বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

প্রতিমায় কাদা-মাটির কাজ শেষে চলছে রংতুলির শেষ আচড়

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০৯-২০১৭ ইং
প্রতিমায় কাদা-মাটির কাজ শেষে চলছে রংতুলির শেষ আচড়
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়ে গেছে শারদীয় দূর্গা পূজার আমেজ সমীকরণ ডেস্ক: শরতের কাশফুল, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা বলে দেয় দেবী দূর্গা আসছে। কাঁদা মাটির কাজ শেষে চলছে রংতুলির শেষ আচড়। আর কিছুদিন পর হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচাইতে বড় উৎসব সারদীয় দূর্গাপূজা। দূর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি। প্রতিবারের ন্যায় উৎসবমুখর পরিবেশে দূর্গৎসব পালন করতে পারবেন বলে আশা পূজা উদযাপন কমিটির। আর দূর্গাৎসবকে কেন্দ্র করে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে বলে জানালেন পুলিশ সুপার। এবার চুয়াডাঙ্গা জেলার ৯৬টি ও মেহেরপুর জেলার ৩২ মন্ডপে চলছে শারদীয় দূর্গাপুজা উৎসবের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। দর্শনা অফিস জানিয়েছে, আর মাত্র কয়েকদিন পর সনাতন ধর্মালম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। দর্শনা ও পাকৃষ্ণপুর গ্রামের ৬টি পূজা মন্ডবে প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। এখন শুধুমাত্র রং এর অচর আর সাজানোর কাজ শেষ হলেই প্রতিমার পূর্নাঙ্গ রূপ ফিরে পাবে। পুরাকালে দেবতারা মহিষাসুরের অত্যাচারে স্বর্গ থেকে বিতারিত হয়ে ব্রহ্মার শরাণাপূন্ন হলেন। দেবতাদের কাহিনী শুনে ব্রহ্মা, বিষ্ণ ও মহেশ্বর ক্রোধে জ্বলে উঠলেন। তাদের শরীর থেকে আগুনের মত তেজরাশি একত্রিত হয়ে বিশাল এক আলোক পুঞ্জে পরিনত হল। ঐ আলোর পুঞ্জ থেকে আর্বির্ভুত হলেন দেবী মুর্তি। সেই দেবীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে তাঁেদর তেজ চিহ্ন বর্তমান দেখে দেবতারা আনন্দিত হলেন। তখন দেবতাগণ নিজ নিজ অস্ত্র থেকে আর একটি অস্ত্র সৃষ্টি করে দেবীর হাতে দিলেন। দেবীর বাহনের জন্য হিমালয় দিলেন সিংহ। এই দেবীই হলেন মা দূর্গা। পৃথিবীতে যুদ্ধ, ধ্বংস, হত্যা লুণ্ঠন, হিংসা ও সকল মনবতা বিরোধী সমস্ত জঘন্য কাজ অপ্রতিহত গতিতে এবার দেবী দূর্গা আসছে। এ বছর ২৫ সেপ্টম্বর থেকে সোমবার সায়ং কালে শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গা দেবীর বোধনের মধ্যে দিয়ে দর্শনা ও পারকৃষ্ণপুর গ্রামে ৬টি সারদীয় দূর্গা উৎসব পালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব দেবী দুর্গার নির্মান কাজ শেষ হলেও রং তুলির আচর পড়েনি। দর্শনা কেরু শ্রী শ্রী মন্দির, দর্শনা পুরাতন বাজার শ্রী শ্রী মন্দির, দর্শনা হরিজন সম্প্রদায়ের  মন্দির, দর্শনা বাগদী পাড়া, মুচি পাড়া   ও পারকৃষ্ণপুর হালদার পাড়া শ্রী শ্রী মুন্দিরে জাগজমক ভাবে সারদীয় দুর্গা উৎসব পালিত হচ্ছে। এ দিকে গতকাল সন্ধায়  পারকৃষ্ণপুর হালদার পাড়া শ্রী শ্রী মুন্দির পরিদর্শনের সময় প্রত্যয় যুব সংগঠনের সভাপতি কিতার আলী ও সাধারণ সম্পাদক, সদস্য সগর, বিপ্লব, সুমন ও সাংবাদিরা উপস্থিত ছিলেন। এবছর দর্শনাসহ দামুড়হুদা উপজেলায় ১৯টি স্থানে সারদীয় দুর্গা উৎসব পালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে গত বছর ২০টি স্থানে সারদীয় দুর্গা উৎসব হলেও এ বছর ১৯টি প্রতিমা নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। তিতুদহ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আর মাত্র ক’দিন পরেই শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয়  উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। আর এই পুজাকে ঘিরে চুৃয়াডাঙ্গা সদরের তিতুদহের পুরো এলাকা জুড়ে প্রতিমা তৈরীর ধুম পড়েছে। ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা তৈরী শিল্পীরা। তিতুদহের ২৯টি গ্রামের মধ্যে এবছর ৫টি গ্রামে ৭টি মন্ডপে পালিত হবে দূর্গোৎসব। গতবারের চেয়ে এবার ২টি মন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। পূজার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে শিল্পীদের প্রতিমা তৈরীর ব্যস্ততা। প্রতিমা তৈরী শিল্পী সুশিল চন্দ্র জানান, এখন দম নেয়ারও সময় নেই তাদের। রাত-দিন চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। সবগুলো মন্ডপে ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন শুরু হয়েছে রং তুলির কাজ। শিল্পীরা এক একটি প্রতিমা তৈরীতে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার এবং সবগুলো প্রতিমা তৈরিতে প্রায় ৭০ হাজার থেকে ১লক্ষ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। প্রতিমা শিল্পীদের নিপূণ আঁচড়ে তৈরী হচ্ছে প্রতিমা। অতি ভালোবাসা ও ভক্তিতে তৈরী করা হচ্ছে দূর্গা, স্বরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর ও শিবমুর্তি। তিতুদহের গড়াইটুপি শিবমন্দির পূজা উৎযাপন পরিষদের সাভাপতি আশুতোষ শর্মা জানান, গতবারের চেয়ে ভিন্ন ভাবে এবার পুজা মন্ডপগুলো সাজানো হচ্ছে অপূর্ব সাজে। ইতোমধ্যে ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজগুলো খুব দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিতুদহ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই লিটন গাজী জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দূর্গোৎসব পালনে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, ১৯ সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিন চন্ডিপাঠের মাধ্যমে স্বর্গলোক থেকে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে আসার আমন্ত্রন জানিয়েছেন হিন্দু র্ধমাবলম্বীরা। মহাষষ্টির দিন দেবীর আগমন ঘটবে পৃথিবীতে। তাইতো জেলার ৩২ টি মন্ডপে চলছে রংতুলির শেষ আচড়। তবে প্রতিমা শিল্পীদের দাবি পূজার আনুসাঙ্গিক জিনিসের দাম বাড়ালেও বাড়েনি তাদের মুজুরি। ফলে খুব একটা লাভের মুখ দেখছেনা তারা। তারপরও পূর্বপুরুষের এ পেশা ধরে রেখেছেন কারিগররা। প্রতিম তৈরীরর কারিগররা জানান, বিচালি ও কাঁদামাটি দিয়ে কারিগরদের নিপুন হাতের ছোয়ার তৈরি হচ্ছে দেবী র্দূর্গা, স্বরসতি, কার্তিক, গনেশসহ বিভিন্œ প্রতিমা। ছোট মন্ডপের প্রতিমা তৈরিতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ও বড় মন্ডপের প্রতিমা তৈরিতে কারিগররা নিচ্ছেন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এ সময়ে হাতে অনেক কাজ থাকলেও বছরের অন্য সময়ে বসে থাকতে হয়। বিভিন্ন কাজ করে সংসার চালাতে হয় আমাদের। মেহেরপুরের পুরোহিত সঞ্জয় কুমার মুখার্জী বলেন, পঞ্জিকামতে এবার দেবীর আগমন নৌকায়, গমন দৌলায়। ফলে পৃথিবিতে এবার প্রচুর পরিমান শষ্য উৎপাদন হবে এবং হবে শান্তি প্রতিষ্ঠতা। ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠি ও ৩০ তারিখে দেবীদূর্গাকে বির্ষজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দূর্গৎসব। মেহেরপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডাঃ রমেশ চন্দ্র নাথ জানালেন, সম্প্রদায় সম্প্রীতির জেলা মেহেরপুর। সকল ধর্মের মানুষ মিলে মিশে পূজার আনন্দ উপভোগ করবেন। এছাড়াও সরকারি বরাদ্দ বেশি পেলে পূজা মন্ডপের সংখ্যা আরোও বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান। মেহেরপুর পূজা উদযাপন কমিটি সহসভাপতি পল্লব ভট্টাচার্য জানান, দূর্গৎসবকে কেন্দ্র করে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মায়ের আগমনে বিশ্ব মঙ্গলময় হবে । উৎসবমূখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারবেন বলে জানান তিনি। মেহেরপুর পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানান, এবারে পূজাকে কেন্দ্র করে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে । পূজা মন্ডপের বিভিন্ন স্থানে আনছার, র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি সাদ পোশাকে কাজ করবে নিরাপত্তা বাহিনী।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’