সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দীর্ঘ ৬ বছর পর চুয়াডাঙ্গায় জেলা আ.লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত, আলোচনায় কেন্দ্রীয় নেতা কাজী জাফর উল্লাহ

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-১১-২০২১ ইং
দীর্ঘ ৬ বছর পর চুয়াডাঙ্গায় জেলা আ.লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত, আলোচনায় কেন্দ্রীয় নেতা কাজী জাফর উল্লাহ

আমাদের তৃণমূলের আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হবে : কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম

  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের মধ্যে থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আর যাই হোক, অন্তত আওয়ামী লীগ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে মেনে নিতে হবে। দল যাকে মনোনয়ন দিবে, তার পক্ষেই সবাইকে সমর্থন দিতে হবে। বিদ্রোহী হয়ে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেয় না আওয়ামী লীগ।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ চৌধুরী। এসময় তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি কেন নির্বাচনে অংশ নেয় না, সেটা তাদের নিজেদের ব্যাপার। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ^াসী দল। নির্বাচনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। আমরা জানি ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার। দেশের মানুষের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয়।’ উৎসবমুখর পরিবেশে চুয়াডাঙ্গা শহরের কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা বিমানযোগে যশোর বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক নেতবৃন্দ তাঁদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। গাড়ি বহর নিয়ে ঝিনাইদহ দিয়ে চুয়াডাঙ্গার বদরগঞ্জ হয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বেলা সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছান। সার্কিট হাউজে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপিসহ সিনিয়র নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বেলা ১১টার দিকে গাড়ি বহর নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আসেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে। সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় পরিদর্শন করেন তাঁরা। এরপর চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বর্ধিত সভা। ওই বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দীন নাছিম। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, ‘ছয় বছর পর চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সভায় তৃণমূলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত আছেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ আমরা বিনির্মাণ করতে চাই। ২০২৩ সালের শেষ দিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দেশ পরিচালনা করতে চাই। বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী দিনে বাংলাদেশের উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে, সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমরা জনগণের আস্থার ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনা করতে চাই। তার জন্য আমাদের প্রয়োজন জনসর্মথন, প্রয়োজন তৃণমূলে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করা। আমাদের তৃণমূলের আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হবে। তৃণমূলের আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হলে জনগণের সমর্থন পেতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। বাংলাদেশের মানুষ চাই দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি। বাংলাদেশের মানুষের সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রাণপণ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আজ এই বর্ধিত সভায় আমরা দাঁড়িয়েছি দেশের মানুষ কী চায়, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কী চায়, তা আপনারা সকলেই জানেন। সেই চাওয়াকে পূর্ণ করতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সকলকে নিজ আদর্শের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’ বর্ধিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক। প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য কারাবন্দী ছিলেন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম। এই স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য ছিল এ দেশের মানুষের মুক্তি, অর্থনৈতিক মুক্তি, রাজনৈতিক মুক্তি, সামাজিক মুক্তি ও সাংস্কৃতিক মুক্তি। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শকে বুকে ধারণ করে মানুষ সকল সুযোগ-সুবিধা, সুন্দর জীবনযাপন, উন্নত জীবনযাপন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, হানাহানি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ কাজ করছে। তারপরও বারবার শেখ হাসিনা সরকারকে পরিবর্তন করার জন্য ষড়যন্ত্র হয়েছে। বর্তমানে সেই ষড়যন্ত্র চলমান। আজকে আওয়ামী লীগ দেশকে বদলে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি গতিশীল রাজনৈতিক দল। মানুষের চিন্তা, চেতনা, চাহিদার যে পরিবর্তন, সেটাকে আওয়ামী লীগ ধারণ করে এবং মানুষকে আওয়ামী লীগ সেই চিন্তা-চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করে। আওয়ামী লীগ সবসময় জাতিকে পথ দেখিয়েছে। আজকে দেশ বদলে গেছে, এই বদলে যাওয়ার পেছনে শক্তিটাই আওয়ামী লীগ।’ এ জেলার উন্নয়নের জন্যেও জেলার সকল পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, জঙ্গিমুক্ত, একটি আধুনিক দেশ গড়তে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ দেশনেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন বিএম মোজাম্মেল হক। অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাড. আমিরুল আলম মিলন এমপি, পারভীন জামান কল্পনা, গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা এমপি প্রমুখ। সভাটি পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সভার মধ্যভাগ থেকে পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান। বর্ধিত সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, ‘দীর্ঘ ছয় বছর পরে হলেও আজ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়ে এ জেলার প্রতিটা পৌরসভা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন কমিটির যারা দায়িত্ব পালন করছেন, যারা দলীয় নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন, সকলকে নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের এই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদেরকে চলতে হবে। দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদেরকে চলতে হবে। দলতে পরিচালিত করতে হবে। এই দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব হবে তখনই, যখন কেন্দ্রের থেকে কমিটি দেওয়া বন্ধ হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হয়ে থাকতে চাই। এই চুয়াডাঙ্গা এক সময় সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল। সন্ধ্যার পর কেউ বাইরে বের হতে পারতো না। সেই জেলাকে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সন্ত্রাসমুক্ত করেছি। এখন সেই জেলার মানুষ নিশ্চিন্তে বাইরে বের হতে পারে। নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে। এই জেলাকে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এ জেলা এমনই পরিচ্ছন্ন থাকুক তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এটাই চায়।’ `` `` বর্ধিত সভায় মঞ্চে অবস্থান করছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খুস্তার জামিল, নজরুল মল্লিকসহ জেলা আওয়ামী লীগের সকল সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সদর পৌর আওয়ামী লীগ ও চার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ। বর্ধিত সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকন, সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শিরীন নাঈম পুনম, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী, চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপুসহ জেলা আওয়ামী লীগের সকল সদস্য, ৪টি উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির সকল সদস্য, সদর পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির সকল সদস্য, জেলার সকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক, আলমডাঙ্গা, জীবননগর ও দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক, ৪টি পৌরসভার দলীয় ৪ জন মেয়র, ৪টি উপজেলার ৪ জন দলীয় চেয়ারম্যান, ৪টি উপজেলার ৮ জন দলীয় পুরুষ-মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ বর্ধিত সভা শুরুর পূর্বে আনন্দ মিছিল বের করেন। বর্ধিত সভা শুরুর আগে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজ থেকে পৌরসভা মোড় তথা পুরো চুয়াডাঙ্গা শহরে এসব আনন্দ মিছিল বের হয়। বর্ধিত সভার প্রথম অধিবেশন শেষে দুপুরে খাবারের বিরতি দেওয়া হয়। পরে বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হয় বর্ধিত সভার দ্বিতীয় অধিবেশন। এ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত নেতাদের কাছে জেলার সাংগঠনিক বিষয়বস্তু শোনেন। বিশেষ করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন। এসময় ডেলিগেট বাদে সকলকেই না থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এরপর বর্ধিত সভার দ্বিতীয় অধিবেশন চলে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী