বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে মারাত্মক বন্যা : খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকটে মানুষ : বাংলাদেশের ২০ জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ছয় লাখ মানুষ

  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৮-২০১৭ ইং
চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে মারাত্মক বন্যা : খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকটে মানুষ : বাংলাদেশের ২০ জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ছয় লাখ মানুষ
সমীকরণ ডেস্ক: ২০ জেলায় বন্যায় প্রায় ছয়লাখ মানুষ. ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেছেন, তাঁরা বন্যার্ত মানুষের পাশে আছেন। বন্যা মোকাবিলা নিয়ে সবাই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।’ সোমবার চলমান বন্যা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজধানীর মহাখালীতে এক সংবাদ সম্মেলনে মায়া এ কথা বলেন। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় দফার বন্যায় এ পর্যন্ত ২০ জেলার পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী। এসব এলাকার তিন লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৬ জন মানুষকে ৯৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে মারাত্মক বন্যার বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা উজানের দেশের বন্যা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখছি। উজানের দেশগুলোতে বন্যা হলে ভাটির দেশ হিসেবে উজানের প্রভাব আমাদের উপর পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। মন্ত্রী জানান, সিলেট, সুনামগঞ্জ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোণা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিসহ ২০ জেলার ৩৫৬টি উপজেলার ৩৫৮টি ইউনিয়ন দ্বিতীয় দফার এই বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। গত তিন দিনে পানিতে ডুবে বা ভেসে গিয়ে ২৭ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে কেবল দিনাজপুরেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কুড়িগ্রামে ১১ জন এবং লালমনিরহাটে তিনজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এবার বর্ষা মৌসুমে মধ্য জুলাইয়ে প্রায় একডজন জেলায় বন্যার বিস্তার ঘটলে সাড়ে ছয় লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাঝে কয়েকদিন বিরতি দিয়ে আগস্টের শুরু থেকে দ্বিতীয় দফার এই বন্যা শুরু হয়, যাতে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৯০টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টের মধ্যে ৬৯টিতে সোমবার সকালেও পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, যমুনেশ্বরী, ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধলেশ্বরী, পুনর্ভবা, টাঙ্গন, আত্রাই, সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, যদুকাটা, সোমেশ্বরী ও কংস বিপদসীমার উপরে বইছে। দুর্গত জেলাগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। রেলপথে সারা দেশে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে দিনাজপুর জেলা। দিনাজপুর শহরের বেশিরভাগ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ত্রাণমন্ত্রী জানান, দুর্গত হয়েছে এবং হতে পারে এমন ৩৩টি জেলায় ১০ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন চাল ও তিন কোটি ১০ লাখ টাকা ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় রোববার মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এবং সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে তাদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার পানি আগামী ৭২ ঘণ্টা এবং সুরমা-কুশিয়ারার পানির উচ্চতা আগামী ২৪ ঘণ্টা বাড়তে পারে। একই সময়ে তিন অববাহিকায় পানি বাড়ার কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে বন্যা দেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ মধ্যাঞ্চলে বিস্তৃত হতে পারে। অগাস্টের শেষে ফের ভারি বর্ষণ হলে সেপ্টেম্বর নাগাদ অন্তত ২৫ জেলায় বন্যার বিস্তার ঘটতে পারে। গত কয়েক দশকে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, তখন ৬৮ শতাংশ এলাকা পানিতে ডুবে গিয়েছিল। ১৯৮৮ সালের বন্যায় প্লাবিত হয় ৬১ শতাংশ এলাকা। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের ৪০ শতাংশের বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। ২০১৩ সালে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতে মাত্র ১০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। ২০১৫ সালে প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ ছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পাশাপাশি এশিয়ার আরও তিন দেশ নেপাল, ভারত ও চীনে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সোমবার (১৪ আগস্ট) সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছেড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা পুরোপুরি নিরূপণ করা গেলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় নিরাপদ পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া চীনে চলমান বন্যায় নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এপি জানায়, নেপালে তিন দিন ধরে ভারি বর্ষণের পর সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ভারতের উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের। আর বাংলাদেশে বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা ২২। চীনেও গত মে মাস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি এখনও বিরাজ করছে। রবিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে সোমবার (১৪ আগস্ট) সকাল নতুন করে প্লাবিত এলাকায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতের আসামে বন্যার কারণে প্রায় ২ লাখ মানুষ জরুরি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। নেপাল সীমান্তের কাছে বিহারের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে ১৫ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানকার সাতটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। ভারতের রেলপথ বিভাগের মুখপাত্র অনীল সাক্সেনা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, উত্তর পূর্বাঞ্চল থেকে ট্রেন চলাচল বুধবার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্যার কারণে রেললাইনের বেশ কিছু অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে জানা যায়, হিমাচল প্রদেশে ভূমিধসে দুইটি বাস খাদে পড়ে গিয়ে অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এরপর থেকেই ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং অসংখ্য গাড়ি আটকা পড়ে আছে। ব্রহ্মপুত্রসহ ১০টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক, পবিত্র অভয়াশ্রম ও লখুয়া অভয়াশ্রমের বেশিরভাগ বন এলাকা পানির নিচে রয়েছে।     নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, বন্যার কারণে দেশটির ৪৮ হাজারেরও বেশি সংখ্যক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন জরুরি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীরা। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ৩৬ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তারা মৃত। এরইমধ্যে এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। নেপাল রেডক্রস সতর্ক করেছে, পানি ও খাদ্যের ঘাটতির কারণে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। বন্যায় রবিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি জনপ্রিয় রিসোর্টে প্রায় ৫০০ মানুষ আটকা পড়েন। তাদের উদ্ধারে বেশ কয়েকটি হাতিকে নামানো হয়। সৌরাহা এলাকার একটি হোটেলের মালিক ব্রিটিশ জানান, ‘হাতি ব্যবহার করে আটকে পড়া পর্যটকদের কাছের যেসব সড়ক ও বিমানবন্দর চালু আছে সেখানে পাঠানো হচ্ছে।’এই শহরটি রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। দক্ষিণ এশিয়ার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দারিদ্র-বিমোচনমূলক দাতব্য সংস্থা হেইফার ইন্টারন্যাশনালের মুখপাত্র সুমনিমা শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন, ‘এমন এক সময়ে ভারী বর্ষণ শুরু হলো যখন কৃষকরা মাত্র তাদের ধান চাষ শুরু করেছিলেন। ওই ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানিতে ফসলের বিশাল অংশ ভেসে গেছে।’ এদিকে চীনেও গত মে মাস থেকে বিভিন্ন প্রদেশে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লংনান সিটির ওয়েনজিয়ান কাউন্টিতে নতুন করে সৃষ্ট বন্যায় রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও অন্তত দুইজন। ওই এলাকার প্রায় ১০০০ বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হুনান প্রদেশে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ৪৮ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’