বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শরীরে বরশি ফুটিয়ে শূণ্যে ঘুরলেন ৭ সন্ন্যাসী

  • আপলোড তারিখঃ ১৭-০৪-২০২৫ ইং
শরীরে বরশি ফুটিয়ে শূণ্যে ঘুরলেন ৭ সন্ন্যাসী

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বকুলতলা বাজারে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও বানফোড় উৎসব পালিত হয়েছে। শতাব্দী পেরিয়ে আসা এই লোকাচার স্থানীয় সংস্কৃতির অন্যতম ধারক হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এই দিনে সন্ন্যাসীরা নিজেদের শরীরে বরশি ফুটিয়ে শূন্যে ঘুরতে থাকেন। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ব্রিটিশ আমল থেকেই ফতেপুরে চড়ক পূজার প্রচলন রয়েছে, যার বয়স প্রায় ৪০০ বছর। প্রথমদিকে জমিদার ও শিক্ষাবিদদের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হতো এ পূজা।

চড়ক পূজা আয়োজন কমিটির সভাপতি শ্রী সাধন কুমার ঘোষ জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের দেখানো পথেই তারা এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন। এবারও ৭ জন সন্ন্যাসী শরীরে বরশি গেঁথে চড়ক গাছে ঘুরেছেন। ঘূর্ণায়মান হয়েছেন বিপ্লব কর্মকার, সাধন রায়, ভীম হালদার, অধীর কুমার, বাসুদেব, অসিত কর্মকার এবং প্রবীণ সন্ন্যাসী মহাদেব হালদার ওরফে মনা কর্মকার।

সন্ন্যাসী মনা কর্মকার জানান, তিনি তিন যুগের বেশি সময় ধরে এই ঐতিহ্য রক্ষা করে আসছেন। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং তাদের সংস্কৃতির একটি অমূল্য অংশ। গত ৮ বছর ধরে বানফোড়নে অংশ নেওয়া বিপ্লব কর্মকার জানান, বাপ-দাদার ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতি মেনে তিনি এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। এক মাস ধরে সাধনা ও পরিবার ছেড়ে ৭ দিন নির্জলা উপবাস থেকে তিনি পূজায় অংশগ্রহণ করেন। চড়ক পূজা উপলক্ষে বকুলতলা বাজারে বসে বিশাল মেলা। সেখানে নানা ধরনের মিষ্টি ও শিশুদের খেলনার পসরা দেখা যায়। পূজায় মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়েজ উদ্দিন মৃধা জানান, পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর‌্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। ফলে পূজা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হায়দার নাণ্টু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে উৎসব সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এই চড়ক পূজা আজও মানুষের ভক্তি ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

জামায়াতের সাবেক আমিরের জামাতা এজেন্ট ব্যাংকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা