ভারতীয় চোরাকারবারীদের হাতে বিজিবির সোর্স চুয়াডাঙ্গা রাজাপুরের কবীর খুন
- আপলোড তারিখঃ
১৩-১১-২০১৭
ইং
পূর্ব শত্রুতার জের : জীবননগরের ধোপাখালী সীমান্ত এলাকায় মোবাইলফোনে ডেকে নিয়ে নৃশংসতা
এম এ মামুন/জাহিদ বাবু/মিঠুন মাহমুদ: চোরাকারবারীতে বাঁধা দান ও বিজিবির সোর্স হয়ে কাজ করায় চুয়াডাঙ্গার রাজাপুর গ্রামের কবীরকে হত্যা করেছে ভারতীয় চোরাকারবারীরা। গতকাল রোববার দুপুরে মোবাইলফোনে তাকে মোবাইলফোনে ডেকে নেয় ভারতের দুই চোরাকারবারী আব্দুল মান্নান ও আলিম। পরে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ভারতের দুই চোরাকারবারী আব্দুল মান্নান ও আলিম বিজিবির সোর্স কবীরকে (৪০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুঁন করেছে বলে কবীরের স্বজনরা অভিযোগ করেছে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হত্যার শিকার কবীরের স্ত্রী মিছনা খাতুন ও স্বজন এবং এলাকাবাসীরা জানায়, গতকাল রবিবার দুপুরে কবীরের বড় ভাই রফিকুলের বড় শ্যালক ভারতের বরইপাড়ার চোরকারবারী আলিপ মন্ডলের ছেলে মান্নান (৩৫) ও তার সহযোগী একই গ্রামের রুস্তমের ছেলে আলীম পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাজাপুর গ্রামের মজিবুর রহমার মান্দার হায়দারের ছেলে বিজিবির সোর্স কবিরকে (৪০) মোবাইল ফোনে সীমান্তে দেখা করার কথা বলে। বিজিবি সোর্স কবীর মান্নান ও রুস্তমের ডাকে বেলা ২টার দিকে ধোপাখালির সীমান্তে মান্নান ও রুস্তমের সাথে দেখা করতে যায়। এসময় ভারতের অভ্যন্তর মাটিয়ারা বিএসএফ ক্যাম্পের অদুরের বরইপারার আবরদুল মান্নান ও রুস্তম কবীরের সাথে দেখা করে। তারা তিনজন বাংলাদেশের ভূখন্ডে একটি কলাবাগানে বসে গল্প করতে থাকে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কবীরের সাথে ভারতের রোচারাকারবারী আব্দুল মান্নান ও আলীমের সাথে চোরাকারবারী মালামাল বিজিবিকে দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার রেশ ধরে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মান্নান ও তার অপর সঙ্গী আলীম ধারলো অস্ত্র দিয়ে কবীরকে নৃশংসভাবে কুপাতে থাকলে কবীরের চিৎকারে মাঠের কৃষকরা কবীরকে বাঁচাতে ছুটে গেলে মান্নান ও রুস্তম ভারতে পালিয়ে যায়। মাঠের কৃষকরা কবীরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়ী আনে এরপর তাকে জীবননগর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। কিন্তু বিকাল ৪টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কবীর মারা যায়। কবীরের স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চোখ এড়িয়ে তার লাশ বাড়ি নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, কবীরের মাথা, ঘাড়, দুই হাতের কব্জিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ খবর পেয়ে গতকাল রবিবার রাতেই জীবননগর থানার এসআই নাহিরুল ইসলাম রাজাপুরে কবীরের বাড়ী যায় এবং কবীরের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনে। আজ তার লাশের ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা মর্গে পাঠানো হবে। কবীরের স্ত্রী মিছনা ও তার বড় ভাই রফিকুল ইসলাম আরো জানায়, কবীর দীর্ঘদিন ধরে জীবননগরের ধোপাখালী ও রাজাপুর সীমান্তের বিজিবি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যদের পক্ষে সোর্স হিসাবে কাজ করে আসছিল। কবীরের দেওয়া গোপন খবরের কারণে বিজিবি যেমন ভারত এবং জীবননগর এলাকার চোরাকারবারীদের মালামাল আটক করে আসছিল। এরই জের ধরে এবং চোরাকারবারীর পথ পরিস্কার রাখতে ভারতের বরইপাড়ার আলিপ মন্ডলের ছেলে ও কবীরের বড় ভাই রফিকের শ্যালক আব্দুল মান্নান ও তার প্রতিবেশী রুস্তমের ছেলে আলীম এবং রাজাপুর জীবননগর এলাকার মুখোঁশধারী চোরাকারবারীদের ইন্ধনে কবীরকে খুঁন করা হয়েছে। কবীরের স্ত্রী মিছনা ও তার স্বজনরা এই হত্যাকান্ডের সাথে জারা জড়িত তাদের উপযুক্ত শাস্তি চায়। এ বিষয়ে বিজিবি ৫৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে কোথায় কবীর খুন হয়েছে বা কবীর বিজিবির সোর্স কিনা এ ব্যাপারে তেমন তথ্য জানা নেই। তাছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ না করে কবীরের বিষয় কিছু বলা সম্ভব না। তবে এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক বলেন, রাজাপুরের মজিবর রহমান মান্দারের ছেলে কবীরকে ভারতে ডেকে নিয়ে ভারতের মান্নান ও আলীম তাকে কুপিয়ে হত্যার পর তার লাশ বাংলাদেশের ভিতরে ফেলে গিয়েছে এমন সংবাদ কবীরের স্বজনরা বলেছে। কিন্তু এ ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে ঠিক কাদের হাতে কবীর খুঁন হয়েছে এবং এই খুঁনের পিছনের কারণ কি।
কমেন্ট বক্স