বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গ্যালারী ছেড়ে খেলার মাঠে হাজার হাজার দর্শক : পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ-বিজিবি-আনসার মোতায়েন

  • আপলোড তারিখঃ ১৭-১০-২০১৭ ইং
গ্যালারী ছেড়ে খেলার মাঠে হাজার হাজার দর্শক : পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ-বিজিবি-আনসার মোতায়েন
জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবলের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে স্মরণকালের সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতি ইতিহাস গড়ে টাঙ্গাইলের বিপক্ষে ২-১ গোলে চুয়াডাঙ্গার দাপুটে জয় এসএম শাফায়েত: স্বাগতিক চুয়াডাঙ্গার খেলা মানেই টানটান উত্তেজনা, দর্শক সমাগম আর বাঁধভাঙা উচ্ছাস। উদ্বোধনী ম্যাচে যারা প্রতিপক্ষ মেহেরপুরের কাছে ২-০ গোলে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছিল; তারা কী সহজে ছেড়ে দেবার পাত্র। জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে পর্বের প্রথম ম্যাচে তাই টাঙ্গাইলকে উড়িয়ে দিয়ে ২-১ গোলে জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক চুয়াডাঙ্গা। খেলা শুরুর প্রথম থেকেই দেশী-বিদেশী আর জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলারদের সমন্বয়ে গঠিত চুয়াডাঙ্গা জেলা একাদশ বেশ চাপে রাখে প্রতিপক্ষ টাঙ্গাইল জেলা একাদশকে। প্রথমার্ধের ১৯ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা দলের পক্ষে চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে আগত মান্নাফ রাব্বি একটি গোল করে দলকে এগিয়ে নেয়। এরপর ৩০ মিনিটের মাথায় নাইজেরিয়ান ইসমাইল বাঙ্গুরার পা থেকে আসে আরো একটি গোল। যা চুয়াডাঙ্গা জেলা একাদশকে ফুরফুরে ভাব এনে দেয়। বলা যায় প্রথমার্ধে রাব্বি-বাঙ্গুরার গোলেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় স্বাগতিকদের। দর্শকদের আনন্দ উচ্ছাস আর জোরালো কন্ঠের আওয়াজে আরো উৎসাহিত হয় খেলোয়াড়েরা। ২ গোলে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক চুয়াডাঙ্গা। আক্রমণ সামলে গোলশূন্য হাতে বিরতিতে যায় টাঙ্গাইল দলও। দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় অনেকটা গা ছাড়া দেওয়ায় এবার চাপের মুখে পড়তে হয় চুয়াডাঙ্গা একাদশকে। ততক্ষণে হতাশা কাটিয়ে খেলার ৫৮ মিনিটে দলের হয়ে একমাত্র গোল করে নিজেদেরকে জানান দেয় টাঙ্গাইল দল। দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ফরোয়ার্ড ইলিয়াছ হোসেন। প্রথমার্ধে কোন কিছু বুঝতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা আক্রমণাত্মক দেখা যায় টাঙ্গাইল একাদশকে। শেষ ১০ মিনিট তাই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে মুখর হয়ে ওঠে গোটা ময়দান। ৯০ মিনিট শেষ হতেই রেফারীর মুখ থেকে টানাবাসীর সুর স্বাগতিক চুয়াডাঙ্গাকে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে দেয়। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচটি মাঠে বসে উপভোগ করতে এবং নিজ জেলা দলকে সমর্থন জানাতে দুপুর ১২টার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লাসহ পাশ্ববর্তী জেলাগুলো থেকেও বাস-ট্রাক, করিমন-নসিমন, আলমসাধু-আলগামন, ভ্যান-রিক্সা-অটো এমনকি মাইক্রো-প্রাইভেট ভাড়া করে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে স্টেডিয়াম অভিমুখে। ফুটবল প্রেমী দর্শকদের আনাগোনায় শহরের প্রতিটি রাস্তাই দুপুরের পর থেকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। তবে সে যানজটকে ভোগান্তি মনে করেননি কেউ; বরং সকলে আরো উৎসাহ ও সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘অনেকদিন বাদে এমন একটি আয়োজন করা হয়েছে যেখানে সর্বস্তরের মানুষ স্বতস্ফুর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এ আয়োজনের আরো সফলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। একই সাথে টুর্নামেন্টের মূল আয়োজক চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ’কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি’। এদিকে স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে ইজারাদারকে সর্বোচ্চ ১২ হাজার প্রবেশ টিকিট বিক্রির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে প্রচার প্রচারণার সময়ই দু’তিন হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। গতকাল ম্যাচ শুরুর আগেই বিক্রি হয়ে যায় আরো ১০ হাজারের মত। টিকিট না পেলেও ফুটবল প্রেমী দর্শকদের খেলা দেখার আগ্রহ শেষ পর্যন্ত কেউ দমাতে পারেনি। খেলা তখনও শুরু হয়নি ঘড়ির কাটায় দুপুর আড়াইটা। ততক্ষণে সাধারণ গ্যালারীর আসনগুলো নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষের ঢলে কানাই কানাই পূর্ণ হয়ে গেছে। বিকাল ৩টা ১০মিনিটে খেলা শুরু হতেই দর্শকের ¯্রােত সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পুলিশ-আনসার ও রোভার সদস্যদের। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক উন্মুক্ত করে দিতে বাধ্য হয় তারা। এরই মধ্যে হাজারো দর্শক গ্যালারীতে ঠাঁই না পেয়ে শৃঙ্খলা ভেঙে মাঠের চারপাশের লোহার রেলিং পেরিয়ে মাঠের মধ্যে চলে আসে। তবে ফুটবল প্রেমী দর্শকেরা মাঠের মধ্যে চলে আসলেও সুশৃঙ্খল ভাবে মাঠের নির্দিষ্ট সীমানা দাগ অতিক্রম না করে সারিবদ্ধ ভাবে চারপাশে ছড়িয়ে দাড়িয়ে-বসে খেলা উপভোগ করে। এ সময় জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ ও পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান-পিপিএম মাঠের মধ্যে ঘুরে ঘুরে শৃঙ্খলা বজায় রেখে খেলা দেখার আহ্বান জানান দর্শকদের। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও আনসার ব্যাটালিয়ান মোতায়ন করা হয়। সাবেক কৃতি ফুটবলার গিয়াসউদ্দীন পিনা সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘এক সাথে ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শক খেলা দেখার রেকর্ড আঞ্চলিক ফুটবলের আসরে এই প্রথম। বলা যায় এই রেকর্ড শুধু চুয়াডাঙ্গা জেলার নয় সারাদেশের ইতিহাসে প্রথম। দর্শকের স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতি আর বাঁধ ভাঙা উচ্ছাস প্রমাণ করেছে ফুটবলের হারানো গৌরব ফিরে এসেছে।’ চুয়াডাঙ্গা জেলা দলের ম্যানেজার মাহবুবুল আলম সেলিম বলেন, ‘ভালো খেলে স্বাগতিক চুয়াডাঙ্গা টানা দ্বিতীয় জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। এজন্য ফুটবল প্রেমী দর্শক ও সমর্থকদের উৎসাহ আমাদের ব্যপক অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। আঞ্চলিক ফুটবলার সবচেয়ে বড় আসরে আমাদের দলকে সব ধরণের সুযোগ দেওয়ায় জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ’র প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সাথে সকল প্রকার প্রচার প্রচারণায় অগ্রণী ভূমিকা রাখায় এ টুর্নামেন্টের মিডিয়া পার্টনার দৈনিক সময়ের সমীকরণকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, আজ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ২য় ম্যাচে মুখোমুখি হবে নাটোর জেলা ফুটবল একাদশ ও জয়পুরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থা। খেলা শুরু হবে বিকাল ৩টা ১০মিনিটে।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’