বাউল ও লোকজ উৎসবের মধ্যে দিয়ে সুস্থ সাংস্কৃতির বিকাশ ঘটুক
- আপলোড তারিখঃ
২০-১০-২০১৭
ইং
দর্শনা আকন্দবাড়িয়ায় ৪ দিনব্যাপী বাউল ও লোক উৎসবের উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘মানুষ ভজিলে সোনার মানুষ হবি’ মরমি বাউল সাধক লালন সাঁইজির এ উক্তিকে ধারণ করে দর্শনা আকন্দবাড়িয়ায় ৪দিনব্যাপী বাউল ও লোক উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘যারা বাউল সাধনা করেন তারা ¯্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক তৈরী করতে চান। একই সাথে ¯্রষ্টাকে খোঁজেন, আত্মাকে খোঁজেন তাদের কাজ, ধ্যান, জ্ঞ্যন, গান ও সাধনার মাধ্যমে। এমন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বাউল ও লোকজ ঐতিহ্য ফুটে উঠবে। এ ভাবে আমাদের চিরায়িত ঐতিহ্যকে বাংলাদেশের বুকে দৃড় ভাবে তুলে ধরতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গার এই এলাকা একটি মাদক প্রবণ এলাকা। যত ঐতিহ্যবাহী আয়োজন যেমন, গ্রামীণ খেলা, গানের অনুষ্ঠান, বাউল উৎসব, শিল্প-সাংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে সুস্থ সাংস্কৃতির বিকাশ ঘটুক আমরা তাই আশা করি।
সদর উপজেলার আকন্দবাড়ীয়া বাউল পরিষদের আয়োজনে প্রতিবছরের মত এবারও আকন্দবাড়িয়া কেরুজ মাছে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায়।
উদ্বোধনী সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকলেও আলোচনা সভা সংক্ষিপ্ত করতে আয়োজনের সাফল্য কামনা করে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুর রাজ্জাক।
উদ্বোধনী সভায় প্রধান বক্তা দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘আবহমান বাংলার গ্রামীণ জনপদের বাউল, জারি ও পালাগান শোনার জন্য এখনও গ্রামের মানুষ মুখিয়ে থাকে। এই বাউল ও লোকজ উৎসব আকড়ে ধরে আমাদের সমাজটাকে সুস্থ ধারার সাংস্কৃতি চর্চায় এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হেমন্ত হেনরী কুবি, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর সুচিত্র রঞ্জন দাস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম।
সাংবাদিক রেজাউল করিম লিটনের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাউল ও লোকজ উৎসবের মূল আয়োজক ধীরু বাউল। এ ছাড়াও দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাংবাদিক হানিফ মন্ডল, দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক সেলিমুল হাবীব সেলিম, নিজস্ব প্রতিবেদক এসএম শাফায়েত, দর্শনা অফিস প্রধান আওয়াল হোসেন।
পরে দেশ বরেণ্য বাউল ও লোক সংগীত শিল্পী ধীরু বাউলের গানের মধ্য দিয়ে সংগীতানুষ্ঠান শুরু হয়। এবারের বাউল মেলায় প্রতিবারের মতই আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী জিনিস-পত্র দিয়ে বিভিন্ন স্টল সাজিয়ে তোলা হয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা ও চরকা।
কমেন্ট বক্স