বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মেহেরপুরে প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক কর্মকর্তা অফিস করছেন নিয়মিত!

  • আপলোড তারিখঃ ২৮-০৯-২০১৭ ইং
মেহেরপুরে প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক কর্মকর্তা অফিস করছেন নিয়মিত!
সমীকরণ ডেস্ক: প্রতারণা মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত মেহেরপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হারুণ-অর রশিদ অফিস করছেন। কিন্তু পুলিশ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক এই কর্মকর্তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না। গতপরশু মেহেরপুর পৌরসভা কার্যালয়ে নিজের কক্ষে বসেছেন তিনি। পৌর কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হারুণ-অর রশিদের রুমে প্রবেশ করে দেখতে পান তিনি পৌরসভার কিছু জরুরি কাগজপত্র নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পৌরসভার সচিব তৌফিকুল আলম বলেন, মামলায় সাজা হওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। কিন্তু অফিসিয়ালি কোনো কাগজপত্র তিনি পাননি। হারুণ-অর রশিদ নিয়মিত অফিস করছেন। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, রায়ের কাগজপত্র হাতে পেলেও পলাতক থাকায় সাজাপ্রাপ্ত ওই প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট প্রতারণা মামলায় মেহেরপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুজ্জামান প্রকৌশলী হারুণ-অর রশিদকে দুই বছরের কারাদ- এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেন। অভিযোগ উঠেছে, পরদিনই আদালতের আদেশ পেয়ে পুলিশ ওই প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করতে গেলে একটি মহলের চাপে পুলিশ ফিরে আসে। আর্থিক রফাদফা হওয়ায় পুলিশ আদালতের পরোয়ানা তামিল না করে তাকে অফিস করার সুযোগ করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মঙ্গলবার মেহেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সত্য নয়। সাজাপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে মেহেরপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিনুজ্জামান রিটন বলেন, ‘প্রকৌশলীর সাজা হয়েছে শুনেছি। তবে, পুলিশ কেন ধরছে না সেটা পুলিশ জানে। রায়ের কাগজপত্র না পাওয়া পর্যন্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ মেহেরপুর সদর উপজেলার ঠিকাদার হাফিজুর রহমান ডলার ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট প্রকৌশলী হারুণ-অর রশিদের বিরুদ্ধে এই প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রকৌশলী হারুণ-অর রশিদ কাজ পাইয়ে দেওয়ার চুক্তিতে তার কাছ থেকে ৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামায় তার স্বাক্ষর আছে। শর্ত ছিল কাজ না পাইয়ে দিলে ২০১৫ সালের ১১ মার্চের মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং বাকি ৪ লাখ টাকা একই বছরের ১১ মে’র মধ্যে পরিশোধ করবেন। পরে কাজ পাইয়ে দিতে ব্যর্থ হলে প্রকৌশলী হারুণ-অর রশিদ ১১ মার্চ নিজ নামীয় পূবালী ব্যাংকের একাউন্টের একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে হাফিজুর জানতে পারেন ওই একাউন্টে কোনো টাকা নেই। পরে টাকা চেয়ে ব্যর্থ হলে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। মেহেরপুর পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানান, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি কিভাবে নিয়মিত অফিস করছে এবং আদালতের আদেশ প্রায় দেড় মাসেও কেন তামিল হয়নি তা তিনি খতিয়ে দেখছেন। এক্ষেত্রে পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকলেও ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান পুলিশ সুপার।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’