পিস্তল দেখিয়ে নগ্ন করে নারীর সাথে ছবি তুলে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
- আপলোড তারিখঃ
০১-১০-২০১৭
ইং
জীবননগরের হাসাদহ বাজারে ব্যবসায়ীকে বাস নামিয়ে বদ্ধ ঘরে আটকে নির্যাতন
জীবননগর অফিস: জীবননগরের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানকে হাসাদাহ বাজারে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে অভিনব কায়দায় মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে তার চোখ বেঁধে একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রাখে। সেখানে হাবিবুরকে নগ্ন করে এক নারীর সাথে ছবি তোলে। পরে হাবিবুরের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে ও হাবিবুরের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে তাকে ছেড়ে দেয়। এ বিষয়ে জীবননগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জানা গেছে, জীবননগর পৌর শহরের হাসপাতালপাড়ার মৃত দোয়া বকস্ মন্ডলের ছেলে জীবননগর বাজারের পুরাতন কৃষি ব্যাংক মার্কেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালেহা ফোম ঘরের মালিক হাবিবুর রহমান (৪২) শুক্রবার সকালে ব্যবসায়ীক কাজে যশোরের উদ্যেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সকাল সাড়ে ৯টায় শাপলা পরিবহনে জীবননগর থেকে যশোরে যাওয়ার পথে হাসাদহ বাজারে পৌছালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে বাস নামিয়ে নেয়।
হাবিবুর রহমান বলেন, গতকাল শুক্রবার সকালে শাপলা পরিবহনে যশোরে যাওয়ার পথে আমার পাশে বসা একজন অচেনা ব্যাক্তি আমার নাকে একটি কি যেন দিল, তারপর থেকে সে কোথায় নিয়ে গেল আমি আর কিছু বলতে পারিনা। তবে চোখ বাধা অবস্থায় যে ঘরের ভিতরে আমাকে আটকে রেখেছিল, সেখানে আরও কয়েকজন ছিল। তারা বলছিল এটা হলিধানী বাজার। পরবর্তীতে তারা আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আমাকে বলে, ‘তোর গায়ের জামাকাপড় খোল, তা না হলে তোকে গুলি করে দিব’। তাদের কথা মত আমি জামাকাপড় খুলি। কিছুক্ষন পরে একটি মেয়েকে দিয়ে আমার সাথে কিছু ছবি তোলে এবং তারা বলে ‘এতে ভিডিও করা হচ্ছে’। পিস্তল ঠেকিয়ে বলে, ‘তোরা বলবি আমরা যা করেছি, ভুল করেছি আমাদের মাফ করে দেন।’ এই কথা রেকর্ড করে শেষ মেশ তারা আমার পিস্তল ঠেকিয়ে বলে, ‘বাড়িতে ফোন দিয়ে ২০ হাজার টাকা এই মোবাইল নাম্বার ০১৭৯৫৯২৩৬৮৩, ০১৭২৬-৮২০১৫৩ গুলোই বিকাশ করে দিতে বল’ আমি প্রান বাঁচাতে তাদের কথা মত বাড়িতে ফোন দিয়ে ২০ হাজার টাকা বিকাশ করতে বললে, আমার পরিবারের লোকজন বিকাশ করে দেয়। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টার সময় আমাকে ওই ঘর থেকে বের করে। একটি করিমনে করে আমাকে চুয়াডাঙ্গায় একটি পরিত্যাক্ত স্থানে নামিয়ে দিয়ে যায়। অনেকক্ষণ পরে আমার আমার জ্ঞান ফিরলে আমি একটি মোবাইলের দোকানে গিয়ে বাড়িতে ফোন দিয়। পরে পরিবারের সদস্যরা আসলে আমি বাড়ি ফিরে আসি। এ ব্যাপারে আমি জীবননগর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছি।
কমেন্ট বক্স