ঝিনাইদহের সড়ক-মহাসড়ক ও পাড়া মহল্লার বেহাল রাস্তায় জলাবদ্ধতা : বিপর্যস্ত মানুষ
- আপলোড তারিখঃ
২২-১০-২০১৭
ইং
সারাদেশে বৃষ্টিপাত : চুয়াডাঙ্গায় ১০২ মি.মি. রেকর্ড : অব্যাহত থাকবে আজও
সমীকরণ ডেস্ক: সাগরের নিম্নচাপের কারণে সারা বাংলাদেশেই দিনভর বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সমুদ্রবন্দরগুলোতে রাখা হয়েছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত। স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার থেকে বৃষ্টি ঝরছে প্রায় সারাদেশে। গতকাল শনিবারও প্রায় সারাদিন তা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় ১০২ মিলি মিটার রেকর্ড বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সকাল পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল সকাল পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত গোপালগঞ্জে ২৭১ মিলি মিটার রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, এই সময়ে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৪৯ মিলি মিটার। মধ্যাঞ্চলের টাঙ্গাইলে ১৪৬ মিলি মিটার, মাদারীপুরে ১৭১ মিলি মিটার, ফরিদপুরে ১৪৯ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উপকূলীয় প্রায় সব এলাকাতেই প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীর মাইজদীতে ১৯৫ মিলি মিটার, হাতিয়ায় ১০৩ মিলি মিটার, চাঁদপুরে ১৩৭ মিলি মিটার, বরিশালে ১৮৬ মিলি মিটার, পটুয়াখালীতে ১৬৪ মিলি মিটার, ভোলায় ৮৩ মিলি মিটার, খুলনায় ১৬৩ মিলি মিটার, মংলায় ১৩০ মিলি মিটার, যশোরে ১৬২ মিলি মিটার, সাতক্ষীরায় ১২৩ মিলি মিটার, চুয়াডাঙ্গায় ১০২ মিলি মিটার, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৫১ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের ঈশ্বরদীতে ১৩৯ মিলি মিটার এবং সিরাগঞ্জের তাড়াশে ১৩৬ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হলেও রংপুর বিভাগের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলক কম। বৃষ্টি কম সিলেট অঞ্চলেও। আবহাওয়া বিভাগের শনিবার সকালের বুলেটিনে বলা হয়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি সকাল ৯টায় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। নিম্নচাপের প্রভাবে বায়ু চাপের তারতম্য এবং গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হওয়ায় দেশের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস আবহওয়া অধিদপ্তরের। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাত কমে আসবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুলেটিনে বলা হয়েছে, নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল,পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর স্বাভাবিকের চেয়ে ১-২ ফুট বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ঝিনাইদহের সড়ক, মহাসড়ক ও পাড়া মহল্লার বেহাল রাস্তার পাশাপাশি শহরের জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত মানুষ। চার দিনের টানা বর্ষনে ঝিনাইদহ শহরের বেশির ভাগ মহল্লার রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙ্গিনা তলিয়ে গেছে। মানুষ জলাবদ্ধতায় নাকাল। ঘর থেকে বের হতে পারছে না কেও। স্কুল কলেজে উপস্থিতির হার কম। পৌরসভার কোন কোন রাস্তার উপর হাটু পানি জমে আছে। ঝিনাইদহ শহরের আদর্শপাড়া কচাতলার মোড় থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত রাস্তা আর ড্রেন এক হয়ে গেছে। শহরের উপশহরপাড়ায় ড্রেনের পানি ঢুকছে বাড়ি ঘরে। চাকলাপাড়া, নতুন কোটপাড়া, আরাপপুর পুর্বপাড়া, খাঁ পাড়া, আরাপপুর পশ্চিমপাড়া, বাসষ্ট্যান্ডপাড়া, মুরারীদহ, ব্যাপারীপাড়া দাসপাড়া, কাঠালবাগান, ওয়ারলেসপাড়া, সিদ্দিকীয়া সড়ক, সায়াদাতিয়া সড়ক, পাগলাকানাই মোশাররফ হোসেন স্কুলপাড়া, খাজুরা মাঝপাড়াসহ বেশির ভাগ মহল্লায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে চার মাস ধরে পানি জমে আছে। পানি বের করার কোন উদ্যোগ নেই। সিদ্দিকীয়া আলীয়া মাদ্রাসা ও পাগলাকানাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আঙ্গিনা ঢুবে গেছে। শিক্ষার্থীরা পানির জন্য ক্লাস করতে পারছে না। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার করণে পৌর নাগরিকদের দিনকে দিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতা থেকে কোন প্রতিকার মিলছে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে প্রশাসন আর জনপ্রতিনিধিদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। ফলে মানুষের মধ্যে হা-হুতাশ ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘশ্বাস আর কষ্টের আর্তনাদ দিনকে দিন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে বিষিয়ে তুলেছে। জানা গেছে, ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের আওতাধীন প্রায় সব রাস্তা চলাচলের অযোগ্য। রাস্তায় বড় বড় খানাখন্দক ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোন যানবাহন ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না। প্রায় ট্রাক উল্টে জান মালের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। এদিকে বর্ষায় শহরের রাস্তাগুলো এক যোগে খানাখোন্দকে ভরে গেছে। শহরের গুরুত্বপুর্ন পাড়া মহল্লার রাস্তাগুলো ভেঙ্গে পানি কাঁদায় একাকার। ধীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাগুলো মেরামতের অভাবে পড়ে আছে। এতে মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঝিনাইদহ পৌরসভার কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম মধু জানান, আমরা পানি বের করার চেষ্টা করছি। তবে কোন কোন পাড়ার পানি বের করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, জলাবদ্ধতার মুল কারণ জচ্ছে পানি বের হতে না পারা। ড্রেনগুলোর লেভেল না থাকায় আগে নির্মিত ড্রেন কোন কাজে আসছে না। বিদেশী অর্থয়নে বড় ড্রেন নির্মান কাজ শেষ হলে সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কমেন্ট বক্স