দামুড়হুদায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হেমায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক হারুনর রশীদ (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত হারুনর রশীদ হেমায়েতপুর গ্রামের শাহাজান আলী মালিতার ছেলে। তিনি হেমায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে একই উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের আব্দুল বারীর মেয়ের সঙ্গে হারুনর রশীদের বিয়ে হয়। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। কয়েক বছর পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের জেরে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকেই সাবেক স্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।
স্বজনদের দাবি, সোমবার কর্মস্থলে হাঁটাহাঁটি করার সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি হারুনর রশীদের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় তারা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
হারুনর রশীদের দুলাভাই নাসির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকেই মেয়ের বাবা আব্দুল বারি ও তার ভাই ফিরোজ বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিল। সপ্তাহখানেক আগেও কয়েকজন এসে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেজবাহ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একজনকে কুপিয়ে জখম করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদক দামুড়হুদা