মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

এবার চুয়াডাঙ্গা শহরেও ডাকাতি ও নারী অপহরণ গুজবে আতঙ্ক : বেলগাছী মুসলিমপাড়ায় লোক ঢোকার খবরে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থান : আজ থেকে পাহারা

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০৬-২০১৭ ইং
এবার চুয়াডাঙ্গা শহরেও ডাকাতি ও নারী অপহরণ গুজবে আতঙ্ক : বেলগাছী মুসলিমপাড়ায় লোক ঢোকার খবরে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থান : আজ থেকে পাহারা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ডাকাতি আর নারী সদস্যদের তুলে নিয়ে যাওয়ার আতঙ্কে ভূগছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার মানুষ। প্রথমদিকে জেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠ অঞ্চলের বাড়িতে হানা দেয় একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল। পরে গ্রামের মধ্যেই লুটপাট শুরু করে তারা। একপর্যায়ে গ্রাম পেরিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে পৌর এলাকার বেলগাছী মুসলিমপাড়ার শেষ মাথায় একটি বাড়িতে ঢোকার প্রস্তুতি চালানো হয়। এসময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে উঠে কালো পোষাক পড়া লোক দেখে চিৎকার দেয় বাড়ির দুই নারী সদস্য। সাথে সাথে মাঠের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায় তারা। এদিকে, চিৎকার শুনে এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হয়ে তাদের খোজার জন্য হানা দেয় মাঠের মধ্যে। স্থানীয়রা মাঠ পেরিয়ে হোমিওপ্যাথিক কলেজমাঠ পর্যন্ত পৌছালে চারজনকে পালিয়ে যেতে দেখে। তবে, কাউকে ধরতে পারেনি তারা। এ ঘটনার ফলে আজ মঙ্গলবার থেকে এলাকায় পাহারা বসানো হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর। পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলা হয়েছে। দুজন ব্যাক্তির উপস্থিতির কথা জানিয়েছে তারা। তেমন কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরদিকে, পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় লাঠি ও টর্চ হাতে স্থানীয়দের বের হতে দেখা গেছে। গতকাল রাতে বেলগাছী মুসলিমপাড়া, কলোনীপাড়া, বুজরউকগড়গড়ি এলাকার লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতিরোধের জন্য বেরিয়ে পড়েন। জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছী মুসলিমপাড়ার শেষ মাথায় রেললাইনের পশ্চিমপার্শ্বে চারিদিকে ফসলি জমি। রেললাইনের কোল ঘেঁষে রয়েছে কয়েকটি বসতবাড়ী। গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ওই এলাকার তাছের আলীর বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা চালায় দুইজন। তাছের আলীর মেয়ে ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মিতা খাতুন (১৪) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির সীমানায় টয়লেটের দিকে যায়। তার সাথে বেড়িয়ে আসেন প্রতিবেশী ওবায়দুলের স্ত্রী আফরোজা খাতুন। টয়লেটের পাশে লতাপাতার বেড়ার ওপাশে ফসলি জমি। বাইরে বেরিয়ে টয়লেটের পাশেই কালো পোষাক পড়া দুজনকে দেখে চিৎকার দেয় মিতা। এসময় আফরোজা খাতুনও মুখোশপড়া একজন এবং কালো পোষাক পড়া প্যান্ট গোটানো একজনকে দেখতে পান। তাদের চিৎকারে বাড়ির বেড়া ভেঙে মাঠের দিকে পালিয়ে ওই দুই ব্যাক্তি। এদিকে, মিতা ও আফরোজার চিৎকারে এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। তাদের খুজতে মাঠের দিকে হানা দেয় স্থানীয়রা। তাদের পিছু নিয়ে হোমিওপ্যাথিক কলেজ মাঠ পর্যন্ত গেলে চারজনকে পালিয়ে যেতে দেখে তারা। অবশ্য কাউকে ধরতে পারেনি স্থানীয়রা। ওবায়দুল ইসলামের স্ত্রী আফরোজা খাতুন জানান, মিতার সাথে তিনিও বাইরে বের হন। কালো পোষাক পড়া দুজনকে দেখে মিতা চিৎকার দেয়। এসময় তিনিও দুজনকে দেখতে পান। ভয়ে-আতঙ্কে মিতা সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি জানান, প্রথমে কলোনিপাড়া থেকে মোবাইল করলে সেখানে যায়। পাহারা দেয়ার জন্য মসজিদের মাইকে প্রচার করার কথা জানায়। ঠিক ওইসময় মুসলিমপাড়ার শেষ মাথায় তাছের আলীর বাড়িতে হানা কারা হানা দিয়েছে বলে খবর পায়। তিনি আরও বলে, বিষয়টি লঘু দেখার মতো না। আজ অল্পের জন্য রক্ষা হলেও এ ধরণের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) থেকে এলাকায় পাহারা বসানো হবে। পুলিশ জানিয়েছে, বেলগাছী মুসলিমপাড়া এলাকায় এ ধরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলা হয়েছে। দুজন ব্যাক্তির উপস্থিতির কথা জানিয়েছে তারা। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া করলে পালানোর সময় তাদের চারজনকে দেখতে পায় তারা। তবে কারও কোন ক্ষতি না হলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, গতকাল সোমবার দুই ব্যাক্তি বেলগাছী এলাকার বেশকয়েকটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে বেলগাছী ঈদগাহপাড়ার সানাউল্লাহ'র বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যের তথ্য সংগ্রহ করে। মধ্যবয়সী জমজ দুই ব্যাক্তি কালো রঙের জামা ও লুঙ্গী পড়ে তাদের বাড়িতে ঢোকে। এসময় সানাউল্লাহ'র স্ত্রীর কাছে তাদের বাড়িতে ছেলে-মেয়ের সংখ্যা জিজ্ঞেস করলে তিনি সব তথ্য দিয়ে দেন। এসময় স্থানীয় আরও কয়েকজন মহিলার সাথে কথা বলে ওই দুই ব্যাক্তি। এসময় স্থানীয় এক মহিলার সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয়। পরিচয় না দিলে তাদের পুলিশে দেয়ার কথাও বলেন ওই মহিলা। পুলিশে দিয়ে কোন লাভ হবে না জানিয়ে সেখান থেকে চলে যায় ওই দুই ব্যাক্তি। এ ঘটনা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। তারাই কি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছেলে-মেয়েদের তথ্য নিয়ে হানা দিচ্ছে? বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রশাসনের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী