দর্শনায় ২০ মিনিটের বিরতি : বদল হবে ইঞ্জিন, ড্রাইভার ও র্গাড
- আপলোড তারিখঃ
১৪-১১-২০১৭
ইং
মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের আড়াই ঘন্টা সময় বাচাঁতে দর্শনা ও গেদে ষ্টেশনে কাষ্টমস ইমিগ্রেশন বন্ধ
আওয়াল হোসেন/ওয়াসিম রয়েল: ঢাকা-কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেনটির যাত্রীদের আড়াই ঘন্টা সময় বাচাঁতে দর্শনা ও গেদে আর্ন্তজাতিক ষ্টেশনে কাষ্টমস ইমিগ্রেশন বন্ধ। এতে উভয় দেশের মৈত্রী ট্রেনের যাত্রীরা খুশি। দর্শনায় আর্ন্তজাতিক ষ্টেশনে ২০মিনিট অপেক্ষার পর উভয় দেশের মধ্যে ট্রেন গুলো ছেড়ে যাবে। এখানে শুধুমাত্র ইঞ্জিন, ড্রাইভার ও র্গাড বদল হবে।
১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের কারণে দু’দেশের মধ্যে সরাসরি ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২০০০ সালে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা-কলকাতার মধ্যে উদ্যোগ নিয়ে পরীক্ষামুলক ট্রেন চলাচলের প্রস্তুতি নেয়। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনরায় ভারত ও বাংলাদেশের গেদে-দর্শনা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে। গত ২০১৪ সালে ৮ এপ্র্রিল এবং বাংলা নববর্ষে ১লা বৈশাখ উভয় দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। সেই থেকে দর্শনা আর্ন্তজাতিক রেল ষ্টেশনে কাষ্টমস ইমিগ্রেশন হয়ে আসছিল। এতে করে দর্শনা ও গেদে সীমান্তবর্তী দুইটি ষ্টেশনে প্রায় ২/৩ ঘন্টা সময় বেশী লাগছিল। ফলে সময় বাচাাঁতে বাংলাদেশের ঢাকা ও ভারতের কলকাতা চিতপুর ষ্টেশনে কাষ্টমস ইমিগ্রেশন শেষে উভয় দেশের মধ্যে ট্রেনগুলো চলাচল করছে বলে জানান দর্শনা ষ্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট মীর লিয়াকত আলী।
তিনি আরো বলেন, সপ্তাহে উভয় দেশের মধ্যে ৮টি যাত্রীবাহী ট্রেন ঢাকা-কলকাতার মধ্যে চলাচল করছে। তবে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার ও শনিবার উভয় দেশের মধ্যে ২টি করে ৪টি ট্রেন চলাচল করছে। দর্শনা থেকে কাষ্টমস ইমিগ্রেশন চলে যাওয়ায় আমাদের এলাকার কোন প্রভাব পড়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না কোন সমস্যা নেই। তাছাড়া এখান থেকে কোন যাত্রী ট্রেনে উঠা নামা করতে পারত না। যার কারণে কোন সমস্যায় নেই। প্রতি সপ্তাহে ৪টি এসি ছিটের ও ৪টি চেয়ার এসি ছিটের ৮টি ট্রেন চলাচল করছে।
কাষ্টমস এ কর্মরত যারা ছিলেন তারা এখন কোথায় গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাষ্টমসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের স্ব-স্ব স্থানে চলে গেছে। এখানে কাষ্টমস’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছাড়া বাড়তি কোন লোকজন ছিলো না ফলে কোন সমস্যা নেই। শুধু মাত্র ১০/১২ জন রেল পুলিশ এখন ষ্টেশনের নিরাপত্তার জন্য থাকে।
গতদিন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনের যাত্রী ছিলো ৪৫৬ জন এবং কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনে যাত্রী ছিলো ৩৯৮ জন। ঢাকা থেকে ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে এসে ট্রেনটি দর্শনায় পৌছাঁয় বেলা ১টা ৪০ মিনিটে এবং ছেড়ে যায় বেলা ২টায়। এদিকে কলকাতা থেকে ভারতীয় সময় ৭টা ১০ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে এসে ১০টা ১০মিনিটে দর্শনা ষ্টেশনে পৌঁেছ ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ঢাকার উদ্যোশে ছেড়ে যায়। উল্লেখ্য উভয় দেশের ট্রেন যাত্রীদের সময় বাচাঁতে গত ১০ নভেম্বর দর্শনা ও গেদে ষ্টেশনে কাষ্টমস ইমিগ্রেশন বন্ধ হয়ে যায়।
কমেন্ট বক্স