বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দেশে ফিরেছেন ৪১ হাজার হাজি : সৌদি আরবে ১১৫ জন বাংলাদেশী হাজির মৃত্যু

  • আপলোড তারিখঃ ১৭-০৯-২০১৭ ইং
দেশে ফিরেছেন ৪১ হাজার হাজি : সৌদি আরবে ১১৫ জন বাংলাদেশী হাজির মৃত্যু
সমিকরণ ডেস্ক: এবার হজ করতে গিয়ে সৌদি আরবে গত শুক্রবার পর্যন্ত ১১৫ বাংলাদেশী মৃত্যুবরণ করেছেন। মক্কায় সর্বশেষে শামছুন নাহার বেগম নামে এক বাংলাদেশী হাজির মৃত্যু হয়। এছাড়া হজ শেষে ৪১ হাজারের বেশি হাজি দেশে ফিরে এসেছেন। ধর্ম-বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, গত শুক্রবার মক্কা আল-মুকাররমায় শামছুন নাহার বেগম মৃত্যুবরণ করেন। তার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে। তার পাসপোর্ট নম্বর: বিএন-০২২৪৪০১। এ নিয়ে এবার সৌদি আরবে ২৪ জন বাংলাদেশী নারী হাজির মৃত্যু হলো। এছাড়া ৯১ জন বাংলাদেশী পুরুষ হাজিও সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করেছেন। সবমিলে নিহত বাংলাদেশী হাজির সংখ্যা ১১৫। এদের  মধ্যে মক্কায় ৭৭, মদিনায় ৮, জেদ্দায় ১ ও মিনায় ১৬ জন মারা গেছেন। নিয়ম অনুযায়ী মারা যাওয়া প্রত্যেক হাজির মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হয়। সূত্র আরো জানায়, এবার হজ পালন শেষে ১১১টি ফিরতি ফ্লাইটে গতকাল পর্যন্ত ৪১ হাজার ১২৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৫২টি ও সৌদি এয়ারলাইনস ৫৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। হাজিদের সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিমানের ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম চলবে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। চলতি বছর ১ লাখ ২৬ হাজার ২৪৭ জন বাংলাদেশী হজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গেছেন। এর মধ্যে ৬৪ হাজার ৮৭৩ জনকে ২৪ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছে দিয়েছে বিমান। প্রাক-হজ ফ্লাইটে বিমান অতিরিক্ত ১ হাজার ২৭৪ জন হজযাত্রী পরিবহন করেছে। বাকি হজযাত্রী সৌদি এয়ারলাইনসে করে সৌদি আরব গেছেন। ফিরতি ফ্লাইটে বিমানের পাশাপাশি সৌদি এয়ারলাইনসও হাজিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনছে। হজ শেষে যেসব হাজি দেশে ফিরেছেন, তাদের কেউ কেউ মক্কা ও মদিনায় অসাধু হজ এজেন্সিগুলোর প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির পক্ষ থেকে চিকিৎসা ও পরিবহন সুবিধাসহ যেসব সুযোগ-সুবিধা হাজিদের দেয়ার কথা ছিল, তা দেয়া হয়নি। যে ধরনের বাড়িতে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সৌদি আরবে নেয়া হয়, সেক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেছে। কোনো কোনো হজ এজেন্সি হাজিদের রাখে অত্যন্ত নিম্নমানের ঘরে, গাদাগাদি করে। পবিত্র কাবা শরিফের কাছাকাছি বাড়ি ভাড়ার কথা বলে রাখা হয় দূরবর্তী স্থানে। গাড়ির কথা বললেও তা দেয়া হয়নি। গাইডের অভাবেও অপরিচিত জায়গায় হাজিদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কিছু এজেন্সির বিরুদ্ধে হজযাত্রীদের খাবার না দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান সংসদে জানান, এখন পর্যন্ত ১৮টি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে ৯৮ জন হজযাত্রী অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর বিমানের ফ্লাইট বাতিল রোধ করতে ভবিষ্যতে হজ ফ্লাইট শুরুর অন্তত ১৫ দিন আগে আবশ্যিকভাবে টিকিট কিনতে হবে। উল্লেখ্য, হজ এজেন্সিগুলোর একাংশের প্রতারণায় চলতি বছর কয়েক হাজার হজযাত্রীর হজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। সময়মতো টিকিট না কাটায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সৌদি এয়ারলাইনসের বিপুল সংখ্যক হজ ফ্লাইট যাত্রীর অভাবে বাতিল হয়। তবে শেষ মুহূর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাড়তি হজ ফ্লাইটের অনুমতি পাওয়ায় সবাইকেই সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হয়।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’