শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে উত্তপ্ত মাঠ : সেমিফাইনালের শেষ ম্যাচে আজ মুখোমুখি সিরাজগঞ্জ-জয়পুরহাট
- আপলোড তারিখঃ
২৩-১০-২০১৭
ইং
টানটান উত্তেজনায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনাল
২-১ গোলে ভাগ্যের জয়ে ফাইনালে চুয়াডাঙ্গা : ঝিনাইদহের স্বপ্নভঙ্গ
নিজস্ব প্রতিবেদক: যদিও প্রথম সেমিফাইনাল; তারপরেও স্বাগতিকদের কাছে এটি ছিল চূড়ান্ত যুদ্ধের ন্যায়। মাঠে হাজির প্রায় সাড়ে ১২হাজার দর্শক। গতকাল রবিবার দুপুরে জেলা স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে অংশ নেয় স্বাগতিক চুয়াডাঙ্গা জেলা একাদশ ও ডিএসএ, ঝিনাইদহ। আর এই টানটান উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় ২-১ গোলে ঝিনাইদহ ডিএসএ-কে পরাজিত করে জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক চুয়াডাঙ্গা জেলা একাদশ।
খেলার প্রথমার্ধে দুই দলই ছিল কিছুটা রক্ষণাত্মক মেজাজে। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রথমার্ধের ৪ মিনিটে স্বাগতিকদের শক্তিশালী ডিফেন্সের চোখে ধুলা দিয়ে প্রথম গোলটি করে ঝিনাইদহ দলের পক্ষে ১২ নম্বর জার্সিধারী নাইজেরিয়ান তারকা ফুটবলার পেট্রিক। জবাবে গোলশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে চুয়াডাঙ্গা একাদশ। ১২ মিনিটের মাথায় বল নিয়ে আচমকা আক্রমণাত্মক হয়ে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ঢুকে পড়ে চুয়াডাঙ্গা একাদশের ১২ নম্বর জার্সিধারী সোহেল। তাকে আটকাতে ডি-বক্সের মধ্যে ফাউল করে বসে ঝিনাইদহ দলের স্ট্রাইকার কায়েস। রেফারীর সিদ্ধান্তে ভাগ্যক্রমে একটি পেনাল্টি শুট পায় স্বাগতিকরা। তবে রেফারীর এ সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত দাবি করে মাঠ ছেড়ে দেয় ঝিনাইদহ ডিএসএ’র খেলোয়াড়েরা। পরে চুয়াডাঙ্গার হয়ে পেনাল্টিতে গোল করে দলে সমতা ফেরায় ১৫ নম্বর জার্সিধারী নাইজেরিয়ান তারকা ফুটবলার ওয়ালসন। প্রথমার্ধের বাকি সময়টুকু মাঠে নিজেদের দাপট ধরে রাখলেও বেশ কয়েকটা সুযোগ হাতছাড়া করে চুয়াডাঙ্গা। বিরতিতে যাওয়ার ৬ মিনিট আগে (৩৯ মিনিটে) হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মধ্যমাঠ। অনাকাঙ্খিত কারণবশত ঝিনাইদহের হয়ে খেলতে আসা নাইজেরিয়ান ফুটবলার মরু মোহাম্মদ প্রতিপক্ষের ৪ নম্বর জার্সিধারী বিপ্পার উপর চড়াও হয়ে কিলঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এ সময় টুর্নামেন্টের দু’ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় মরুকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করলে অবস্থা আরো বেগতিক হয়ে ওঠে। শেষমেশ আক্রমণ ভাগের তুখড় এ স্ট্রাইকারকে লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ ত্যাগে বাধ্য করা হলে দল গুছিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন ঝিনাইদহ দলের কোচ তোফাজ্জেল হোসেন। এ নিয়ে দীর্ঘ আধাঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলে বাকবিতন্ডা ও আয়োজকদের সাথে চলে মনোমালিণ্যের ঝড়। পরে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ’র অনুরোধে পুণরায় খেলতে নামে দু’দল। কিন্তু বিরতির আগে আর গোলের দেখা পায়নি কোন দল।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে, আচমকা ছক পাল্টে আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে স্বাগতিক চুয়াডাঙ্গা। প্রতিপক্ষ ঝিনাইদহ ডিএসএ’কে ১০ সদস্যের দল নিয়েই মোকাবেলা করতে হয়। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর ১৩ মিনিটের (৫৮ মিনিট) মাথায় নিজ বিপদসীমায় আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ঝিনাইদহের ডিফেন্ডার ইছা’র হাতে বল লাগলে আরো একটি পেনাল্টির সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। পেনাল্টিতে চুয়াডাঙ্গা দলের হয়ে গোল করে ম্যাচের সমতা নিয়ে আসেন ১০ নম্বর জার্সিধারী নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার কিংস। এ গোলেই জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। রক্ষণভাগে অসামান্য ভূমিকা রাখায় চুয়াডাঙ্গা জেলা একাদশের বিদেশী খেলোয়াড় মনডে’কে সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব দেওয়া হয়।
খেলা শুরুর আগে মাঠ পরিদর্শন করেন এবং দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান আশি-নব্বই এর দশকের মাঠ কাপানো ও জাতীয় দলের সাবেক কৃতি ফুটবলার কায়সার হামিদ। এক সময়ের বিখ্যাত এ সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার মাঠে নেমে এলে দর্শক গ্যালারীতে বাড়তি উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। তবে অবসর জীবনের দীর্ঘ দু’যুগ পর খেলতে নয়; আঞ্চলিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর উপভোগ করতে জেলা প্রশাসকের নিমন্ত্রণে চুয়াডাঙ্গায় এসে জেলা স্টেডিয়াম মাঠে ঘুরে ঘুরে দর্শকদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘২০০০ সালের পরে আর কোন ম্যাচে এত দর্শক আমার চোখে পড়েনি। একটি নান্দনিক আয়োজনে হাজার হাজার দর্শক একসাথে বসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে খেলা উপভোগ করছে এটিই অনেক বড় ব্যাপার। আমি যখন শুনতে পেলাম আঞ্চলিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের আয়োজন করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়; তখনি জেলা প্রশাসকের নিমন্ত্রণে ছুটে এসেছি। এ আসর দেখে মনে হচ্ছে- এমন আয়োজন যদি দেশের সকল জেলায় করা যেত, তবে ফুটবলের হারানো গৌরব ফিরে আসতো। বর্তমানে ফুটবলের যে অবস্থা; তাতে আমরা তলাণীতে পরিণত হয়েছি। এখান থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় ঘরোয়া ও আঞ্চলিক মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা।’
জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবলের প্রথম সেমিফাইনালে চুয়াডাঙ্গা বনাম ঝিনাইদহের ম্যাচটি মাঠে বসে উপভোগ করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর, পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, সিভিল সার্জন ডা. দীলিপ কুমার রায়, জেলা আ.লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক এড. মোহা. শামসুজ্জোহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. নুরুল ইসলাম, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকা দীলিপ কুমার আগরওয়ালা, পরিচালক রিপনুল হাসান রিপন, তরুণ শিল্পপতি আব্দুল লতিফ খান যুবরাজসহ আরো অনেকে।
উল্লেখ্য, আজ সোমবার বিকাল ৩টায় জেলা স্টেডিয়াম মাঠে ২য় এবং শেষ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলা ফুটবল একাদশ। আজকের ম্যাচে যারা বিজয়ী হবে তাদের সামনে চুয়াডাঙ্গা চ্যালেঞ্জ। আগামী ২৭ অক্টোবর ফাইনালে মুখোমুখি হবে ২য় সেমিফাইনাল বিজয়ী দল ও চুয়াডাঙ্গা জেলা একাদশ।
কমেন্ট বক্স