চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অনুপস্থিতি : বিড়ম্বনায় রোগী!
- আপলোড তারিখঃ
১১-১১-২০১৭
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের এক মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ডা. সোনিয়া আহমেদের হাসপাতালের জরুরী বিভাগে রুটিন মাফিক ডিউটি পড়ে। অথচ ডা. সোনিয়া প্রায় দেড় ঘন্টা পড়ে ডিউটিতে যোগ দেন। তাও আবার মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া রোগীর স্বজনদের ফোনে। এসময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন রোগী তাৎক্ষনিক চিকিৎসা না পেয়ে যেমন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তেমনী অপেক্ষামান রোগীদের চিকিৎসায় বাড়ে বিড়ম্বনাও বলে রোগীদের স্বজনেরা এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের সরিষাডাঙ্গা গ্রামের পূর্বপাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে হারুন (৩৫) তার নিজ বাড়ীতে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তার পরিবারের লোকজন সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। কিন্তু এসময় জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক না থাকায় হারুন জীবিত না মৃত সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত হতে পারছিলো না। কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. মখলেসুর রহমান এখানে উপস্থিত থাকলেও তিনি হারুনের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরমধ্যে সদর উপজেলার রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রাম থেকে বিষপান করা শাকিল নামের একজন যুবক জরুরী বিভাগে আসে। বিষপানে আত্মহত্যা চেষ্টাকারি শাকিলের প্রাথমিক চিকিৎসাতেও বাড়ে বিড়ম্বনা। সর্বশেষে এভাবে প্রায় ঘন্টা পার হলে রোগীর লোকজন ডাক্তার সোনিয়ার কাছে মোবাইল ফোন করে এছাড়া জরুরী বিভাগ থেকেও বারবার তাকে মোবাইল ফোনে জরুরী বিভাগে আসার জন্য তাগিদও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরে রুটিন মাফিক ডিউডির প্রায় দেড় ঘন্টা পরে হাসপাতালে পৌছান ডাক্তার সোনিয়া। এসময় তিনি দ্রুত হারুনের পালস পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এবং তিনি বলেন এই রোগী হাসপাতালে পৌছানোর আগে মারা গেছেন। এসময় অপেক্ষামান রোগীদের লোকেরা ডাক্তারের উপর ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেন। তাছাড়া মৃত হারুনের সাথে আসা স্বজনেরা বলেন, হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসলাম বাচাঁতে অথচ সেই ডাক্তার আসলেন দেরি করে। ঠিক সময়ে আসলে হয়তো হারুনকে বাচাঁনো যেত।
উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. মখলেছুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে কোনভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ডা. সোনিয়া আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি একটু কাজে বাইরে গিয়েছিলাম। একটি ব্লথ ডেইট এসেছে শোনা মাত্রই আমি ৩ মিনিটের ভিতরে গাড়ি নিয়ে হাসপাতালে পৌছেছি। তবে তিনি কখন ডিউটিতে এসেছেন জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, সরাসরি দেখা করতে বলেন।
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আরএমও বলেন, তার এই অনুপস্থিতির বিষয়টি আমি জানিনা। গতকালের ঘটনাটি শুনেছি কিছুটা। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।
কমেন্ট বক্স