সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে হঠাৎ উত্তাপ বাড়ছে

কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরমে
  • আপলোড তারিখঃ ১৮-১২-২০২৫ ইং
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে হঠাৎ উত্তাপ বাড়ছে

কিছুদিন স্থিতিশীল থাকার পর হঠাৎ করেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে টানপোড়েন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধের ঘটনার পর ঘাতকের ভারতে পালিয়ে যাওয়া, তারপরে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব, ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর মন্তব্য এবং সর্বশেষ দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে জুলাই ঐক্যের মার্চ কর্মসূচি আগুনে ঘি ঢেলেছে। এর প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ভিসা সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে দুই দেশের এই উত্তেজনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন বানচালে মরিয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। আর তাদের এই পরিকল্পনার সঙ্গে ভারতও যুক্ত রয়েছে। তারা নির্বাচন বানচাল করতে দেশের ভেতর অস্থিরতা তৈরি করতে চায়। ফ্যাসিস্টদের এই চক্রান্ত ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলায় জোর দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।


ভারতের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কে টানাপোড়েন আছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব ‘খুব অপ্রত্যাশিত কিছু না’। তিনি বলেন, ‘সাধারণত এটা ঘটে। একজনকে ডাকলে আরেকজনকে ডাকা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘এটা বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াই ভালো যে, আসলে এই সরকারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত (সম্পর্কে) টানাপোড়েন তো আছেই ভারতের সাথে। সম্পর্কের এই টানাপোড়েন মেনে নিয়েই বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে। তবে আমরা চাইলেই যে হবে, এমন কোনো কথা নেই। দুপক্ষ থেকেই সম্পর্ককে এগোনোর চেষ্টা করতে হবে।’
গতকাল বুধবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, বাংলাদেশে ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির গভীর উদ্বেগ জানাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করা হয়। এর আগে গত রোববার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। তিন দিনের মাথায় নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করা হলো। এদিকে ‘চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির’ বিষয়টি বিবেচনায় বেলা দুইটা থেকে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়। বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসার আবেদনকেন্দ্র (আইভ্যাক) গতকাল তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশে ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লি গভীর উদ্বেগ জানাতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে। এসময় তার মনোযোগ বিশেষভাবে আকর্ষণ করা হয় ‘কিছু চরমপন্থি গোষ্ঠীর’ কর্মকাণ্ডের দিকে, যারা ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘চরমপন্থি মহল’ যে ভুয়া বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে, ভারত তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এসব ঘটনার বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেনি কিংবা ভারতের সঙ্গে অর্থবহ কোনো তথ্যপ্রমাণও বিনিময় করেনি।


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার আলোকে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন ভারতীয় মিশন ও পোস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, এমনটাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নয়াদিল্লির প্রত্যাশা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে যান। তখন থেকে তিনি ভারতেই আছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশ একাধিকবার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ভারত এখনো সাড়া দেয়নি।


ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের দ্রুত অবসান চায় ঢাকা। গত রোববার সকালে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে এই বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেদিন সকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় প্রণয় ভার্মাকে তলব করেন। এসময় ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের গভীর উদ্বেগের বিষয়টি প্রণয় ভার্মাকে জানিয়ে দেওয়া হয়। শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার দুই দিন পর ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করা হয়। ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ভারতে প্রবেশ করলে তাদের গ্রেপ্তার করে ফেরত পাঠানোরও আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।


কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা ভারতে বসে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন বানচালে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও প্রণয় ভার্মাকে বার্তা দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত রোববার তলবের সময় ভারতের হাইকমিশনারকে এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষায় বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়াবে ভারত সরকার। গত বছরের ৫ আগস্টের পর চলতি বছরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের হাইকমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে মোট ৫ বার তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


বাংলাদেশকে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর ‘হুমকি’ :
এদিকে বাংলাদেশকে কঠোর ভাষায় হুমকি দিলেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেছেন, ‘গত এক বছর ধরে বাংলাদেশের অনেকেই আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো নিয়ে নানা ধরনের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে ভুলে গেলে চলবে না, ভারত একটি বিশাল দেশ, পারমাণবিক শক্তিধর এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। বাংলাদেশ কীভাবে এমনটা ভাবতে পারে? এটা নিয়ে ভাবাও ভুল, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের চিন্তাভাবনায় সমস্যা আছে।’ গত সোমবার শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ভারত যদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারকে সম্মান না করে তাহলে বাংলাদেশ ভারতবিরোধী শক্তি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও শকুনদের হাত থেকে মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। আবারও শকুনেরা বাংলাদেশের মানচিত্রে থাবা বসানোর চেষ্টা করছে। ভারত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে ‘প্রতিরোধের আগুন’ সীমান্ত ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়বে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী