পার্ক নির্মাণের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে জনগন
- আপলোড তারিখঃ
২২-০৭-২০১৭
ইং
আলমডাঙ্গাবাসীর ধর্মীয় অনুভুতির একমাত্র জায়গা দারুস সালাম কবরস্থানের পাশ ঘেষে
পার্ক নির্মাণের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে জনগন: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গা হাইরোড থেকে কলেজ রোডে মোড় নিলেই সর্ব প্রথম চোখে পড়ে শহরবাসীর সবচেয়ে ধর্মীয় অনুভুতির জায়গা ঐতিহাসিক `দারুস সালাম` ঈদগাহ ময়দান। দারুস সালাম ঈদগাহ ময়দানের পাশ ঘেষে রয়েছে আলমডাঙ্গার সবচেয়ে বড় `দারুস সালাম কবরস্থান।` আবার দারুস সালাম কবরস্থানের লাগোয়া গোবিন্দপুরবাসীর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল আয়তনের কবরস্থান। ত্রিভূজ আকৃতির দুইটি কবরস্থানের সবচেয়ে ডানে আলমডাঙ্গার একমাত্র মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এছাড়া পবিত্র দুইটি কবরস্থানের পাশঘেষে অবস্থিত আলমডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসা। তিনদিকের পবিত্র কবরস্থানের মাঝখানের এক চিলতে জায়গাটুকুতে গড়ে তোলা হচ্ছে বিনোদন কেন্ত্র `পার্ক`। আলমডাঙ্গাবাসীর সবচেয়ে ধর্মীয় অনুভুতির জায়গাটিতে আঘাত হানার সব আয়োজন ইতোমধ্যেই শেষ করেছে হাইরোডের বাসিন্দা সফিউদ্দিন খাঁনের ছেলে শাহীন ও তার ভাইয়েরা।
তিনদিকের কবরস্থানের মাঝখানের জায়গাটুকুতে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পার্ক গড়ে তোলায় শহরের বিদগ্ধ অনেকেই হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিশালায়তনের দুই-দুইটি গোরস্থানে অনেকের মা-বাবা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে চিরদিনের মত শায়িত রয়েছেন। প্রতিদিন গোরস্থানে শায়িত এসব মুর্দ্দাদের প্রিয়জন তাদের হাঁরানো মানুষের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ফেলেন। হাঁরিয়ে যাওয়া এসব প্রিয়জনের বেহেস্ত নসিবের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন।
শহরবাসী আকুতি জানিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন, এই পবিত্র ভূমির পাশঘেষে কি করে বিনোদন কেন্দ্র হয়? তাঁরা সমাজের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বখে যাওয়া যুবক-যুবতীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তিনধারের কবরস্থানের মধ্যে যদি পার্ক গড়ে তোলা হয়,তাহলে কবরস্থানের পাশে অনাচার হবেই। পার্কের ছোট্ট পরিসরে আড়াল না পাওয়ায় বখে যাওয়া অনেক প্রেমিক-প্রেমিকাজুটি কবরস্থানের ভেতরে আশ্রয় নিবে এটা নিশ্চত। তখন কি হবে? অনাচার আর দূরাচারের লীলাভুমি হিসেবে শহরবাসীর চোখে দেখা দিবে এই পার্ক।
ধর্মীয় অনুভুতিকে থোড়াই কেয়ার করে যারা কবরস্থানের মাঝখানে পার্ক নির্মান করছেন, সেই সফিউদ্দিন খাঁনের জন্মদাতা পিতার কবরখানিও রয়েছে নির্মানাধীন পার্কের এক কোনে। পরলোকে বিশ্বাসীরা চোখের পানি ফেলে মহান শ্রষ্ঠার কাছে হাতজোড় করে আবেদন করেন, মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দেয়ার তৌফিক দান করো। নির্মানাধীন পার্কের মালিক সফিউদ্দিন খাঁনের পিতার কবরস্থান থেকে কয়েক গজ দুরেই দারুস সালাম মসজিদ ও এতিমখানা। তিনি এতটা বছর মসজিদের পাশেই চির শায়িত রয়েছেন। কিন্ত অর্থ লিপ্সার কারনে তার সন্তান ও নাতিপুতিরা তাঁর কবরের ওপরেই গড়ে তুলছেন বিনোদন কেন্দ্র পার্ক। আলমডাঙ্গার ধর্মপ্রান মুসলমান তাঁদের ধর্মীয় অনুভুতির জায়গা বিশালায়তনের কবরস্থানের পাশে পার্ক গড়ে তোলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কমেন্ট বক্স