গাংনীতে শিশুকন্যার হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা!
- আপলোড তারিখঃ
২১-০৯-২০১৭
ইং
গাংনী অফিস: মেহেরপুরের গাংনীতে মেয়ে সামিয়াহাকে (২) পানিতে ফেলে হত্যার পর আদুরী বেগম (২৩) নামের এক নারী গলায় ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টার দিকে গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের কসবা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আদুরী খাতুন চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনী গ্রামের লোকমান হোসেনের স্ত্রী। কসবা গ্রামের নানা কাবরান আলীর বাড়ির পাশে একটি পুকুর থেকে মেয়ের হাত পা বাঁধা লাশ এবং নানির ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় আদুরীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, আদুরীর স্বামীর সাথে পারিবারিক কলহের জেরে অভিমানে নানার বাড়িতে চলে আসে। এখানে এসে অভিমানে শিশুকন্যা সামিয়াকে হাত-পা বেঁধে জনৈক আজিবার আলীর পুকুরে ফেলে দেয়। পরে সে নিজেই নানাবাড়ির শোবার ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। সুত্র জানায়, বুধবার দুপুরে আদুরীর ঝুলন্ত লাশ তার নানার বাড়ির একটি ঘরের আড়ার সাথে দেখতে পায় স্থানীয়রা। এ সময় প্রতিবেশীরা তার শিশুকন্যাকে না পেয়ে খুঁজতে থাকে। পরে বাড়ির অদূরে পুকুরের পানিতে শিশু সামিয়ার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আদুরী যখন শিশু তখন তারও মা আতœহত্যা করে মারা যায়। বাবা গাংনী উপজেলার সিন্দুরকোটা গ্রামের শহিদুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করার পর আদুরী তার নানা কসবা গ্রামের কাবরান আলীর বাড়িতে বড় হয়। তার নানীর স্নেহ-আদরে বেড়ে উঠে। পরে আদুরীর সাথে আলমডাঙ্গা উপজেলার বড়-গাংনী গ্রামের লোকমান হোসেনের বিয়ে হয়। লোকমান হোসেনের প্রথম স্ত্রীর সাথে সংসার জীবন ছাড়াছাড়ি হওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে আদুরীর সাথে বিয়ে হয়। লোকমানের প্রথম স্ত্রীর ছেলে সন্তান রয়েছে। ওই সন্তানের স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হওয়ায় আদুরী অভিমান করে নানার বাড়ি কসবা গ্রামে গত ৬দিন আগে চলে আসেন। তাকে নিয়ে যেতে স্বামী লোকমান হোসেন গত মঙ্গলবার কসবায় আসেন। লোকমান আদুরীকে শত বোঝানোর পরও মন গলাতে পারেননি। ফলে লোকমান বাড়ি চলে যান। এনিয়ে স্বামী ও সতীনের ছেলের স্ত্রীর উপর অভিমানে শিশু কন্যাকে হত্যার পর আদুরী নিজেই আত্মহত্যা করেছে বলে মনে হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, আদুরীর নানা বেশ কয়েক বছর আগে মারা যাওয়ায় একমাত্র নানী ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। ঘটনার সময় নানী মাঠে ঘাস কাটতে যাওয়ায় আদুরী ওই সুযোগে হত্যা-আতœহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, কিভাবে মারা গেছে তা পরিস্কার নয়। কেউ বলছে গলায় দড়ি, কেউ বলছে শাড়ী, কেউ কেউ বলছে শিশুটি পানিতে চুবিয়ে মারা হয়। একজন একেক রকম বলছে তাই বিষয়টি রহস্যজনক বলে আমার মনে হয়।
গাংনী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিহত মা-মেয়ের লাশ মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেয়া হবে। আমার কাছে মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক। ময়নাতদন্তের রির্পোট এলেই পরিস্কার হওয়া যাবে।
কমেন্ট বক্স