খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
- আপলোড তারিখঃ
১১-১২-২০২১
ইং
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুলে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এত দিন ধরে থাকা নিষেধাজ্ঞা গতকাল প্রত্যাহার করে নিয়েছে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্যও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কর্মী নিয়োগের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সব সেক্টর। মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। যে কোনো সময় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নেওয়া আছে ঢাকার কর্মকর্তাদের।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভান গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগের মতো শুধু প্লানটেশন খাতে নয় এখন থেকে মালয়েশিয়ায় যে কোনো খাতেই বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করা যাবে। বিদেশি কর্মীরা প্লানটেশন, এগ্রিকালচার, ম্যানুফ্যাকচারিং, সার্ভিস, মাইনিং, কনস্ট্রাকশন ও গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোয়ারেন্টাইনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল একসঙ্গে কাজ করবে। পরে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদকে লিখিতভাবে তাদের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য ১৫ অথবা ১৬ ডিসেম্বর কুয়ালালামপুর সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মন্ত্রী।
বাধ্যতামূলক সাত দিনের কোয়ারেন্টাইন
মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা থেকে গতকাল বিদেশি কর্মী প্রবেশের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম (এসওপি) মেনে চলতে কোনো আপস না করার কথা বলা হয়েছে। গত মাসে কভিড-১৯ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত মালয়েশিয়ার বিশেষ কমিটি এই এসওপি অনুমোদন করেছে। এসওপিগুলোকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রি-ফ্লাইট, আগমন, কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড এবং কোয়ারেন্টাইন পরবর্তী সময়। প্রি-ফ্লাইট প্রয়োজনীয়তার অধীনে বিদেশি কর্মীদের অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ থাকতে হবে। ফ্লাইটের তিন ঘণ্টা আগে আরটি পিসিআর টেস্ট করাতে হবে। ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট থাকতে হবে। অভিবাসন বিভাগ ও সরকারের অনন্য বিধিনিষেধ নির্ধারিত শর্ত এবং নীতিমালা মেনে চলতে হবে। বিদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়া প্রবেশের সময় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) এবং (কেএলআই-২) মাধ্যমে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশের পর মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত বাধ্যতামূলক সাত দিন কোয়ারেন্টাইন থাকতে হবে। কোয়ারেন্টাইন শেষ হলে তাদের নিয়োগকর্তা বা মালিকের কাছে পাঠানো হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো শেষ হলে নিয়োগকর্তা বা মালিকের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
কমেন্ট বক্স