসময় প্রফেসর মফিজুর বলেছিলেন, আমার ভাই র্যাবের অফিসার। এদিকে, এর আগেও দু’বার র্যাব এসেছিল বলেও জানায় তারা।
কমেন্ট বক্স