বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

অন্তঃসত্ত্বা কনস্টেবল নাছিমার জামিন মঞ্জুরে বিচারকের সুদৃষ্টি কামনা!

  • আপলোড তারিখঃ ০৭-০৮-২০১৭ ইং
অন্তঃসত্ত্বা কনস্টেবল নাছিমার জামিন মঞ্জুরে বিচারকের সুদৃষ্টি কামনা!
সরেজমিন পর্ব-০১ মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ প্রদানকারী চক্রের শিকার বড় বলদিয়ার আব্দুল কুদ্দুস পরিবারের চোখে অন্ধকার অন্তঃসত্ত্বা কনস্টেবল নাছিমার জামিন মঞ্জুরে বিচারকের সুদৃষ্টি কামনা! এমএ মামুন: মেয়ে পুলিশে চাকরী পেয়েছে এই খুশির আকাশ পরিস্কার হতে না হতেই চুয়াডাঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ প্রদানকারী চক্রের শিকার বড় বলদিয়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস পরিবারের চোখে এখন অন্ধকার। চাকরী নামের সোনার হরিণ ধরতে যেয়ে কুদ্দুস পরিবারে নেমে এসেছে লজ্জার  অন্ধকার। চাকরীতে মেয়ের পদোন্নতির বদলে টানতে হচ্ছে কারাগারের ঘানি। লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছে না নাছিমার মা বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। তবে, তাদের পাশে দাড়িয়েছে বড় বলদিয়ার আপামর গ্রামবাসী। একমাত্র মা মরা মেয়ে নাছিমার জীবন সুন্দর করতে দিনমজুর আব্দুল কুদ্দুস তার শেষ সম্বল ১০ কাঠা জমি বিক্রি এবং এনজিও থেকে চড়া সুদে লোন নিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা তুলে দেয় গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন জান্দারের সহযোগীতায় হাসান, কুমিল্লার এমদাদ ও আলী হোসেনসহ তিন জাল চক্রের সদস্যের হাতে। এই জাল চক্রের সদস্যরা সহজ সরল আব্দুল কুদ্দুসের নামে মুক্তিযেদ্ধার জাল সনদপত্র ধরিয়ে দিয়ে ২লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। আর গ্রামের অবলা মেয়ে নাছিমা জীবননের সকল কষ্টের রঙ মুছে দিনমজুর বাবার মুখে হাসি ফোটাতে, না বুঝে ওই জাল সনদ হাতে নিয়ে ২০১৩ সালে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে পরীক্ষা দেয়। সেই সময় মুক্তিযেদ্ধার পোষ্য কোটায় নাছিমার ভাগ্যেও জোটে পুলিশ কনস্টেবলের চাকরী। কিন্ত বিধিবাম চাকরী পাওয়ার সাড়ে চার বছরে নিজের বা বাবার উন্নয়নের রুপরেখা পরিবর্তন তো দুরের কথা, অন্তঃসত্ত্বা নাছিমা নিজেই এখন লজ্জার গল্পের নায়িকা আর ভাগ্যে জুটেছে কারাগারের চৌদ্দ শিখ। গতকাল সরেজমিনে বড় বলদিয়া গ্রামের বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসা গ্রামবাসীদের কাছে আব্দুল কুদ্দুস মুক্তিযোদ্ধা ছিল কি না তা জানতে চাইলে পারকৃষ্ণপুর মদনা উপি সদস্য কামাল হোসেন বললেন, আব্দুল কুদ্দুস কখনো মুক্তিযোদ্ধা ছিল না এবং এখনও না। তবে, আপনাদের উচিত হবে আব্দুল কুদ্দুস মুক্তিযোদ্ধা ছিল কি ছিল না, এটা না খোঁজ করে যে জাল চক্র আব্দুল কুদ্দুসের পরিবারটাকে সর্বশান্ত করেছে সেই জাল চক্রের সাথে যারা আছে তাদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা এবং তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। তিনি আরো বলেন, বড় বলদিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জান্দার তার সহযোগীতায় ছাতিয়ানতলা গ্রামের রবিউলের ছেলে হাসান ও তার জালচক্র কুমিল্লা জেলার এমদাদ ও আলী হোসেনের খোঁজ করলে এই জাল চক্রের যেমন আসল হোতার মুখ উন্মোচন হবে। অপরদিকে আব্দুল কুদ্দুসের মত সহজ সরল মানুষগুলিও সর্বশান্তের হাত থেকে ভবিষৎ-এ রেহাই পাবে। এদিকে গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম, শাহাদত আলী মালিথা, আশাদুল হক, প্রতিবেশী দেলোয়ারা খাতুন, আলেয়া বেগমসহ উপস্থিত অর্ধশত গ্রামবাসী দাবী জানায়, আব্দুল কুদ্দুস ও তার মেয়ে নাছিমা নির্দোষ। গ্রামবাসীদের আরো দাবী এই পরিবারটিকে যারা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে একটি মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে তাদের আইনের কাঠগড়াই দাড় করিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। উল্লেখ্য ২০১৩ সালে মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ দিয়ে পোষ্য কোটায় চাকরী নেওয়া অপরাধ মামলায় দামুড়হুদা উপজেলার বড় বলদিয়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে নাছিমার নামে পুলিশবাদী চাকরী হয়েছে । এছাড়া একই অপরাধে মামলার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জলিবিলা গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও আশানন্দপুর গ্রামের তোফাজ্জল ওরফে তুফানের ছেলে রবিউলের নামে মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে নাছিমা ও জাহাঙ্গীরকে পুলিশ আটকের পর জেলা কারাগারে পাঠালেও রবিউল এখনো আটক হয়নি। তবে রবিউল আটকের প্রক্রিয়া চলছে বলে এ মামলার তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টর আমির আব্বাস জানান। আজ দ্বিতীয়বারের মত নাছিমার পরিবারসহ অন্য আসামীদের জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করবে বলে নাছিমার পরিবার জানায়। অন্তঃসত্ত্বা নাছিমার জামিন মঞ্জুরে আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন বড় বলদিয়ার সাধারন গ্রামবাসী।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’