মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পৃথিবীতে শিশুর জন্য মায়ের কোল কি নিরাপদ ?

  • আপলোড তারিখঃ ১০-০৬-২০১৭ ইং
পৃথিবীতে শিশুর জন্য মায়ের কোল কি নিরাপদ ?
`19141754_472790096386755_1251442149_n`পৃথিবীতে শিশুর জন্য মায়ের কোল কি নিরাপদ ? দামুড়হুদায় চাঞ্চল্যকর আলামিন হত্যা হাসিনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড কারাগারে প্রেরণ এম এ মামুন: ‘বন্যরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’ গুণীজন সঞ্জিব চট্যপাধ্যয়ের এই উক্তি আজ মিথ্যা এবং ইতিহাস। কারণ শিশুরা এখন আর মাতৃকোড়ে সুন্দর থাকাতো দুরের কথা তারা মাতৃক্রোড়ে নিরাপদও নয়। কারণ, দামুড়হুদার চিৎলার হাটপাড়ায় মায়ের হাতে চাঞ্চল্যকর আলামিন হত্যার ঘটনায় প্রমান করে সত্যিই আজ  শিশুরা মায়ের কোলে আর নিরাপদ নয়। মায়ের হাতে সন্তান খুঁনের খবর শুনলে স্বভাবতই প্রথমে নিজের কাছেই প্রশ্ন জাগবে আসলোও কি মা’ হয়ে তার সন্তানকে খুঁন করতে পারে! হ্যা পারে। বর্তমানে ঠান্ডা মাথায় মা তার শিশু সন্তানকে হত্যা করে স্বাভাবিক চিত্তে বলতেও পারে সে ভাল আছে। সন্তান খুঁনের পর স্বাভাবিক ভাবে হাঁসতে পারে এবং অন্যও গ্রহণ করে। আদালতে তেমনটিই বলেছে চিৎলার হাসিনা খাতুন। পৃথিবীতে মায়ের কোল শিশুর জন্য আর বুঝি নিরাপদ রইলো না। সরেজমিনে প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অনেকে এমনিই অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেন। তাই বলে কি হাসিনার জন্য পৃথিবীর সকল মায়েরা সন্তানের চোখে ডাইনি হবে ? সমাজের কাছে মা শব্দের কলঙ্ক হবে ? নিশ্চয় না। তাই আসুন সবাই কবি কাজী কাদের নেওয়াজের সেই বিখ্যাত কবিতার ভাষায় বলি ‘মা কথাটি  ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই , ইহার চেয়ে নামটি মধুর তৃভুবণে নাই ’ হাসিনার মত মায়েদের সংখ্যা দুনিয়া থেকে কমতে থাকুক আর যেন হাসিনার মত মা’ পৃথিবীতে  জন্ম না হয়, এমন প্রত্যাশা ভুক্তোভোগীসহ সচেতন মহলের। ডেটলাইন গত ৮জুন বৃহস্প্রতিবার দিনগত রাত ১১টায় দামুড়হদার চিৎলা হাটপাড়ায় হাসিনা তার ১২ বছরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধি আলামিনকে নিজ ঘরের মধ্যে নিজ হাতে নৃশংসভাবে খুঁন করে।  সেদিন যা ঘটেছিলঃ স্বামী আজিবর বিকালে বাড়ী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাওয়ার পর। হাসিনার মারের ভয়ে পালিয়ে থাকা আলামিনকে বিকালের দিকে বাড়ীর পাশের হাট এলাকা থেকে জোরপূর্বক ধরে আনে। এরপর তাকে বেদম মারধর করে। আলামিন চিৎকারে আশে পাশের কেউ এগিয়ে যায়নি। সবাই জানে হাসিনাতো আলামিনকে প্রাই মারধোর করে আজও করছে। আলামিন মায়ের কাছে বহু অনুনয় বিনয় কাকুতি, মিনুতি করে দু’মুঠো ভাত খেতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে ভাত দিয়েও মুখের সামনে থেকে ভাত কেড়ে নেয় হাসিনা। অবুঝ আলামিন ক্ষোভে দুঃখে মায়ের কাছে আর ভাত চায়নি। সারাদিনের অভুক্ত আলামিন রাতেও ভাত চেয়ে না পেয়ে  ঘরের বারান্দায় বসে থাকে। হাসিনা তখনও আলামিনকে খুঁন করার পরিকল্পনা সফল করতে আলামিনকে অভুক্ত অবস্তায় জোরপূর্বক ঘুম পাড়ায়। আলামিন চোখের জলে বুক ভাসিয়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দেয়। ক্লান্ত শরীরে গভীর ঘুম আসে। সেই সুযোগে হাসিনা তার অমানবিক কর্মের নিষ্ঠুরতাই মেতে ওঠে। ঘরের ভিতর থেকে বের করে আনে ধারলো ধান কাটার হাসুয়া (ধানকাটার কাচি) মা নামের কাসিনা সন্তান খুঁনের অগ্নিমূর্তি ধারণ করে। প্রথমে আলামিনের ঘাড়ের এক ধারে জোরে একটি কোপ মারে। এসময় অবুঝ আলামিন ডাইনী ও নিষ্ঠুর মায়ের সাহয্য পেতে  উচ্চস্বরে মা বলে ডেকে উওে এবং  মায়ের সাহায্যের জন্য হাত বাড়ায় এসময় হাসিনা আলামিনকে কসায়ের মত ঠেলা দিয়ে দুরে সরিয়ে দিয়ে আরো একটি কোপ ঘাড়ের অন্য দিকে মারে। এসময়  আলামিন ঘরের বারান্দায় লুটিয়ে পড়ে এবং কাটা কবুতরের মত মুত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে। পাসানি হাসিনা আলামিনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে । আলামিনকে কোপানোর সময় পাশে শুয়ে থাকা আলামিনের ছোট্র দুটি ভাই বোনের গায়ে রক্ত ছিটকে পড়ে। হাসিনা তাদের গায়ের রক্ত মুছে দেয়। এর পর ধারালো হাসুয়াটার রক্ত পরিস্কার করে । স্বাভাবিকভাবে আত্মচিৎকারের নাটক করে বলে তার আলামিনকে প্রতিবেশী জহুরুল ও ইব্রাহিম  খুঁন করেছে। তবে তার সে সাজানো ঘটনা পুলিশ ও গ্রামবাসীরা বুঝে ফেলে। শেষমেষ পরিনতি হয় ভিন্ন । যা মনষ্য বিবেককে ধ্বংশ করে। হাসিনা হয় সন্তান হত্যার আসামী। বাদী হয় তার প্রিয় স্বামী আজিবর রহমান। হাসিনা যায় কারাগারে আজিবর বাড়ী  ফেরে ছেলের লাশ ও দুটি অবুঝ শিশুকে নিয়ে। চাঞ্চল্যকর এই খুঁন মামলার একমাত্র আসামী আলামিনের ডাইনী মা’ হাসিনা । সন্তান হত্যার ঘটনা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোকিতমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার জবানবন্দীতেও প্রমান করে মা নিজ স্তানকে হত্যাও করতে পারে। তার জবানবন্দী রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকাবাসী রাক্ষুসী হাসিনার ফাঁসির দাবী করেছে। দামুড়হদা থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল খান জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে দামুড়হুদার চিৎলার হাটপাড়া গ্রামে নিজ ঘরে নিজ সন্তান খুঁন মামলার আসামী হাসিনার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে এ মামলার তদন্তকারী অফিসার উত্তম কুমার চ্যাটার্জী আসামী হাসিনাকে চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুস্তাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির করে। এসময় ম্যাজিস্ট্রেট হাসিনাকে জবানবন্দী রেকর্ডপূর্ব ৩ ঘন্টার মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দেয় যে, সে জবানবন্দী দেবেন কি না ? এর পর হাসিনা সন্ধ্যা ৬টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুস্তাফিজুর রহমানের খাসকামরায় নিজ হাতে নিজ সন্তান আলামিন(১২) খুঁন করার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিলে তা রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দী রেকর্ড শেষে হাসিনাকে চুয়াডাঙ্গা কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি আরো জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধীতেও হাসিনা তার ছেলেকে খুঁনের বিষয়টি ঠান্ডা মাথায় সাভাবিক ভাবে বলেছে এবং জবানবন্দী দেওয়ার সময়  হাসিনার ভিতরে কোনো প্রকার অনুসোচনা বা ভুল হয়েছে এমন অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেনি। এছাড়া থানাতে থাকাকালে ছেলেকে খুঁন করতে পেরে সে শান্তিতেই আছে বলে এম অভিব্যাক্তি পুলিশের কাছে প্রকাশ করেছে। এদিকে হাসিনার স্বামী আজিবর পুলিশের কাছে বার বার বলেছেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকেই ছেলে ও মায়ের মধ্যে সম্পর্কে চিড় ধরেছে এটা লক্ষ্য  করেছিল। এর জন্য ঘটনার রাতের পূর্বে বৃহস্প্রতিবার বিকালে  বাড়ী থেকে যখন ঢাকায় যায় তখনও আজিবর হাসিনাকে বুঝিয়ে বলে যায়, তোমার সাথে আলামিনের সম্পর্কটা ভাল যাচ্ছে না ও একটু মোটা বুদ্ধির ওকে মানিয়ে নিও। সকাল থেকেই তোমার বকাবকি ও মারের ভয়ে বাইরে আছে আমি চলে যাচ্ছি ওকে খুঁজে এনে ভালবেসে খেতে দিও । ওর আর কি দোষ বলো ওতো শিশু ,একটু আধটু দুষ্টুমিতো করবেই। আজিবরের এসব কথা হাসিনাকে শুনলেও হাসিনার মনে ছিল অন্য ভাবনা । সে ছেলেকে যেভাবেই হোক খুঁন করবেই । তাই  জবানবন্দী দেওয়ার পূর্বে আদালতের বারান্দায় পুলিশের কাছে  খোলামেলা ভাবেই হাসিনা বলে সে দীর্ঘদিন থেকেই আলামিনকে সহ্য করতে পারছিল না । কিন্তু ঠিক কি কারণে সে আলামিনকে সহ্য করতে পারছিল না এমন তথ্য পুলিশের কাছে বলেনি। শুধু একটা কথাই বলেছে আলামিন অবাধ্য এবং বুদ্ধি প্রতিবন্দী সে বেঁচে থাকলে  তার জীবনে অশান্তি পোহাতে হবে। তাই তাকে বাঁচিয়ে না রেখে মেরে ফেলাই ভাল। সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায় আজিবরের বাড়ীটা চিৎলা গ্রামের একেবারে মাঠের রাস্তার পাশে । তার বাড়ীটাও নির্জন এলাকায়। চারিদিকে বাগান ও ফসলের মাঠ। এক থেকে দেড়শ’ গজ দুরে এক প্রতিবেশীর বাড়ী । আর আজিবরের বাড়ীর পাশে ফাকা মাঠ রয়েছে। এছাড়া বাড়ীর পিছনে একটি আমের বাগান। যেখানে সাধারণত দিনের বেলাই ছাড়া রাতের বেলায় মানুষ যাওয়া আসা করে না। মাঠের  কিছু লোক বললো হাসিনার সাথে স্থানীয় মানুষের তেমন ভাল সম্পর্ক ভাল ছিল না । সে এক প্রকার জেদি ছোট খাটো বিষয় নিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে প্রায় ঝগড়া লাগাতো। এমন কি স্বামী আজিবরকেউ তোয়াক্কা করতো না। সে রান্নাবান্না না করে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াতো। অধিকাংশ সময় আজিবরর সাংসারিক কাজ এবং রান্নাবান্না করে সন্তানদের খাওয়াতো। আজিবর বাড়ী থাকলে আলামিনকে এক প্রকার দেখতো আজিবর বাড়ী থেকে চলে গেলে আলামিনের উপর চলতো মার আর গাল। খেতে দেওয়াটা যেন তার কাছে ছিল অসহ্য। স্বামী আজিবর রান্না করলে তা নিজের মত খেয়ে ইচ্ছা মত বাড়ীর বাইরে চলে যেত। আজিবর জানান,  স্ত্রীর অসহ্য আচরণ দীর্ঘদিন সহস্য করেছে শুধু একটাই কারণ তার তিনটি সন্তানের মধ্যে আলামিন বুদ্ধি প্রতিবন্দী আর বাকী দুটি আরো ছোট্র তাই সংসারের অশান্তি যত কম হয় তাই স্ত্রীর সাথে নিজের বিরোধ বাড়–ক তা চায়তো না। কিন্তু মা হয়ে নিজের সন্তানকে নির্মমভাকে যে খুন করতে পারে সে আর মা নয় সে রাক্ষুসি। আজিবর জানান, হাসিনার উপযুক্ত বিচার করা হোক । তার যদি বিচার না হয় তাহলে অনেক মা’ এমন নিষ্ঠুর কাজ করবে। এদিকে এলাকাবাসীদের দাবী  সন্তান হত্যাকারী  হাসিনার উপযুক্ত শাস্তি ফাঁসি দেওয়া হোক।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী