টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ : স্থবির দেশ : আজও বৃষ্টি হতে পারে
- আপলোড তারিখঃ
২১-১০-২০১৭
ইং
সমীকরণ ডেস্ক: সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সারাদেশে শুরু হয়েছে অবিরাম বর্ষণ। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে এই অঝোর ধারা। যা শুক্রবার সারাদিনই অব্যাহত ছিল। এদিকে টানা বর্ষণের কারণে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বৃষ্টিতে নাকাল হতে হয়েছে বিশেষ প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া লোকজনকে। পানিতে তলিয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন এলাকা। সারাদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আজ শনিবারও সারাদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
নিম্নচাপের কারণে শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হয়েছে। আজ শনিবার দেশের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে রবিবার থেকে অবস্থার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে গোপালগঞ্জে ১৪৩ মি.মি.। এছাড়া হাতিয়া ও মাদারীপুরে ১১৩ মি.মি., খুলনায় ১১১ মি.মি., বরিশালে ১০৩ মি.মি., পটুয়াখালীতে ১০২ মি.মি., মংলায় ৯৮ মি.মি., ঢাকা, মাইজদীকোর্ট ও সাতক্ষীরায় ৯৫ মি.মি., যশোরে ৯৩ মি.মি., চাঁদপুরে ৮৬ মি.মি., খেপুপাড়ায় ৮৩ মি.মি., কুমারখালীতে ৭৯ মি.মি. এবং ফরিদপুরে ৭৭ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপকূলীয় উড়িষ্যা ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গতকাল দুপুর ১২টায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তত্সংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চল ও উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে এবং গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর সমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১-২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
কমেন্ট বক্স