বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চিকিৎসার বদলে ওঝার ঝাড়ফুকের কারণেই বাড়ছে মৃত্যু

  • আপলোড তারিখঃ ২৯-০৯-২০১৭ ইং
চিকিৎসার বদলে ওঝার ঝাড়ফুকের কারণেই বাড়ছে মৃত্যু
তিন মাসে গাংনীর ৬ গ্রামে সাপের কামড়ে ১৭ জনের মৃত্যু ॥ বাড়ছে আতঙ্ক মাসুদ রানা: মেহেরপুরে গেল তিন মাসে সাপের কামড়ে গাংনী উপজেলার ৬টি গ্রামে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। হাসপাতালের চিকিৎসায় নিয়ে দু-জন বেচে গেলেও বাকিদের মৃত্যু হয়েছে ওঝার চিকিৎসায়। সর্বশেষ গত রবিবার সাপের কামড়ে এক কলেজছাত্রী সহ দুইজনের মৃত্যু হয়। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় আতংক বিরাজ করছে গ্রামগুলোতে। চিকিৎসক বলছেন, ওঝা নয় সাপের কামড়ের একমাত্র চিকিৎসা হাসপাতাল। এলাকাবাসীরা জানান, সহড়াবাড়িয়া গ্রামে ডিগ্রী পড়–য়া ছাত্রী স্বপ্না খাতুনকে রাত তিনটার দিকে তাকে সাপে কামড় দেয়। রাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এক ওঝার কাছে। ঝাড়ফুক করার পর ওঝা বলেন বিষ নেমে গেছে। সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে চরগোয়াল গ্রামের ঘুমন্ত অবস্থায় ইয়ার আলীকে সাপে কামড় দেয়। রাতে স্থানীয়রা তাকে ওঝার কাছে নিয়ে যায়। পরে তাকে নেওয়া হয় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সকাল ১১ টার সময় হাসপাতালে মারা যায় সে। গাংনী উপজেলার হাসপাতাল পাড়ার সাপে কাটা রুগী সেন্টু মিয়া জানান, মাঠে কাজ করতে গিয়ে সাপে কেটেছে সন্দেহে ছুটে যান ওঝা শফিকুল ইসলামের কাছে। সেখানে একটি গাছ খাওয়ানোর পর বিষ নেমে গেছে বলে খুলে দেওয়া হয় পায়ের বাঁধন। কিন্তু সাপ সে দেখেনি। এভাবেই সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে ওঝারা। আর  সাপের কামড়ের চিকিৎসা নিতে সকলে দৌড়াচ্ছেন ওঝার কাছে। ওঝার চিকিৎসার পরও গাংনীর মালশাদহ গ্রামে একই দিনে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় দুই জনের। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে গেছে দুই জন। কালোর উপর সাদা ডোরা কাটা একটি সাপ ধরা পড়লে আগে কখনই সাপটি দেখেননি বলে জানান স্থানীয়রা। সাপে কাটার ৫/৬ ঘন্টার মধ্যে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। ফলে আতংক বিরাজ করছে গ্রামগুলোতে। সরকারি কলেজের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জিয়াউল ইসলাম জানান, পৃথিবীতে ৯৪ প্রাজিতর মধ্যে ৩০ প্রজাতির সাপ অত্যান্ত বিষধর। বাকী ৬৪ প্রজাতির সাপের কামড়ে মৃত্যু নাও হতে পারে। যে সাপটি ধরা পড়েছে বাংলায় এর নাম শঙ্খীনি বা কেউটে ইংরেজিতে বলে ব্রান্ডেট ক্রিয়েট, বৈজ্ঞানীক নাম বাঙ্গারাজ ফেসিয়েটাস। এটি অত্যন্ত  বিষধর। সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অলোক কুমার দাস জানান, কামড়ের স্থান দেখলে বোঝা যাবে সাপটি বিষধর কিনা। সাপ চেনার কোন দরকার নেই। বিষধর সাপে কামড় দিলে একমাত্র চিকিৎসা এন্টি ভেনাম প্রয়োগ। তাই ওঝার কছে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’