বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বাপ-ছেলে ও গ্রাম পুলিশকে বেধড়ক মারপিট : জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে ৬

  • আপলোড তারিখঃ ১৫-০৯-২০১৭ ইং
বাপ-ছেলে ও গ্রাম পুলিশকে বেধড়ক মারপিট : জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে ৬
চুয়াডাঙ্গা বেগমপুর ইউনিয়নের হরিশপুরে গ্রাম্য সালিশে অপরাধ স্বীকার না করায় মাতবরদের সাথে বাকবিতন্ডা নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর ইউনিয়নের হরিশপুরে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে বাপ-ছেলে ও গ্রাম পুলিশকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেছে সালিশে বসা মাতবরদের লোকজনেরা। গতকাল রাত পৌনে ১১টার দিকে এঘটনা ঘটে। আহতরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। আজ সদর থানায় এবিষয়ে মামলা রেকর্ড হবে বলে জানা গেছে। তবে, এঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি অপারেশন আমির আব্বাস পরকীয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত সালমা, তার স্বামী জসিম, পিতা আরশেদ, মাতা আয়েশাসহ জসিমের খালাতো ভাই শফিকুল ও ভাইরা জিয়ারুলকে ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে বেগমপুর ফাঁড়িতে পরে রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নেওয়া হয়। জানা গেছে, গতকাল রাত ১০টায় বেগমপুর ইউনিয়নের হরিশপুর দক্ষিণপাড়ায় একই গ্রামের রবিউলের ছেলে কাচাঁমাল ব্যবসায়ী বকুল (২৭) এর তার চাচাতো ভাই জসিমের স্ত্রী সালমার সাথে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সালিশ ডাকে গ্রামের মাতবর নুরুল ইসলাম নুরু (৫০) ও শাহাজান আলী (৬২)। সালিশে সালমা চুপ থাকলেও বকুল পরকীয়ার কথা অস্বীকার করে। এসময় একই গ্রামের উত্তরপাড়ার মৃত হযরত আলী ওরফে হজে মোল্লার ছেলে আসাদুল (৪০), দক্ষিণপাড়ার ঝাড়– মন্ডলের ছেলে মোমিন (৩৫), মৃত অক্ষর আলীর ছেলে হান্নান ওরফে বাংলা, শাহাজান আলী মন্ডলের ছেলে মিলন (৩৬) ও মাহাম্মদ আলীর ছেলে সাইফুল (৩০) সালিশের মধ্যে আচমকা বকুলের উপর হামলা করে আহত রবিউল, বকুল ও গ্রাম পুলিশ আমিরুল এ প্রতিবেদককে জানায়। এসময় বকুলের পিতা রবিউল তাদের থামাতে গেলে তারা রবিউলকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে বলে তারা জানায়। এছাড়া সালিশে উপস্থিত গ্রাম্য পুলিশ আমিনুল বকুলের চাচা হওয়ায় তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এঘটনায় গ্রাম পুলিশ আমিরুল পরিহিত ইউনিফর্মের বোতাম ও ব্যাজ হোল্ডার ছিড়ে যায় বলে সে এ প্রতিবেদককে জানায়। পরে গ্রামবাসী আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এরমধ্যে বকুলের পিতা রবিউলের মাথা ও হাতে ৯টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বকুল ও তার চাচা গ্রাম পুলিশ আমিনুল প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রাতেই বাড়ী ফিরেছে। এব্যাপারে বেগমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাসনুন জানান, এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল হক জানান, গ্রাম্য সালিশে মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এছাড়া হরিশপুর গ্রামের গ্রাম পুলিশ আহত হওয়ার সংবাদে আমি তাদের দেখতে হাসপাতালে যায়। এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক দোষীদর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে, পরকীয়ার অভিযোগে সালিশে গ্রাম্য পুলিশসহ তিনজন জখমের ঘটনায় অত্র এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া আসাদুল ও হান্নান ওরফে বাংলাসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে মাঝেমধ্যে এধরনের সালিশ আয়োজন করে বিভিন্নজনের উপর দোষ চাপানোর অভিযোগ আছে বলে ভূক্তভোগীরা জানায়।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’