সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ইতিহাসের নতুন ট্রেনে জামায়াত জোট

কর্নেল অলি, নাহিদসহ শীর্ষ নেতারা এক বগিতে, ধাপে ধাপে থাকবে আরও চমক
  • আপলোড তারিখঃ ২৯-১২-২০২৫ ইং
ইতিহাসের নতুন ট্রেনে জামায়াত জোট

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনার দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বদলে গেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ছাত্র সংসদ নির্বাচন থেকে রাজপথের আন্দোলন, প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে চমক দেখিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতার জানান দিচ্ছে দলটি। সেই ধারাবাহিকতারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে কর্নেল অলি আহমেদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), এক দফার শীর্ষ নায়ক নাহিদ ইসলামের এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ দশটি রাজনৈতিক দলকে একত্র করে গড়ে উঠেছে এক ঐতিহাসিক জোট। নেতৃত্বের আসনে থেকে এই জোটকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক অঙ্গনে এটিকে অনেকেই দেখছেন একটি ‘নির্বাচনী ট্রেন’ হিসেবে, যার ইঞ্জিনে জামায়াত, আর পেছনে সারিবদ্ধ পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন দল। এই নতুন যাত্রা কেবল একটি নির্বাচনী কৌশল নয়; বরং বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের এক বড় সংকেত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের মিশ্রণে ধাপে ধাপে এই জোটে আরও চমক আসবে বলেও জামাত জোটের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন।


গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জামায়াতের আমির। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াতের নেতৃত্বে আন্দোলনরত আটটি রাজনৈতিক দল। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ যে সংকটকাল অতিক্রম করছে, সেই বাস্তবতা থেকেই শোষণ-বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছি। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আরও দুটি দল, এলডিপি ও এনসিপিÑএই জোটে যুক্ত হলো।’ তিনি জানান, এনসিপির সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সময়স্বল্পতার কারণে তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত না থাকলেও দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরাসরি বৈঠকে অংশ নিয়ে জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। শীঘ্রই এনসিপি আলাদা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলেও জানান তিনি।


নির্বাচনি সমঝোতা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘৩০০ আসনেই সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রায় সব আসনে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। শেষ মুহূর্তে যুক্ত হওয়া দুই দলের কারণে কিছু কারিগরি বিষয় রয়েছে, যা মনোনয়ন দাখিলের পর আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ঘোষিত তারিখেই একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। তবে এখনো সবার জন্য সমতল মাঠ তৈরি হয়নি উল্লেখ করে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষতার আহ্বান জানান তিনি। ‘বিগত কয়েকটি নির্বাচনে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না,’ বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) ডা. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, নেজামে ইসলাম পার্টি বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই জোট শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, এটি রাজনৈতিক আন্দোলন ও দেশ গঠনের জোট। জাতীয় স্বার্থে ভবিষ্যতেও আমরা একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করব।’


রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রীয়াজ মনে করেন, ‘জামায়াতের নেতৃত্বে এনসিপি ও এলডিপির যুক্ত হওয়া বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এটি শুধু আসন সমঝোতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দরকষাকষির ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘যদি এই জোট মাঠপর্যায়ে ঐক্য ধরে রাখতে পারে এবং ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু হয়, তাহলে এটি নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি দৃশ্যমান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।’ অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, ‘এই জোটের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তব মাঠের রাজনীতি, জনসম্পৃক্ততা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার ওপর। ঘোষণার চেয়ে বাস্তব প্রয়োগই হবে আসল পরীক্ষা।’ সবশেষে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থে এই ঐক্য আরও দৃঢ় হবে, ইনশাআল্লাহ।’



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী