চলে গেলেন তিনবারের নির্বাচিত এমপি বর্ষীয়ান রাজনীতিক হাজী মোজাম্মেল হক
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০৯-২০১৭
ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বঙ্গজ-তাল্লু গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতির মৃত্যু
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শোক
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি শিল্পপতি হাজি মো. মোজাম্মেল হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি.......রাজেউন)। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে মোজাম্মেল হকের বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ১৪ জুলাই চুয়াডাঙ্গা শহরের বাসভবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হেলিকাপ্টারযোগে ঢাকায় আনা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ২৪ জুলাই তাকে ব্যাংককে নেয়া হয়। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম জানাজা, দ্বিতীয় জানাজা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আগামীকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গার নিজ এলাকায় মরহুমের জানাজা শেষে দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ব্যাংককে ২২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কিছুটা সুস্থ হলে মোজাম্মল হককে ১৪ আগস্ট দেশে নিয়ে আসা হয়। এরপর ঢাকার বনানীতে নিজ বাসভবনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। মরহুম মোজাম্মেল হকের পুত্রবধূ সৌমিতা হক মিথুন জানান, বাসাতে ফেরার পর অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। স্বাভাবিক কথাবার্তা বলাসহ নিজ হাতেই খাওয়া দাওয়া করছিলেন। ২১ আগস্ট পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাজি মো. মোজাম্মেল হক স্ত্রী, তিন ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের বড় ছেলে রফিকুল হক মুন্নু সিঙ্গাপুর ও মেজো ছেলে মাহবুবুল হক তাল্লু কানাডায় অবস্থান করছেন। আজ মঙ্গলবার তাঁরা দুজনেই দেশে ফিরবেন বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তার পরেই দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে বলেও জানা গেছে।
হাজি মো. মোজাম্মেল হক চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি বঙ্গজ-তাল্লু গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং রেডিও টুডের চেয়ারম্যান ছিলেন। বিএনপি থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালসহ চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে (দামুড়হুদা-জীবননগর) তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে জাগো দলের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন হাজি মো. মোজাম্মেল হক। একই বছরে জাগো দলের আহ্বায়ক হিসাবে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগদান করেন। দলের প্রতি নিষ্ঠার কারণে ১৯৯০ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতির পদ পান তিনি। পরবর্তীতে কয়েক মেয়াদে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন মোজাম্মেল হক। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম জানাজা, দ্বিতীয় জানাজা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও সবশেষে চুয়াডাঙ্গা জান্নাতুল মওলা কবরস্থানে জানাজা শেষে সেখানেই তার লাশ দাফন করা হবে।
মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও মহাসচিবের শোক: বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এক শোকবার্তায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, ‘মরহুম হাজী মোজাম্মেল হক নিজ এলাকায় একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ এবং সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন। মোজাম্মেল হক জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং আমৃত্যু দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনকল্যাণমূলক কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সেকারণে এলাকাবাসী তাকে পর পর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনই ছিলো তার রাজনৈতিক কর্মকা-ের মূল চালিকা শক্তি।’ শোকবার্তায় বিএনপি চেয়ারপার্সন হাজী মোজাম্মেল হকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকাহত পরিবারের সদস্যের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এদিকে, অপর এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মরহুম হাজী মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী মরহুম হাজী মোজাম্মেল হক তার রাজনৈতিক জীবনে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে যেভাবে নিবেদিত থেকেছেন তা দেশবাসী চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তিনি ছিলেন তার আদর্শের প্রতি নির্ভীক ও অবিচল।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শোক: হাজী মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আতœার মাগফেরাত কামনাসহ শোকহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির নের্তৃবৃন্দসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শোক প্রকাশ করেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাজী শরীফুজ্জামান শরীফ, জেলা বিএনপি নেতা পৌর কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল হক মালিক, সেক্রেটারি রুহুল আমিন, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান সাদিদ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের শোক: চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিক বিশিষ্ট শিল্পপতি হাজী মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে জেলা ছাত্রদল। চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ সরোয়ার রোমান, যুগ্ম আহবায়ক জাহিদ মো. রাজীব খান, যুগ্ম আহবায়ক শাহজাহান খান ও যুগ্ম আহবায়ক মোমিনুর রহমান মোমিন যৌথ বিবৃতিতে বলেন, হাজী মোজাম্মেল হক কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনেই সফল ছিলেন না ব্যবসায়ী পরিম-লেও সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাতে সক্ষম হন। একজন সৎ ও সজ্জ্বন ব্যক্তি হিসেবে তিনি সর্বমহলে সু-পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হল। এই কর্মবীর জননেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
অপরদিকে, জেলা ছাত্রদলের পাঠানো শোক বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক শরিফ-উর-জামান সিজার, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ তালহা, যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুরুল জাহিদ, জেড এম তৈাফিক খান, সোহেল আহমেদ মালিক সুজন।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার শোক: চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্যালেন মেয়র-১ একরামুল হক মুক্তা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড মুক্তিপাড়া নিবাসী বিশিষ্ট শিল্পপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সাংসদ হাজী মো. মোজাম্মেল হক গতকাল সোমবার বিকাল ৫টার দিকে ৮৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি.......রাজিউন)। তার মৃত্যুতে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুসহ পৌর পরিষদের পক্ষ হতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং মহান আল¬াহর নিকট তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।
দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, বিএনপি’র বর্ষিয়ান নেতা চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ৩ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হাজী মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও মরহুমের আতœার শান্তি কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিশেষ মোনাজাত এর আয়োজন করে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপি। দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনুর সঞ্চালনায় শোক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপ কোষাধ্যক্ষ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন, সহসভাপতি মোক্কারম হোসেন, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী দামুড়হুদা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালমা জাহান পারুল, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ, হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী শাহ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান মালিথা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম বিপ্লব, জুড়ানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান লিপু, নতিপোতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রইদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, নাটুদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবদলের নেতা, মাহাবুবুর রহমান বাচ্চু, শামসুজ্জোহা পলাশ, একরামুল মেম্বার, শামসুল আলম। উপজেলা ছাত্রদলের নেতা মাহাফুজুর রহমান মিল্টন, ফিরোজ হাসান মন্টু, আরিফুল ইসলাম, রানা, সবুজ প্রমুখ। বক্তারা হাজী মোজাম্মেল হকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে এক মিনিট নিরবতা পালন করে মরহুমের আতœার শান্তি কামনাসহ শোকহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
কমেন্ট বক্স