রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসিক ও সোনালী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ
এসব ব্যাংকগুলোতে লোকসান থেকে উদ্ধারের জন্য মূলধন জোগাতে ৮ বছরে ১৪৬৫৫ টাকা কোটি প্রদান
সমীকরণ ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোকে লোকসান থেকে উদ্ধারের জন্য মূলধন ঘাটতি পূরণের নামে গত আট অর্থবছরে ১৪ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত চার আর্থিক বছরেই দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। সরকারি পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে। আগামী অর্থবছরেও এ খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে ২হাজার কোটি টাকা। আগামী ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরেও রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, অর্থ যোগানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ব বেসিক ও সোনালী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ব এই দুটি ব্যাংকই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। এক অর্থবছরে সর্বাধিক ৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে এসব সরকারি ব্যাংককে। এই টাকার পুরোটাই দেওয়া হয়েছে জনগণের করের টাকা থেকে। প্রতি অর্থবছর রিক্যাপিটালাইজেশন বা পুনঃমূলধন যোগানের আওতায় এই ব্যাংকগুলোকে ঋণ হিসেবে অর্থ যোগান দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঋণের অর্থ এসব ব্যাংক থেকে ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়নি বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি বাজেট ডকুমেন্ট ও অর্থ বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোকে পুনঃমূলধন খাতে ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। তার পরের অর্থবছর ২০১০-২০১১ অর্থবছরে দেওয়া হয় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা। একইভাবে ২০১১-২০১২ অর্থবছরে দেওয়া হয় ৭০০ কোটি টাকা। ২০১২-২০১৩ অর্থবছর ৪২০ কোটি টাকা। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর ৫ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর ২ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর ২ হাজার কোটি টাকা, এবং আগামী ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক ২০০৯ সাল পর্যন্ত একটি লাভজনক ব্যাংক ছিল। কিন্তু এরপর যখন রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে নিয়োগ দেওয়া হয় তখন থেকেই ব্যাংকটির আর্থিক অনিয়মের সূত্রপাত ঘটে। চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ মদদে বেসিক ব্যাংকে একে একে ঘটে যায় অনেকগুলো আর্থিক কেলেঙ্কারি। এই কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ করা হয় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। যা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র ফুটে ওঠেছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন