বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গার তালতলা শ্মশানে সম্পন্ন হলো শেষকৃত্য

  • আপলোড তারিখঃ ১৭-০৪-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গার তালতলা শ্মশানে সম্পন্ন হলো শেষকৃত্য

তরমুজ বিক্রির তুচ্ছ একটা বিষয় নিয়ে দুই দফায় বিরোধ। আর শেষ পর্যন্ত সেটাই কেড়ে নিল চুয়াডাঙ্গা শহরের টগবগে তরুণ যুবক নিপুন সাহার প্রাণ। শহরের বড় বাজারপাড়ার কৃষ্ণ সাহার ছেলে নিপুন আর ফিরে আসবে না। ফিরে এলো শুধু নিথর দেহ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চুয়াডাঙ্গার তালতলা মহাশ্মশানে নিপুনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এর আগে বেলা ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গার বড় বাজার দুর্গা মন্দিরে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা এলাকা। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, পাড়ার মানুষ-সবাই যেন থমকে গিয়েছিল এক মুহূর্তের জন্য। যেন কারও চোখে পানি থামছিল না, কারও বুকের কান্না গোপন থাকছিল না।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নিপুন। তার আগে শনিবার রাতে শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে একদল দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি কোপে গুরুতর জখম হন তিনি। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে রাজশাহী পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত আইসিইউতেও তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, বিকেলে মন্দির চত্বরে নিপুনের মরদেহ পৌঁছানোর আগেই ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। নিপুনের মা বারবার ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বলছিলেন, ‘তুই একবার কথা বল, একটাবার চোখ খোল।’ পাশেই নিপুনের স্ত্রী বারবার হাত ধরার চেষ্টা করছিলেন স্বামীর। এসময় বন্ধু, স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকার বাতাস যেন ভারি হয়ে গিয়েছিল।
নিপুনের লাশ মন্দির প্রাঙ্গনে পৌঁছালে শোকে বারবার মাটিতে গড়িয়ে পড়ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু সজিব হোসেন। এসময় তিনি ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রাগ আর চোখে অশ্রু মেশানো কষ্ট নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘নিপুন কোনো খারাপ ছেলে ছিল না। ও কারো সঙ্গে রাগ করতো না, কারো ক্ষতি করতো না। সামান্য একটা তরমুজ বিক্রির বিষয় নিয়ে ওর সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল, আর সেই কারণেই ওকে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হলো! এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিপুন চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সচেতন ছিল। সে নিজেই সকলের সামনে হামলাকারীদের নাম বলে গেছে। তাহলে প্রশ্ন হলো-তাদের এখনো কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? পুলিশ কি শুধু কাগজে-কলমে কাজ করে? আমরা নিপুনের বন্ধুরা, এলাকাবাসী-সবার পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে জানতে চাই, হত্যাকারীরা কেন এখনো ধরা পড়ছে না? প্রশ্নও তোলেন তিনি।’
সজিব বলেন, ‘নিপুনের লাশ আমরা বহন করেছি, ওর মা-বাবার কান্না দেখেছি। এমন মৃত্যু কোনো মা-বাবা যেন না দেখে। আমরা এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে আর কোনো নিপুনকে অকালে চলে যেতে না হয়।’ উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নিপুনের মৃত্যুর খবরের পর তার ব্যবসায়িক পার্টনার রিকন আলী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এরইমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, তবে পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।



কমেন্ট বক্স
notebook

জামায়াতের সাবেক আমিরের জামাতা এজেন্ট ব্যাংকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা